
পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পুলিশ কর্মকর্তা এমএম মাহমুদ হাসান। কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ে তাঁর দায়িত্বশীলতা, সততা ও মানবিক উদ্যোগের কারণে সহকর্মী এবং সাধারণ মানুষের কাছে তিনি প্রশংসিত হয়েছেন।
২৮তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে পুলিশ ক্যাডারে যোগ দেন শিক্ষক বাবার মেধাবী সন্তান এমএম মাহমুদ হাসান। কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সময় অপরাধ দমনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মানবিক আচরণের কারণে তিনি আলাদা পরিচিতি তৈরি করেন।
ঝালকাঠিতে দায়িত্ব পালনকালে মাদক, চুরি-ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তিনি কঠোর অবস্থান নেন। একই সঙ্গে অসহায় মানুষ, পারিবারিক বিরোধে জড়িত ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সমস্যায় পড়া নাগরিকদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন। তাঁর দায়িত্ব পালনের সময়কার নানা উদ্যোগ এখনো স্থানীয়দের স্মৃতিতে রয়েছে।
করোনাভাইরাস মহামারির সময় তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমএম মাহমুদ হাসান অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ান। ওই সময়ে কর্মহীন হয়ে পড়া দিনমজুর, ভ্যানচালক ও নিম্নআয়ের পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। তাঁর নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা অনেক পরিবারের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেন।
বিশেষ করে যেসব পরিবার অভাবের কথা কাউকে বলতে পারছিল না কিংবা সহযোগিতা চাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে ছিল না, তাদের চিহ্নিত করে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগটি স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ মীমাংসায়ও তিনি ভূমিকা রাখেন। পাওনা টাকা ফেরত পাওয়া, হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধারসহ নানা বিষয়ে মানুষকে সহযোগিতা করেছেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাঁর ভূমিকা আলোচিত হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি সৈয়দ হাদিসুর রহমান মিলনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায়ও তাঁর ভূমিকার কথা স্থানীয়ভাবে আলোচিত ছিল। তবে এ ধরনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মামলার নথি ও পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ভিত্তিতে তথ্য উপস্থাপন করাই অধিকতর নির্ভরযোগ্য।
ঝালকাঠি থেকে বদলি হওয়ার সময় সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে তাঁকে বিদায় জানানো হয়। বিদায় অনুষ্ঠানে তাঁর আবেগঘন মুহূর্তও উপস্থিত অনেকের মনে দাগ কাটে। বদলি হয়ে যাওয়ার পরও তিনি ঝালকাঠির মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং বিভিন্ন সময় জেলার মানুষের খোঁজখবর নেন বলে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়।
কর্মজীবনে দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতায় পদোন্নতি পেয়ে পুলিশ সুপার পদে উন্নীত হয়েছেন এমএম মাহমুদ হাসান। বর্তমানে তিনি পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) কনফিডেন্সিয়াল অ্যান্ড এলআইসি শাখায় বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রচার-প্রচারণা দেখা যাচ্ছে। তাঁর সমর্থকদের অভিযোগ, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের দাবি, এসব প্রচারণার কারণে শুধু একজন কর্মকর্তার ভাবমূর্তিই নয়, পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অন্যদিকে, কোনো অভিযোগ বা সমালোচনা থাকলে তা যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যসহ প্রকাশ করাই সাংবাদিকতার দায়িত্বশীল পদ্ধতি। কারণ একজন পুলিশ কর্মকর্তার দীর্ঘ কর্মজীবনের মূল্যায়নে তাঁর দায়িত্ব পালনের রেকর্ড, সরকারি নথি, সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা—সবকিছুকেই গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
ঝালকাঠিতে দায়িত্ব পালনের সময় এমএম মাহমুদ হাসানের কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিক উদ্যোগের বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে এখনো আলোচিত। একজন পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব শুধু অপরাধ দমন নয়, সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানোও যে জনআস্থা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ অংশ—তাঁর কর্মজীবনের বিভিন্ন ঘটনা সেই দৃষ্টান্তই তুলে ধরে।




