
হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা সহজ, স্বচ্ছ এবং সম্পূর্ণ হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে অটোমেশন সফটওয়্যার চালু করেছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ নতুন অটোমেশন সফটওয়্যারটির আনুষ্ঠানিক সফট লঞ্চ করা হয়।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকার ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সফটওয়্যারটির উদ্বোধন করেন। সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তানজিলা খানমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নগর ভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কারিগরি দল ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন এই অটোমেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নাগরিকরা এখন থেকে ঘরে বসেই হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন, প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান, ফি পরিশোধ এবং সংশ্লিষ্ট সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এ লক্ষ্যে তিনটি অটোমেশন প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন সেবাকে ডিজিটাল আওতায় আনা হচ্ছে। কার্যক্রমটিকে আরও সমন্বিত করতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রোগ্রামের পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘একপে’কে সিটি কর্পোরেশনের সফটওয়্যারের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এর ফলে নগরবাসী মোবাইল ব্যাংকিং, ডিজিটাল ওয়ালেট, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড কিংবা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকে সহজেই ফি ও বিল পরিশোধ করে ডিজিটাল রসিদ পেয়ে যাবেন। ইতোমধ্যে পানির বিল 'একপে' প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংগ্রহের পাইলটিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকার বলেন, নাগরিকরা যাতে সেবা পাওয়ার জন্য অফিসে না এসে ঘরে বসেই সহজে ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্সের সুযোগ পান, সে লক্ষ্যেই ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন। এটি সেবা প্রদানে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে সিটি কর্পোরেশনের অন্যান্য নাগরিক সেবাকেও অনলাইনের আওতায় আনা হবে, যা নাগরিকদের সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি ভোগান্তি কমাবে।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তানজিলা খানম বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সঠিকভাবে হোল্ডিং ম্যাপিং ও প্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নেই। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কারিগরি বা লজিস্টিক যেসব সমস্যা রয়েছে তা দ্রুত সমাধান করা হবে এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনের জন্য বিশেষ মোবাইল অ্যাপ চালুর বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সফটওয়্যারটির কারিগরি নানা দিক তুলে ধরেন এটি উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠান স্পেকট্রাম আইটি সলিউশন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ সময় এটুআই প্রকল্পের চিফ অ্যাডভাইজার মাসুদুর রহমান, জিসিসির আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার এবং কর নির্ধারণ কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম পাঠান অটোমেশন কার্যক্রমের সার্বিক দিক নিয়ে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল বারেক সহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ, অনলাইন পেমেন্ট ও অটো নোটিফিকেশন সুবিধা সংবলিত এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার ফলে সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। একই সাথে নাগরিকদের সেবা পাওয়ার সময় অনেকটাই কমে আসবে এবং সরাসরি অফিসে এসে সেবা নেওয়ার বাধ্যবাধকতা অনেকাংশে দূর হবে।




