
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার একটি এতিমখানায় নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিককে ডেকে নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তা মামলা মামলা হিসেবে রেকর্ড না করার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত এ মানববন্ধনে এ অভিযোগ তোলা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সোনাইমুড়ী ফয়েজিয়া এতিমখানা মাদ্রাসায় এতিমদের সরকারি জন্য বরাদ্দ নিয়ে ৫ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর কথা পত্রিকায় " সোনাইমুড়ীতে এতিমখানায় জালিয়াতির মহোৎসব" শিরোনামে একটি প্রতিবেদন এবং ৭ সেপ্টেম্বর দৈনিক সকালের সময় পত্রিকায় "সোনাইমুড়ীর ফয়েজিয়ায় ভুয়া এতিম ও জাল বিল-ভাউচারে সরকারি বরাদ্দ হরিলুট!" শিরোনামে একটি প্রতিবেদন করেন সাংবাদিক মোহাম্মদ হানিফ।
এ ঘটনার পর গত ১৮ সেপ্টেম্বর এতিমখানায় মোহতামিম শফিকুর রহমান বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য সাংবাদিক মোহাম্মদ হানিফকে তার (হানিফের) অফিসের পাশে ছাতারপাইয়া চৌরাস্তায় চড়ুইভাতি রেস্তোরায় ডেকে নেন। এ সময় হানিফের সঙ্গেদৈনিক ভোরের চেতনা পত্রিকার প্রতিনিধি মনিরুজ্জামানাও ছিলেন।
সেখানে যাওয়ার পর কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শফিকুর রহমান, নূর আলম, বাদশা সহ ১৫/২০ জন মিলে সাংবাদিক হানিফ ও মনিরুজ্জামানকে এলাপাড়াড়ি কিল, গুষি, লাথি মেরে আহত করেন। পরে আহত দুই সাংবাদিক ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে রাতেই এ ঘটনায় সোনাইমুড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
মানববন্ধনে বক্তাগণ পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচার এবং এতিমদের জন্য সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের সংবাদটি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন বিষাদ, নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন বাবু, নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকবর হোসেন সোহাগ, এ আর আজাদ সোহেল, দৈনিক মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার নাসির উদ্দিন বাদল, এটিএন নিউজের জেলা প্রতিনিধি ফয়জুল ইসলাম জাহান, আরটিভি ও দৈনিক আগামীর সময়ের নোয়াখালী প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন রনি, এশিয়ান টিভির জেলা প্রতিনিধি মুজাহিদ ইসলাম সোহেল, সোনাইমুড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি বেলাল হোসেন ভূঞা, সোনাইমুড়ী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন রাজ প্রমূখ।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে বলেন, সোনাইমুড়ী ফয়েজিয়া এতিমখানা মাদ্রাসায় মোহতামিম শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের এতিমখানা নিয়ে সাংবাদিক মোহাম্মদ হানিফের করা দুটি প্রতিবেদন এবং মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। এতিমদের জন্য সরকারি কোন বরাদ্দ আত্মসাৎ করা হয়নি।
এরপর তিনি প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি মোতাহের হোসেন মানিকের কাছে ফোন দিলে তিনি বলেন, আমাদের এতিমখানাটি জেলার সবচেয়ে বড় এতিমখানা। এখানে নিবন্ধিত এতিমই আছে ১৫০ জন। অথচ আমরা সরকারিভাবে সামন্য যে বরাদ্দ পাই তা যথাযথ নিয়ম মেনেই ব্যাংক একাউন্ড থেকে উত্তোলন করে খরচ করা হয়। এখানে কোন টাকা আত্মসাতের নূন্যতম সুযোগ নেই।
তিনি আরো বলেন, চড়ুইভাতি রেস্তোরায় সাংবাদিক মো. হানিফের সঙ্গে কথা বলতে যান মোহতামিম শফিকুর রহমান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়েছে। মোহতামিম শফিকুর রহমান নন, অন্যদের হামলায় সাংবাদিক হানিফ আহত হয়েছেন এটা সত্য। তবে, এরপর হানিফও তার লোকজন নিয়ে শফিকুর রহমানের ধানসিড়ি রেস্তোরায় হামলা চালিয়েছেন। দুটি ঘটনায় দুই পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে সোনাইমুড়ি থানার ওসি মো. কবির হোসেন বলেন, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে সাংবাদিক মোহাম্মদ হানিফ তার ওপর হামলার অভিযোগে থানায় একটি লিখিতি অভিযোগ দিয়েছেন। তার অভিযোগটি তদন্ত করার জন্য এসআই কামাল উদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য গতরাতে সাংবাদিক মোহাম্মদ হানিফকে থানায় আসতে বলা হলেও তিনি আসেনি। তিনি থানায় এসে এফআইআর এ স্বাক্ষর করলে মামলা রেকর্ড করা হবে।
অন্যদিকে শফিকুর রহমান একইদিন রাতে তার হোটেলে হামলা ভাংচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে সাংবাদিক মোহাম্মদ হানিফের বিরুদ্ধে থানায় আলাদা একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার অভিযোগটিও তদন্ত করার জন্য একজন এসআকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।




