
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সিদীপ, গার্ক ও পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচি নামের তিন এনজিও অফিসে ডাকাতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন সরাইল সদরের কুট্টাপাড়া এলাকায় সামছুদ্দিন নান্নু মিয়ার বহুতল বিশিষ্ট ভবনের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় এই ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
মুখোশ পড়া সংঘবদ্ধ ডাকাতদল দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে ওই অফিস থেকে নগদ ৫ লক্ষাধিক টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ করেছেন কর্মকর্তারা।
এ সময় বাঁধা দেয়ায় রাব্বি মিয়া নামের এক হিসাব রক্ষককে মারধর ও কুপিয়ে আহত করেছে ডাকাতরা। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সরাইল থানার পুলিশ। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোন মামলা হয়নি, গ্রেফতারও নেই।
জানা যায়, রাত প্রায় ৩টার দিকে মূল ভবনের প্রধান ফটক ও অফিস কক্ষের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করেছে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল। তারা ভবনের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় কর্মকর্তা কর্মচারীদের আবাসিক কক্ষের দরজার বাইরের চিটকারি গুলি লাগিয়ে দেয়। পরে অফিস কক্ষের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে কর্মকর্তাদের দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে। পরে ড্রয়ার ভেঙ্গে নগদ টাকা লুটে নেয় মুখোশধারী ডাকাতরা।
এ সময় তৃতীয় তলায় সিদীপ-এর হিসাব কর্মকর্তা রাব্বি মিয়া টাকা রক্ষার জন্য ডাকাতদের সাথে ধস্তাধস্তি করেন। এতে ডাকাতরা তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাব্বি মিয়াকে প্রথমে সরাইল ও পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়া। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
গার্কের ফিল্ড অফিসার স্বপন রাজবংশী, সারোয়ার ও এরিয়া ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা বলেন, তালা কাটার শব্দে ঘুম থেকে উঠেছি। ডাকাতরা প্রথমেই বাইরের দিকে আমাদের দরজার চিটকারি লাগিয়ে দিয়েছে। চিৎকার করছি কেউ খুলেনি। ভোর বেলা কাজের বুয়া এসে খুলে দিয়েছেন। ডাকাতরা সিসি টিভির রেকর্ড বক্সটি নিয়ে গেছে। তবে আমাদের দক্ষিণ পাশের ভবনে সিসি টিভি আছে।
ভবনের মালিক সামছুদ্দিন নান্টু সিকিউরিটি গার্ড না থাকা প্রসঙ্গে বলেন, গার্ড নেই। আমিই তো আছি। সংলগ্ন দক্ষিণ পাশের ভবনের সিসি টিভিতে দেখা গেছে ডাকাতির সময়ে ওই ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে এই ভবনের দিকে চেয়ে আছেন সেখানকার দারোয়ান। সকালে আবার তিনি চলে গেছেন।
সিদীপের শাখা ব্যবস্থাপক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, রোগী নিয়ে ঢাকায় আছি। এখনও হিসাব করিনি। ডাকাতরা প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকা নিয়েছে। আমরা অবশ্যই মামলা করব।
সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, এ ঘটনায় আমাদের তদন্ত চলছে। তারা কেউ এখনো কোন লিখিত অভিযোগ দেয়নি। জড়িতদের সনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।




