
মধুখালীতে একটি সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় দায়ের করা একটি মামলায় আরাফাত শেখ (২০) ও চুন্নু শেখ (৩৪) নামে দুই নিরপরাধ ব্যক্তির নাম জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ওই মামলায় মোট ১১জনকে আসামি করা হয়েছে। এরমধ্যে আরাফাত শেখ ১নং ও চুন্নু শেখকে ৭ নং আসামি করা হয়েছে। নিরপরাধ ওই দুই জনসহ মোট ৫ আসামি ৩৫দিন যাবত জেলের ভিতরে রয়েছেন।
রোবববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সাংবাদিক ফোরাম ফরিদপুর জেলা শাখা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা তুলে ধরে আরাফাত শেখ ও চুন্নু শেখকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন ওই ভুক্তভোগী দুই আসামির পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে আরাফাতের মা গোলাপী বেগম দাবি করেন, গত জুন মাসের ৪ তারিখে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যার পরে প্রতিবেশি মুন্না শেখ, উইনুছ শেখ ও শফি শেখসহ মোট ১৬জন আসামী দেশীয় প্রাণনাশক অস্ত্র নিয়ে আমাদের বসতবাড়ীর ওপর এসে অতর্কিত হামলা চালিয়ে চাচাতো ভাসুর শহীদ শেখ ও শহীদ শেখের ভাতিজা হাসিবুল শেখকে এলোপাতাড়িভাবে মারপিট করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। তখন আমি ঠেকাতে গেলে আসামিরা আমাকে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে।
ওই সময় আসামি মুন্না শেখ মাথায় সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হয়। তবে ঘটনার সময়ে আমার ছেলে আরাফাত শেখ ও দেবর চুন্নু শেখ বাড়ীতে ছিলেন না। স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে আমার ছেলে আরাফাত শেখ ও দেবর চুন্নু শেখ বাড়ীতে এসে আমাদেরকে উদ্ধার করে প্রথমে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। আমরা হাসপাতালে ভর্তি থাকায় আসামিদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক থানায় গিয়ে কোন আইনি পদক্ষেপ নিতে পারিনি।
এই সুযোগে আসামিরা মধুখালী থানায় গিয়ে আমাদের ১১জনকে আসামি করে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। আমরা চিকিৎসা শেষে হামলাকারী মুন্না শেখসহ ঘটনার সাথে জড়িত ১৬জনের বিরুদ্ধে ফরিদপুর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪নং আমলী আদালতে মামলা দায়ের করি। ওই মামলায় ৮নং আসামি মুন্না শেখ বাদে ১৫জন আসামি বর্তমান আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে চুন্নু শেখের স্ত্রী আয়শা খাতুন বলেন, আসামিদের করা মিথ্যা মামলায় আমার স্বামী চুন্নু শেখ ও ভাসুরের ছেলে আরাফাত শেখসহ ৫জন ৩৫দিন যাবত জেলে রয়েছেন, এর মধ্যে আমার স্বামী চুন্নু শেখ ও ভাসুরের ছেলে আরাফাত শেখ সম্পূর্ণ নির্দোষ। তিনি দাবি করেন, আদালতে আমরা জামিন চাইলে আমাদের করা মামলার ৮ নাম্বার আসামি মুন্না শেখের মা খদেজা বেগম এআই দিয়ে এডিট করা মুন্নার কিছু ছবি আদালতকে দেখিয়ে ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমার নিরপরাধ স্বামী চুন্নু শেখ ও ভাসুরের ছেলে আরাফাতসহ আটককৃত ৫আসামির জামিনে বাধা সৃষ্টি করছে।
প্রকৃত পক্ষে থানায় দায়ের করা মিথ্যা মামলার বাদিনীর ছেলে মুন্না সম্পূর্ণ রুপে সুস্থ্য হয়ে আদালতে আমাদের করা মামলায় গ্রেপ্তার এরাতে পলাতক রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমার স্বামী চুন্নু শেখ ঢাকায় একটি চায়না কম্পানীতে ৮বছর যাবত চাকরী করেন। যদি অক্টোরের ১ তারিখের মধ্যে অফিসে যোগদান না করে তাহলে কর্তৃপক্ষ আমার স্বামীকে চাকরি থেকে বহিস্কার করবে। এদিকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থী আরাফাত শেখের উজ্জল ভবিষ্যত নষ্ট হচ্ছে।




