
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ৫০ বস্তা ওষুধ পিকআপে করে যমুনা নদীতে ফেলার ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। টাঙ্গাইল জেলা দুদকের উপপরিচালক মো. ফখরুল ইসলাম, উপসহকারী পরিচালক তারেক মিয়া ও উপসহকারী পরিচালক বাছেদ আলী তদন্তে অংশ নেন।
দুদকের কর্মকর্তারা জানান, গত ২৬ আগস্ট রাতে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পিকআপভর্তি ৫০ বস্তা ওষুধ পাশের ভূঞাপুর উপজেলার যমুনা নদীতে ফেলার সময় স্থানীয়রা তা ধরে ফেলেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পিকআপসহ ওষুধগুলো জব্দ করা হয় এবং এ ঘটনায় একটি চুরির মামলা করা হয়। মামলায় পিকআপের চালককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।
টাঙ্গাইল জেলা দুদকের উপপরিচালক মো. ফখরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঘটনাটি তদন্ত করতে তারা ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছেন। হাসপাতালে এসে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কক্ষ, আবাসিক ভবন ও টয়লেটসহ বিভিন্ন স্থানে ওষুধ অগোছালো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ওষুধগুলো ক্যাটাগরি অনুযায়ী সংরক্ষণ করা হয়নি এবং এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, ওষুধকাণ্ডের বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে উদ্ধার করা ওষুধের কোনো তালিকা এখনো তৈরি করা হয়নি। থানায় গিয়ে পিকআপে থাকা ৫০ বস্তার বিপরীতে ১৬ থেকে ১৭ বস্তা ওষুধ পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। ওষুধগুলো ক্যাটাগরি অনুযায়ী সাজানোর পর কত পরিমাণ ব্যবহার অনুপযোগী হয়েছে, তা জানা যাবে।
দুদকের এ কর্মকর্তা আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আলমগীর কবির সুমন বলেন, দুদকের তদন্তের বিষয়ে তারা কোনো কাগজপত্র পাননি। তবে হাসপাতাল সম্পর্কে করা অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয়।
উল্লেখ্য, গত ২৬ আগস্ট রাতে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পিকআপে করে ৫০ বস্তা ওষুধ ভূঞাপুরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে যমুনা নদীতে এসব ওষুধ ফেলার সময় স্থানীয়রা তা দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। এ ঘটনায় একটি চুরির মামলা করা হয়।




