
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের শিশু মাহিদা আক্তারকে (৭) ধর্ষণের আলামত পেয়েছে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা। ধর্ষণের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং শ্বাসরোধে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শাহীন ভুঁইয়া এ তথ্য জানিয়েছেন।
নিহত মাহিদা আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর ইউনিয়নের আন্দিদিল গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী মো. মোজাম্মেলের মেয়ে। সে স্থানীয় ফাতেমা নূন নেছা মাদরাসার নূরানী দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত।
শিশু মাহিদাকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে আশুগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন তার মা মনিরা আক্তার। আজ বিকেলে মামলাটি নথিভুক্ত করার পর অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলামকে (২০) ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (পঞ্চম) আদালতে হাজির করে পুলিশ। জাহিদুল আন্দিদিল গ্রামের মৃত শাহ আলমের ছেলে। সে সম্পর্কে মাহিদার চাচা হন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার সকালে মনিরা আক্তার তার অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে জেলা সদরের চিকিৎসকের কাছে যান। মাহিদা তার সহপাঠীদের সঙ্গে খেলা করছিল। দুপুরে মাহিদাকে পানি এনে দেওয়ার কথা বলে চাচা জাহিদুল। মাহিদা কলসে করে পানি এনে দেয়। এ সময় জাহিদুল পানি নিয়ে তার সাথে ঘরে যেতে বলে মাহিদাকে। পরে তাকে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণের পর বালিশচাপা এবং গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
পরবর্তীতে মনিরা বাড়িতে গিয়ে মাহিদাকে না পেয়ে তাকে খুঁজতে বের হয়। এরপর মাহিদাকে অচেতন অবস্থায় জাহিদুলের ঘরে পান। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মাহিদার মরদেহ ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শাহীন ভুঁইয়া বলেন, সাধারণত আমি একাই মরদেহের ময়নাতদন্ত করি। কিন্তু যেহেতু অভিযোগ ছিল মাহিদাকে ধর্ষণ করা হয়েছে- সেজন্য ময়নাতদন্ত করার সময় হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কামরুন্নাহারও ছিলেন আমার সঙ্গে। শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নের পাশাপাশি মাহিদাকে ধর্ষণের আলামত পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ডা. কামরুন্নাহার।
তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্তে মাহিদার মৃত্যুর দুইটি কারণ জানা গেছে। একটি হচ্ছে তাকে নাক-মুখ চেপে শ্বাসরোধ করা হয়েছে। আরেকটি অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ। শিশু হওয়ায় ধর্ষণের ফলে রক্তক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে।




