ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

পদচ্যুতির পরও বিএডিসি প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব হস্তান্তরে গড়িমসির অভিযোগ

বুলেটিন ডেস্ক

  ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:২৮ পিএম
আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:০৮ পিএম

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ‘চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও দায়িত্ব পালনে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তাঁকে প্রকল্প পরিচালকের পদ থেকে অপসারণ করা হলেও অভিযোগ রয়েছে, এখনো তিনি যথাযথভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মনিরুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক আদেশে, স্মারক নম্বর—১২.০০.০০০০.০৮৩.০১১.০০১৯.২৬.২৪৬, নুরুল ইসলামকে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তবে পদচ্যুত হওয়ার পরও তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আহ্বান করা দরপত্রের নোটিশ আইডি দেখিয়ে বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া এবং তাঁদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে নিজের বদলি ঠেকাতেও তিনি বিভিন্ন মহলে তদবির করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিএডিসির সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, প্রকল্প পরিচালকের পদ থেকে অপসারণের পর সংস্থার চেয়ারম্যান ও প্রধান প্রকৌশলী দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দিলেও নুরুল ইসলাম তা যথাযথভাবে মানছেন না। বরং নিজের নিয়ন্ত্রণে প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ বণ্টনের চেষ্টা করছেন।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত ৬ সেপ্টেম্বর আহ্বান করা দরপত্রে প্রায় ২৫০টি নির্মাণকাজ রয়েছে। এসব কাজের মধ্যে বেশ কিছু কাজের দরপত্রে তিনি তাঁর পছন্দের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আগাম অনলাইন দরপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন—এমন অভিযোগও উঠেছে।

এ ছাড়া দরপত্রের নোটিশে যেসব খাল পুনঃখননের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলো এরই মধ্যে পুনঃখনন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার কিছু দরপত্র আইডির বিপরীতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ নেই বলেও সংশ্লিষ্টদের দাবি। পাশাপাশি ৫০ গ্রুপ মালামাল সরবরাহের কাজেও অনিয়মের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়ের পিএসসি সভায় প্রকল্পটির সব দরপত্র গ্রহণের সময় আরও ১৫ দিন বাড়ানোর বিষয়ে মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত দরপত্র গ্রহণের সময় বাড়ানোর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি বা সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি বলে জানা গেছে। এ অবস্থায় দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

বিএডিসির নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, নুরুল ইসলাম ২০২১ সালে মুজিবনগর সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র চার মাসের মাথায়, ওই বছরের ২০ জুন, দায়িত্ব থেকে অপসারিত হন। তখন তাঁর বিরুদ্ধে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য উৎকোচ গ্রহণ এবং প্রকল্পের গাড়ি সরবরাহের কাজে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিজেই জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে তাঁকে হবিগঞ্জ অঞ্চলে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

পরবর্তী সময়ে হবিগঞ্জেও তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। হবিগঞ্জ অফিস ভবন নির্মাণের কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিম্নমানের কাজ করার অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে বিএডিসির অভ্যন্তরীণ তদন্ত হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে ভবন নির্মাণের প্রায় ৩৬টি খাতে অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবনের বিভিন্ন স্থানে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরপরই হাত লাগালে প্লাস্টার খসে পড়ছিল। বাইরের অংশে ব্যবহৃত সিরামিকও খসে পড়ার অভিযোগ ছিল। এ ছাড়া নিম্নমানের বৈদ্যুতিক পণ্য ব্যবহারের পাশাপাশি কিছু কাজ সম্পন্ন না করেই নথিপত্রে সম্পন্ন দেখানোর বিষয়ও প্রতিবেদনে উঠে আসে।

তবে ওই তদন্ত প্রতিবেদন পেশ হওয়ার পরও তাঁর বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে হবিগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

পরবর্তী সময়ে নুরুল ইসলামকে চট্টগ্রাম সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং ‘চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন’ প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, আগের বিভিন্ন অভিযোগের পরও তাঁর বিরুদ্ধে বদলি ছাড়া কার্যকর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, প্রভাবশালী মহলের পৃষ্ঠপোষকতার কারণেই তিনি বারবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রকল্পের কাজের ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এবং দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাঁদের দাবি, প্রকল্পের দরপত্র আহ্বানকারী কর্মকর্তা একই সঙ্গে মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি হলে স্বার্থের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়। নুরুল ইসলাম নিজেই দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি সরকারি ক্রয়বিধি ও দরপত্র ব্যবস্থাপনার নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।

নথিপত্র অনুযায়ী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সম্প্রতি একসঙ্গে প্রায় ২৫০টি উন্নয়নকাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

বিএডিসির কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, সাধারণত প্রকল্পের উন্নয়নকাজ পর্যায়ক্রমে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক কাজ শুরু হলে জনবল সংকট ও তদারকির সীমাবদ্ধতার কারণে কাজের মান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, চট্টগ্রামে একসঙ্গে প্রায় ৩০০টি কাজের দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নুরুল ইসলাম বড় পরিসরে কাজের দরপত্র আহ্বান করেছেন, যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দরপত্র প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে পদচ্যুতির পর তিনি প্রকল্পের কোনো কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করছেন কি না, আগাম দরপত্র দাখিল বা ঠিকাদারদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা আছে কি না এবং প্রকল্পের কাজ ও অর্থ বরাদ্দের সঙ্গে দরপত্রগুলোর সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—এসব বিষয় দ্রুত তদন্তের দাবি উঠেছে।

এদিকে নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মস্থলে বর্তমানে তিনটি দুর্নীতি মামলা চলমান রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। তবে এসব মামলার বর্তমান অবস্থা, অভিযোগের প্রকৃতি ও আদালতের আদেশ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

পদচ্যুতির পরও দায়িত্ব হস্তান্তরে গড়িমসি এবং প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়ায় তাঁর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের বিষয়ে নুরুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

গ্যাস-জ্বালানি সংকটের জন্য গত সরকারকে দায়ী করে স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ
গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের জন্য বিগত সরকারের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নীতিকে দায়ী করে পিরোজপুরে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। একই সঙ্গে সংকটকে পুঁজি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের অপচেষ্টা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেল তিনটায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পিরোজপুর বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। পরে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন নেতাকর্মীরা। পিরোজপুর সদর উপজেলা ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাতুব্বর। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মনি, সদস্যসচিব তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাদিম শেখ, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাদিম মল্লিক, সদস্যসচিব আহসান দরানি, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল ইসলাম তুহিন, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ রায়হান ও প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক সবুজ খানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিতে নেতারা বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এবং বিগত সরকারের ভুল অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নীতির কারণে দেশে গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন। এ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বক্তারা আরও বলেন, কৃষি উৎপাদন ও অর্থনীতি সচল রাখতে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা জরুরি। মজুতদারি ও অতিরিক্ত মুনাফা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ সফল করতে জনগণকে সচেতন ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।
গ্যাস-জ্বালানি সংকটের জন্য গত সরকারকে দায়ী করে স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ
ময়মনসিংহে ১১ উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন এমপি ওয়াহাব
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার গ্রামীন সড়ক ও প্রতিষ্ঠানের ১১টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। এ সময় উন্নয়নভোগী এলাকাবাসী সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সদর উপজেলার চরসিরতা ও পরানগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে এসব প্রকল্প উদ্বোধন করেন তিনি। প্রকল্পগুলো হলো- কোনাপাড়া রফিকুলের বাড়ী হতে ঈওগাহ মাঠ পর্যন্ত সড়ক সংস্কার, চরখরিচা ইদগাহ মাঠ হাত পীরবাড়ী সড়ক ও কালভার্ট সংস্কার, খাজা মাঈন উদ্দিনের বাড়ী হইতে আজিজুল হক সাহেবের বাড়ী মেইন রাস্তা সংস্কার, সিরতা বাজারের দক্ষিন পাড়া রাস্তা সংস্কার, চরভাবানীপুর পশ্চিমপাড়া মসজিদ হতে মাহবুব আলমের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, সিরতা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্রীদের নামাজ খানা নির্মাণ, খালেরপার হতে কইট্রার মোড়ের রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ, চরখরিচা আইন উদ্দীনের বাড়ীর পাকা রাস্তা হাফ সলিং, জামিয়া শাহমুদিয়া চরখরিচা মাদরাসার আসবাবপত্র সংস্কার, চরখরিচা মেইন রোড থেকে মামুনের বাড়ী রাস্তা সংস্কার এবং চরসিরতা হাজী সুলতান মহিলা মাদরাসা পাকা রাস্তা হইতে দক্ষিণ পাড়া জামে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা সলিং। এদিকে, উদ্বোধন কর্মসূচি শেষে বিকালে চরসিরতা বাজারে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। এ সময় তিনি বলেন, একটি চক্র দেশে ও বিদেশে বসে যোগসাজসে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাই আসন্ন দুর্গাপূজায় সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, কেউ যেন কোনভাবে পূজামন্ডপে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। কারণ যে কোন ধর্মীয় আচার, অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। এজন্য প্রতিটি এলাকার র্পূজামন্ডপে বিএনপির নেতাকর্মীদের নজরদারি রাখতে হবে।’  এসব কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালি বিএনপির আহবায়ক হেলাল আহম্মেদ, সদস্য সচিব আতাহারুল ইসলাম বুলবুল, জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক সাব্বির আহম্মেদ শামীমসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ময়মনসিংহে ১১ উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন এমপি ওয়াহাব
সিলেটে পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ
ঢাকের বাদ্য, কাঁসর ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে সিলেটের পূজামণ্ডপগুলো। ফুল, ধূপ ও আগরবাতির সুগন্ধে সৃষ্টি হয়েছে এক আনন্দঘন পরিবেশ। দেবী দুর্গার আগমনকে ঘিরে সিলেটজুড়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। মণ্ডপগুলো সাজানো হয়েছে নানা রঙের আলোকসজ্জা ও দৃষ্টিনন্দন সাজে। পূজার আনন্দ ভাগ করে নিতে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা মণ্ডপে ভিড় করছেন। তাঁরা দেবীর কাছে প্রার্থনা করছেন এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করছেন। সিলেট নগরের বিভিন্ন মন্দির ও সার্বজনীন পূজামণ্ডপে চলছে ধর্মীয় সংগীত, পূজা-অর্চনা ও নানা আয়োজন। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও উৎসবকে ঘিরে বিরাজ করছে আনন্দ-উদ্দীপনা। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। দুর্গাপূজায় নিরাপত্তার চাদরে সিলেট :  এদকি, সিলেট জেলা পুলিশের আওতাধীন ১১ টি উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে  নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।  প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সিলেট জেলা পুলিশের আওতাধীন ১১ টি উপজেলায় ৪৭১ টি পূজা মন্ডপ রয়েছে।  এ সকল পূজা মন্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে  মন্ডপের গুরুত্ব অনুযায়ী পুলিশ ফোর্স মোতায়ন করা হয়েছে।  মন্ডপ ও তার আশেপাশে এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত  করতে থানা এলেকায় নিয়মিত মোবাইল টিমের পাশাপাশি মন্ডপভিত্তিক ৯০ টি মোবাইল টিম গঠন করা হয়েছে, যারা নিয়মিত মন্ডপ পরিদর্শন করছে। থানা এলাকায় অনাকাঙ্খিত ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালিত হচ্ছে।  যে সকল মণ্ডপে জনসমাগম অধিক সেই সকল মন্ডপসমূহ চিহ্নিত করে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে যেন মানুষ ও যান চলাচল নির্বিঘ্ন থাকে।  সাধারণ পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়ন রয়েছে যারা যেকোনো নাশকতা বা অপতৎপরতা রোধে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যেকোনো দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত সাড়া দান করতে প্রতিটি থানায় গঠন করা হয়েছে কুইক রেসপন্স টিম। তাছাড়া পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য পুলিশ লাইন্সসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্যান্ডবাই টিম হিসেবে রাখা হয়েছে যেন যেকোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। সিলেট জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো: যাবের সাদেক শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে সকল পুলিশ সদস্যকে পশোদারত্বিরে সাথে দায়ত্বি পালন করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি আইন-শৃঙ্খলা সমুন্নত রেখে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ সুষ্ঠু ভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।  
সিলেটে পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ
কচা নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় কচা নদীর চরখালী মোহনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন রোধ এবং নদীতীরবর্তী বসতভিটা ও জনপদ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ কর্মসূচি একপর্যায়ে অবরোধে রূপ নিলে প্রায় দেড় ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। পরে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলার চরখালী ফেরিঘাট এলাকায় নদীতীরবর্তী ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মো. আল-আমিন হোসেন, মো. মনির হোসেন ও মো. ওহাব মাঝিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বক্তারা বলেন, চরখালী মোহনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীতীরবর্তী এলাকার ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও জনপদ ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীভাঙন আরও তীব্র হতে পারে। এতে বহু পরিবার নিজেদের বসতভিটা ও সহায়-সম্বল হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। তাঁরা অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নদীতীরবর্তী জনপদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন। মানববন্ধন চলাকালে একপর্যায়ে কর্মসূচি অবরোধে রূপ নেয়। এতে সড়ক ও নৌপথে চলাচল ব্যাহত হয় এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। পরে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কচা নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
গাজীপুরে ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সেলিম ভূঁইয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছা
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ক্রীড়া শাখার আওতাধীন গাজীপুর সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাত (৭) সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মো. সেলিম ভূঁইয়া।  তাঁর এ সদস্য পদ পাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করে ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সদর উপজেলার নয়াপাড়া  ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের মাঠে তাঁকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন, তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়াচর্চার প্রসারে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে সেলিম ভূঁইয়ার সাফল্য কামনা করে দোয়ার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি গাজীপুর সদর উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনকে আরও এগিয়ে নিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান খান এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন   বৃহত্তর মির্জাপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সদর উদ্দিন শেখ খোকন, ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের সহ-সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবলুু আহমেদ, সদস্য আলমগীর হোসেন খান, কাজল আহমেদ রিয়াজ, নুরুদ্দিন খন্দকার, আহসানুল্লাহ সরকার ফাহিম প্রমুখ। এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান, গাজীপুর সদর উপজেলা জেটেব এর সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হোসেন সরকার, গাজীপুর জেলার সাবেক ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজল আহমেদ রিয়াজ, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান উৎসব, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ দপ্তর সম্পাদক রাজীব মোল্লা সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।  
গাজীপুরে ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সেলিম ভূঁইয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছা
X