
চট্টগ্রাম নগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়নে সামাজিক নিরাপত্তা, নৈতিক শিক্ষা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ অন্যান্য আলোচকরা।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলার আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ মতবিনিময় সভায় বক্তব্য প্রদানকালে তারা এ গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন- পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এমপি। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
আলোচকরা বলেছেন, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার আলোকে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিভিন্ন কারণ তুলে ধরে বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধের পেছনে নৈতিক অবক্ষয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দীর্ঘ সময় ধরে তরুণ ও কিশোরদের যথাযথভাবে নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া হয়নি। এ সমস্যার সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়। ধীরে ধীরে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের মাধ্যমে এর প্রতিকার করতে হবে।
শিক্ষাক্ষেত্রে নৈতিকতা, পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্বাস্থ্যকর নগর গড়ে তুলতে হলে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই এসব বিষয়ে শিক্ষা দিতে হবে।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম এখন একটি কসমোপলিটন নগরী। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ জীবিকার সন্ধানে এখানে আসছেন। তাই নগর ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
তিনি বলেন, একটি পরিকল্পিত নগর গড়ে তুলতে হলে শুধু সিটি করপোরেশনের পক্ষে সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। নগরের বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পর সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে সেই স্থানগুলো স্থায়ীভাবে ব্যবস্থাপনার আওতায় রাখতে হবে। অন্যথায় কিছুদিন পর আবারও দখল ও বিশৃঙ্খলা ফিরে আসবে।
মেয়র বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সিটি করপোরেশন, রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ নাগরিক—সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগেই একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল চট্টগ্রাম গড়ে তোলা সম্ভব।




