দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

দর্শনা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী সিনিয়র শিক্ষক হাফিজুর রহমান দুই দশক ধরে একই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবনের প্রথম পাঠের সাথে জড়িয়ে থাকা সেই শিক্ষককে বিদায়ের দিনে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় ভিন্নধর্মী সংবর্ধনা দিয়েছেন স্কুলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সুসজ্জিত চুয়াডাঙ্গা জেলা মাধ্যমিক অফিসারের গাড়িতে করে আর স্কুলের সকল শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা শোভাযাত্রায় প্রিয় শিক্ষককে বাড়ি পৌঁছে দেয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টার সময় দর্শনা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আয়োজনে এ বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানিত হয়।
বিদায়ী শিক্ষক হাফিজুর রহমান ২০০৭ সালে জুন মাসে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দর্শনা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেষায় যোগ দেন। দীর্ঘ ১৯ বছর একই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শেষে কর্মজীবনের ইতি টানেন তিনি।
দর্শনা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আয়োজনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা ও সহকর্মীরা অংশ নেন। প্রিয় শিক্ষককে ফুল ও বিভিন্ন উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জানান হয়। দীর্ঘদিনের শিক্ষককে বিদায় দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন হাফিজুর রহমানসহ উপস্থিত শিক্ষক ও ছাত্রীরা ।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে শুরু হয় ব্যতিক্রমী বিদায়যাত্রা। চুয়াডাঙ্গা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের গাড়িতে নেওয়া হয় । সামনে শিক্ষকদের মোটরসাইকেল ও গাড়ির পেছনে চুয়াডাঙ্গা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: আনিসুর রহমান, বিদ্যালয় পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম হুমায়ুন কবিরসহ স্কুলের ৫শ শিক্ষার্থীর শোভাযাত্রা করে প্রিয় স্যারের বাড়িতে পৌছায়ে দিয়ে আসেন।
পথজুড়ে ছিল শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উপস্থিতি। স্কুলের শিক্ষার্থীদের এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনে আবেগঘন হয়ে ওঠে পুরো বিদায়যাত্রা। শিক্ষার্থীদের কাছে এটি ছিল শুধু একজন শিক্ষকের অবসর উপলক্ষে বিদায় নয়, বরং দীর্ঘদিনের প্রিয় একজন মানুষকে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় বিদায় জানানোর আয়োজন।
বিদায়ী অনুষ্ঠানে দর্শনা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: আনিসুর রহমান, সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হাসমত আলীসহ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক কর্মচারীবৃন্দসহ ৫ শ শতাধিক শিক্ষার্থী।
চুয়াডাঙ্গা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো আনিসুর রহমান বলেন, একজন শিক্ষককে সম্মান জানানো স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এমন আয়োজন প্রশংসনীয়। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে অনুপ্রাণিত করবে।
দীর্ঘ ১৯ বছরের কর্মজীবনের শেষে শিক্ষক হাফিজুর রহমান বিদায় নিলেও তার সাথে শিক্ষার্থীদের সম্পর্কের যেন শেষ হলো না। গাড়িতে ও পায়ে হেটে এক কিলোমিটারের সেই বিদায়যাত্রা হয়ে থাকলো শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ভালোবাসা শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার এক অনন্য স্মৃতি।




