ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ক্যান্সারে পুরুষাঙ্গ কর্তন, বাঁচতে চান মাহেব

সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি

  ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:৪১ পিএম

​একটি মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম কতটা হৃদয় বিদারক ও অবর্ণনীয় হতে পারে, তার এক করুণ উদাহরণ পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার অসহায় মাহেব চৌকিদার (৫৫).

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মরণব্যাধি স্কিন ক্যান্সারে জীবন যখন নিভে যাওয়ার উপক্রম, তখন প্রাণ বাঁচানোর শেষ অবলম্বন হিসেবে গত ২৭ আগস্ট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে ফেলতে হয়েছে তার শরীরের অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘পুরুষাঙ্গ’। মারাত্মক অঙ্গহানি, তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা আর চরম আর্থিক শূন্যতায় আজ এই মানুষটির আকুল চাপা কান্না বাতাসকে ভারী করে তুলছে। সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব এই রিকশাচালকের একটাই আর্তনাদ—"আমি বাঁচতে চাই, আমায় একটু সাহায্য করুন।"

​বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার মৃত কালাই চৌকিদারের ছেলে মো. মাহেব চৌকিদারের জীবনের গল্পটি শুরু থেকেই চরম দুঃখ-কষ্টে ভরা। খুব ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারিয়ে এতিম হয়ে যান তিনি। শৈশবের স্বাভাবিক আনন্দ-উচ্ছ্বাস বা শিক্ষার আলো পাওয়ার আগেই বেঁচে থাকার রূঢ় বাস্তবতায় বড় ভাইয়ের হাত ধরে চলে আসেন পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা পৌর শহরে।

অবুঝ বয়সেই পেটের দায়ে তাকে নামতে হয় কঠোর দৈহিক পরিশ্রমে। কখনো খাবারের হোটেলে থালা-বাসন ধোয়া, আবার কখনো প্রখর রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে রিকশা ও ভ্যানের প্যাডেল ঘুরিয়ে কোনোমতে অন্নসংস্থান করতে হয়েছে তাকে।
​অভাবের সাথে যুদ্ধ করেই কেটে যায় জীবনের অর্ধেকেরও বেশি সময়।

আজ থেকে প্রায় ৩৫ বছর আগে গলাচিপা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিন চরখালী গ্রামের মৃত রশিদ সিকদারের একমাত্র মেয়ে রাশিদা বেগমের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মাহেব চৌকিদার এবং শ্বশুরবাড়ির গ্রামেই বসতি স্থাপন করেন। পরবর্তীতে তাদের ঘরে জন্ম নেয় চার কন্যা ও এক পুত্র সন্তান। দিনমজুরের কাজ করে এবং অটোরিকশা চালিয়ে রক্তপানি করা উপার্জনে তিনি তিনটি মেয়ে ও একমাত্র ছেলেকে কষ্টসৃষ্টে বিয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন। তার ছোট মেয়েটি বর্তমানে স্থানীয় একটি মাধ্যমিক স্কুলে পড়াশোনা করছে। টানাটানির সংসার হলেও মাহেব চৌকিদারের স্বপ্ন ছিল ছোট মেয়েটিকে পড়াশোনা করিয়ে সুশিক্ষিত করা। ​কিন্তু তাদের এই অতি সাধারন ও হাসিখুশি সংসারটিতে হঠাৎ নেমে আসে অমাবস্যার ঘোর অন্ধকার। ২০২৪ সালে হঠাৎ মাহেব চৌকিদারের পুরুষাঙ্গে একটি সামান্য ঘা দেখা দেয়। প্রাথমিক অবস্থায় সেটিকে সাধারণ চর্মরোগ মনে করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা শুরু করলেও দিন দিন তা জটিল হতে থাকে। ভালো হওয়ার আশায় পটুয়াখালী ও বরিশাল সদরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডাক্তারের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে থাকেন তিনি। দীর্ঘদিনের চিকিৎসায় কোনো সুফল পাওয়া তো দূরের কথা, বরং দিন দিন জমানো সঞ্চয় শেষ হয়ে নিঃস্ব হতে থাকেন তিনি। পরবর্তীতে উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষায় চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন, তিনি মরণব্যাধি ‘স্কিন ক্যান্সার’-এ আক্রান্ত।

​এই দুঃসংবাদ জানার পর পরিবারটির ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। মরণব্যাধির হাত থেকে রোগীকে বাঁচাতে পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসার সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হয়। চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে একপর্যায়ে মাহেব চৌকিদার তার উপার্জনের একমাত্র সম্বল অটোরিকশা এবং গরু, ছাগল বিক্রি করে দেন। আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর কাছ থেকে ধারদেনা করে পুরো পরিবারটি দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু ক্যান্সারের ভয়াবহতা তাতেও কমেনি। অসহ্য যন্ত্রণায় দিনরাত ছটফট করা মাহেব চৌকিদারকে বাঁচাতে চিকিৎসকরা জানান, তার পুরুষাঙ্গ সম্পূর্ণ কেটে ফেলা ছাড়া জীবন রক্ষার আর কোনো উপায় নেই।

অবশেষে বেঁচে থাকার শেষ চেষ্টা হিসেবে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলে দেওয়া হয়। একজন পূর্ণাঙ্গ পুরুষের জন্য এই শারীরিক ক্ষত ও মানসিকভাবে নিজেকে মেনে নেওয়ার যন্ত্রণার গভীরতা কতটা কঠিন, তা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব।

​অঙ্গ হারিয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেও তার জীবনসংগ্রাম কিন্তু শেষ হয়নি। ক্যান্সার রোগটি পুরোপুরি নির্মূল করতে বর্তমানে প্রয়োজন ব্যয়বহুল কেমোথেরাপিসহ নিয়মিত নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র। কিন্তু বর্তমানে এই চিকিৎসা চালানো তো দূরের কথা, ঘরে দুবেলা খাবার জোটানোই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি আজ শারীরিক যন্ত্রণা আর চরম দারিদ্র্যে বিছানায় শয্যাশায়ী।

একদিকে নিজের চিকিৎসার খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে ঘরে চরম অভাব ও অর্থাভাবে ছোট মেয়েটির পড়াশোনা সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
​অশ্রুসিক্ত চোখে, যন্ত্রণায় কাতর মাহেব চৌকিদার আকুল কণ্ঠে বলেন, "দেহের অঙ্গ হারিয়েছি, সংসারের সহায়-সম্পদ, শেষ সম্বল গরু, ছাগল এবং অটোরিকশাটা পর্যন্ত বেঁচে চিকিৎসায় শেষ করেছি। এখন আর লড়াই করার মতো এক ফোঁটা শক্তি বা সামর্থ্য আমার নেই। আমি তিলে তিলে মরতে চাই না, আমি আরও কিছুদিন বাঁচতে চাই। আমার অবুঝ ছোট মেয়েটার মুখের দিকে চেয়ে সমাজের দয়ালু মানুষগুলো কি আমাকে একটু সাহায্য করবেন না?"

​আজ একজন অসহায়, সহায়-সম্বলহীন মানুষ জীবনের শেষ সীমান্তে দাঁড়িয়ে সমাজের মানবিক বিবেকের কাছে আকুতি জানাচ্ছেন। সমাজের বিত্তবান, সমাজসেবী, মানবিক হৃদয়বান ব্যক্তি এবং সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মাহেব চৌকিদারের পরিবারের পক্ষ থেকে জোর আকুল আবেদন—আপনারা যে যার সাধ্যমতো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। সকলের সামান্য সহানুভূতি ও আর্থিক সহায়তাই পারে একটি নিঃস্ব পরিবারকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং মাহেব চৌকিদারকে বেঁচে থাকার নতুন আলো দেখাতে।

​যোগাযোগের উপায়:
মো. মাহেব চৌকিদার
ব্যক্তিগত নম্বর- 01339-941375

গ্যাস-জ্বালানি সংকটের জন্য গত সরকারকে দায়ী করে স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ
গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের জন্য বিগত সরকারের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নীতিকে দায়ী করে পিরোজপুরে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। একই সঙ্গে সংকটকে পুঁজি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের অপচেষ্টা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেল তিনটায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পিরোজপুর বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। পরে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন নেতাকর্মীরা। পিরোজপুর সদর উপজেলা ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাতুব্বর। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মনি, সদস্যসচিব তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাদিম শেখ, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাদিম মল্লিক, সদস্যসচিব আহসান দরানি, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল ইসলাম তুহিন, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ রায়হান ও প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক সবুজ খানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিতে নেতারা বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এবং বিগত সরকারের ভুল অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নীতির কারণে দেশে গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন। এ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বক্তারা আরও বলেন, কৃষি উৎপাদন ও অর্থনীতি সচল রাখতে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা জরুরি। মজুতদারি ও অতিরিক্ত মুনাফা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ সফল করতে জনগণকে সচেতন ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।
গ্যাস-জ্বালানি সংকটের জন্য গত সরকারকে দায়ী করে স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ
ময়মনসিংহে ১১ উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন এমপি ওয়াহাব
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার গ্রামীন সড়ক ও প্রতিষ্ঠানের ১১টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। এ সময় উন্নয়নভোগী এলাকাবাসী সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সদর উপজেলার চরসিরতা ও পরানগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে এসব প্রকল্প উদ্বোধন করেন তিনি। প্রকল্পগুলো হলো- কোনাপাড়া রফিকুলের বাড়ী হতে ঈওগাহ মাঠ পর্যন্ত সড়ক সংস্কার, চরখরিচা ইদগাহ মাঠ হাত পীরবাড়ী সড়ক ও কালভার্ট সংস্কার, খাজা মাঈন উদ্দিনের বাড়ী হইতে আজিজুল হক সাহেবের বাড়ী মেইন রাস্তা সংস্কার, সিরতা বাজারের দক্ষিন পাড়া রাস্তা সংস্কার, চরভাবানীপুর পশ্চিমপাড়া মসজিদ হতে মাহবুব আলমের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, সিরতা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্রীদের নামাজ খানা নির্মাণ, খালেরপার হতে কইট্রার মোড়ের রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ, চরখরিচা আইন উদ্দীনের বাড়ীর পাকা রাস্তা হাফ সলিং, জামিয়া শাহমুদিয়া চরখরিচা মাদরাসার আসবাবপত্র সংস্কার, চরখরিচা মেইন রোড থেকে মামুনের বাড়ী রাস্তা সংস্কার এবং চরসিরতা হাজী সুলতান মহিলা মাদরাসা পাকা রাস্তা হইতে দক্ষিণ পাড়া জামে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা সলিং। এদিকে, উদ্বোধন কর্মসূচি শেষে বিকালে চরসিরতা বাজারে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। এ সময় তিনি বলেন, একটি চক্র দেশে ও বিদেশে বসে যোগসাজসে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাই আসন্ন দুর্গাপূজায় সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, কেউ যেন কোনভাবে পূজামন্ডপে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। কারণ যে কোন ধর্মীয় আচার, অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। এজন্য প্রতিটি এলাকার র্পূজামন্ডপে বিএনপির নেতাকর্মীদের নজরদারি রাখতে হবে।’  এসব কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালি বিএনপির আহবায়ক হেলাল আহম্মেদ, সদস্য সচিব আতাহারুল ইসলাম বুলবুল, জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক সাব্বির আহম্মেদ শামীমসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ময়মনসিংহে ১১ উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন এমপি ওয়াহাব
সিলেটে পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ
ঢাকের বাদ্য, কাঁসর ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে সিলেটের পূজামণ্ডপগুলো। ফুল, ধূপ ও আগরবাতির সুগন্ধে সৃষ্টি হয়েছে এক আনন্দঘন পরিবেশ। দেবী দুর্গার আগমনকে ঘিরে সিলেটজুড়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। মণ্ডপগুলো সাজানো হয়েছে নানা রঙের আলোকসজ্জা ও দৃষ্টিনন্দন সাজে। পূজার আনন্দ ভাগ করে নিতে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা মণ্ডপে ভিড় করছেন। তাঁরা দেবীর কাছে প্রার্থনা করছেন এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করছেন। সিলেট নগরের বিভিন্ন মন্দির ও সার্বজনীন পূজামণ্ডপে চলছে ধর্মীয় সংগীত, পূজা-অর্চনা ও নানা আয়োজন। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও উৎসবকে ঘিরে বিরাজ করছে আনন্দ-উদ্দীপনা। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। দুর্গাপূজায় নিরাপত্তার চাদরে সিলেট :  এদকি, সিলেট জেলা পুলিশের আওতাধীন ১১ টি উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে  নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।  প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সিলেট জেলা পুলিশের আওতাধীন ১১ টি উপজেলায় ৪৭১ টি পূজা মন্ডপ রয়েছে।  এ সকল পূজা মন্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে  মন্ডপের গুরুত্ব অনুযায়ী পুলিশ ফোর্স মোতায়ন করা হয়েছে।  মন্ডপ ও তার আশেপাশে এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত  করতে থানা এলেকায় নিয়মিত মোবাইল টিমের পাশাপাশি মন্ডপভিত্তিক ৯০ টি মোবাইল টিম গঠন করা হয়েছে, যারা নিয়মিত মন্ডপ পরিদর্শন করছে। থানা এলাকায় অনাকাঙ্খিত ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালিত হচ্ছে।  যে সকল মণ্ডপে জনসমাগম অধিক সেই সকল মন্ডপসমূহ চিহ্নিত করে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে যেন মানুষ ও যান চলাচল নির্বিঘ্ন থাকে।  সাধারণ পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়ন রয়েছে যারা যেকোনো নাশকতা বা অপতৎপরতা রোধে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যেকোনো দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত সাড়া দান করতে প্রতিটি থানায় গঠন করা হয়েছে কুইক রেসপন্স টিম। তাছাড়া পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য পুলিশ লাইন্সসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্যান্ডবাই টিম হিসেবে রাখা হয়েছে যেন যেকোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। সিলেট জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো: যাবের সাদেক শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে সকল পুলিশ সদস্যকে পশোদারত্বিরে সাথে দায়ত্বি পালন করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি আইন-শৃঙ্খলা সমুন্নত রেখে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ সুষ্ঠু ভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।  
সিলেটে পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ
কচা নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় কচা নদীর চরখালী মোহনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন রোধ এবং নদীতীরবর্তী বসতভিটা ও জনপদ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ কর্মসূচি একপর্যায়ে অবরোধে রূপ নিলে প্রায় দেড় ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। পরে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলার চরখালী ফেরিঘাট এলাকায় নদীতীরবর্তী ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মো. আল-আমিন হোসেন, মো. মনির হোসেন ও মো. ওহাব মাঝিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বক্তারা বলেন, চরখালী মোহনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীতীরবর্তী এলাকার ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও জনপদ ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীভাঙন আরও তীব্র হতে পারে। এতে বহু পরিবার নিজেদের বসতভিটা ও সহায়-সম্বল হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। তাঁরা অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নদীতীরবর্তী জনপদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন। মানববন্ধন চলাকালে একপর্যায়ে কর্মসূচি অবরোধে রূপ নেয়। এতে সড়ক ও নৌপথে চলাচল ব্যাহত হয় এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। পরে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কচা নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
গাজীপুরে ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সেলিম ভূঁইয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছা
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ক্রীড়া শাখার আওতাধীন গাজীপুর সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাত (৭) সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মো. সেলিম ভূঁইয়া।  তাঁর এ সদস্য পদ পাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করে ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সদর উপজেলার নয়াপাড়া  ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের মাঠে তাঁকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন, তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়াচর্চার প্রসারে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে সেলিম ভূঁইয়ার সাফল্য কামনা করে দোয়ার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি গাজীপুর সদর উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনকে আরও এগিয়ে নিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান খান এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন   বৃহত্তর মির্জাপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সদর উদ্দিন শেখ খোকন, ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের সহ-সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবলুু আহমেদ, সদস্য আলমগীর হোসেন খান, কাজল আহমেদ রিয়াজ, নুরুদ্দিন খন্দকার, আহসানুল্লাহ সরকার ফাহিম প্রমুখ। এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান, গাজীপুর সদর উপজেলা জেটেব এর সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হোসেন সরকার, গাজীপুর জেলার সাবেক ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজল আহমেদ রিয়াজ, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান উৎসব, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ দপ্তর সম্পাদক রাজীব মোল্লা সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।  
গাজীপুরে ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সেলিম ভূঁইয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছা
আরও পড়ুন
গলাচিপায় পূজামণ্ডপের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হকের মতবিনিময়
গলাচিপায় সমুদ্রগামী জেলেদের মাঝে বিনামূল্যে চাল বিতরণ
গলাচিপায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত  
মহালয়ার সুরে মুখর গলাচিপা, মণ্ডপে মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি
X