
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার হিজলীয়া গ্রামের ফরহাদ হাসান সানি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি এবং নিহতের পরিবারকে হয়রানি মুক্ত হুমকি প্রদানের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করেছে সানির পরিবার ও এলাকাবাসী। অবিলম্বে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
শনিবার (২৬ শে সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাকুন্দিয়া প্রেসক্লাবের এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল পাকুন্দিয়া প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শুরু করে পাকুন্দিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিহত সানির স্ত্রী মোছাঃ সুমাইয়া আক্তার অভিযোগ করেন, গত ২৩ শে এপ্রিল রাত আটটার দিকে পূর্ব শত্রুতার জেরধরে আমার স্বামী মোঃ ফরহাদ হাসান সানিকে প্রতিপক্ষের মফিজুল (২৫) নজরুল ইসলাম(৩২) আজিজুল ইসলাম(৪০) ও মকবুল (৩০) সহ অজ্ঞতরা আরো কয়েকজন লোক ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। একটি সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায় কয়েকজন মিলে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে স্বামীকে হত্যা করেছে।
এ ঘটনার পরদিন আমি বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ আরো ২/৩ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে পাকুন্দিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করি। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় ৪ জন আসামিকে গ্রেফতার করলেও অজ্ঞাত বা অন্য জড়িত সন্দেহভাজনকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করেনি।
গ্রেপ্তারকৃত ১ নং আসামির একটি সাজানো স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীর উপর ভিত্তি করে বাকি ৩ আসামীকে জামিন দেন আদালত। ১ নং আসামী তার জবানবন্দিতে নিজেকে সর্বোচ্চ শাস্তি থেকে বাঁচাতে আমার স্বামী অর্থাৎ নিহত সানির বিরুদ্ধে তার স্ত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা ও হুমকির অভিযোগ তোলে। যা মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মূল হত্যাকান্ডের প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে এবং দোষীদের নির্দোষ প্রমাণ করতেই আমার মৃত নামে মিথ্যা কুৎসা রটানো হয়েছে।
হত্যাকারীরা অত্যান্ত প্রভাবশালী হওয়ায় তারা ৩০ লাখ টাকার জমি বিক্রি করে মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার চেষ্টায় লিপ্ত। যার বাস্তব প্রমাণ আমরা উপলব্ধি করতে পেরেছি। ঘটনার অল্পদিনের মাথায় আসামিদের জামিন পাওয়া এবং পরিকল্পিত জবানবন্দী তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ। তাছাড়াও যে ঘরে অবস্থান করে আসামিরা আমার স্বামীকে হত্যা করে এবং হত্যাকাণ্ড শেষে যে ঘরে আত্মগোপনে ছিল এই ঘরের মালিককে গ্রেপ্তার না করে সামান্য জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, সিসিটিভি ফুটে যে একাধিক ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও মামলায় মাত্র একজন আসামির নীল নকশা আঁকছে পুলিশ। এ কথা জানতে পেরে আমরা চরম হতাশ ও শঙ্কিত হয়ে পড়েছি। জামিন প্রাপ্ত আসামিরা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা আমাদের প্রতিনিয়ত ভয় ভীতি ও হুমকি প্রদান করে যাচ্ছে। তারা প্রকাশ্যে বলছে এ মামলায় তাদের কিছুই হবে না, সবকিছু টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে ফেলা হয়েছে। এমনকি আমার ১৮ বছর বয়সি দেবরকেও তারা হত্যার হুমকি দিচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের সংসারের দুটি শিশুসন্তান রয়েছে। বিয়ের মাত্র কয়েক বছরের মাথায় স্বামীকে হারিয়ে আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছি। ঘটনার পর মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ি। বর্তমানে কি করবো ভেবে উঠতে পারছি না। স্বামী হত্যার বিচারের আশায় আদালত ও পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি, অন্যদিকে দুই শিশু অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে চারজন নামীয় আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্ত চলমান আছে। হুমকির বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




