
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে বিভিন্ন অপরাধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা ও অর্থদণ্ড এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যসহ বিভিন্ন মামলায় পরোয়ানাভুক্ত পলাতক ২৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে পুলিশের বিশেষ টিম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৪ জুন দায়ের হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর মামলায় নিষিদ্ধ সংগঠনের ছয়জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন—চর আলগী ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. সুজন (৪৫), রামগতি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগ সভাপতি মোহাম্মদ তারেক পাটোয়ারী (১৯), চরবাদাম ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি মোহাম্মদ রায়হান (১৬), একই ইউনিয়ন ছাত্রলীগ কর্মী সম্রাট হোসেন জিদান (১৬), মোহাম্মদ সজীব ওরফে শান্ত (১৭) এবং চর আলগী ইউনিয়নের মোশারফ হোসেন (১৭)।
২০২৬ সালের ২১/১৯৫ নম্বর মামলার আসামি চর কলাকোপা গ্রামের মোহাম্মদ মিন্টুর ছেলে জাকির হোসেন (৩৫)কেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রামগতি থানার সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নম্বর ১২৯৬ এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—চর রমিজ ইউনিয়নের চর মেঘা গ্রামের হেলালের ছেলে মোহাম্মদ সাকিব (১৯), মুরাদের ছেলে মোহাম্মদ মেহেরাজ (১৯), মো. বাবলুর ছেলে মোহাম্মদ রিহান (১৯) এবং আজগর হোসেনের ছেলে আকবর হোসেন মিরাজ (২১)।
এ ছাড়া বাগেরহাট জেলার শেখ সোলায়মানের ছেলে মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম (৪২)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জিআর ১২১/২৬ ও সিআর ১৪২/২৪ নম্বর মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত তোর মেহের এলাকার মোহাম্মদ জাবেদের ছেলে সামাদ (২০) এবং চর সীতা এলাকার খবিরের ছেলে মো. জহিরকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
বিভিন্ন অপরাধে আটক তিনজনকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাত দিনের সাজা দেওয়া হয়। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন—দক্ষিণ চরবার এলাকার শামসুল হকের ছেলে নূর হোসেন (৩১), চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের আব্দুল মালেকের ছেলে মোহাম্মদ বাহার (২৩) এবং সাদেক মাঝির ছেলে আনোয়ার হোসেন (২৮)।
এ সময় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আরও সাত আসামিকে ১ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডিতরা হলেন—চর মেহার গ্রামের কামালের ছেলে রাজিব হোসেন, বাহারের ছেলে মো. সুমন, শফির ছেলে মোহাম্মদ ফারুক, চর আলগী গ্রামের মজলের ছেলে শাহাদাত, আবু তাহেরের ছেলে আলাউদ্দিন, নাসির উদ্দিনের ছেলে মো. সজিব উদ্দিন এবং রুহুল আমিনের ছেলে মোহাম্মদ জসিম।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ এহসান উদ্দীন।
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান জানান, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে কেউ পার পাবে না। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এসব অপরাধীকে ধরতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
গ্রেপ্তারকৃত ও সাজাপ্রাপ্তদের সোমবার সকালে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।




