
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক, জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকটে চলছে। ৩১ শয্যার এ হাসপাতালটি উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র হলেও এখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সুপেয় খাবার পানির সংকট।
হাসপাতালে ১৪টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৮ জন। এর মধ্যে দুজন ডেপুটেশনে রয়েছেন। আবাসিক মেডিকেল অফিসারের পদটিও শূন্য। এছাড়া মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল), রেডিওলজি, প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক, পরিসংখ্যানবিদ, আয়া ও কুকসহ বেশ কয়েকটি পদ খালি রয়েছে।
হাসপাতালের ল্যাবরেটরি থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে রোগীদের অনেক পরীক্ষা বাইরে থেকে করাতে হচ্ছে। এক্স-রে, ইসিজিসহ গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই বলেও জানা গেছে।
হাসপাতালটির অবকাঠামোগত কাজ শুরু হয় ২০০৫ সালে এবং ২০০৮ সালে বহির্বিভাগ চালু হয়। তবে দীর্ঘদিন চিকিৎসক, জনবল ও সরঞ্জাম সংকটে প্রত্যাশিত সেবা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
২০২২ সালের অক্টোবরে তৎকালীন সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সহযোগিতায় হাসপাতালে আন্তঃবিভাগীয় (ইনডোর) চিকিৎসাসেবা চালু হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ননী গোপালের উদ্যোগে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা সচল করার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
রোগীদের জন্য সুপেয় খাবার পানির ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়। ফলে হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও স্বজনদের বাইরে থেকে পানি কিনে খেতে হচ্ছে।
সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য প্রায় ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টটি প্রায় দেড় বছর ধরে মেরামতের অভাবে বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।
জিয়ানগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ননী গোপাল বলেন, “আমি যখন এখানে যোগদান করি, তখন হাসপাতালটি অনেকটা নিভু নিভু অবস্থায় চলছিল। আমার সাধ্যের মধ্যে আন্তঃবিভাগীয় সেবা, রোগীদের খাবার-পথ্য ও পর্যাপ্ত ওষুধের ব্যবস্থা করেছি। বর্তমানে চিকিৎসক ও জনবল সংকট রয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে।”
পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমান বলেন, “চিকিৎসক পদায়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। হাসপাতালের অন্যান্য সমস্যাও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করব।”
পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেন, “হাসপাতালটি দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। পুরোনো ভবন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালটিকে আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তুলতে যথাসম্ভব চেষ্টা করছি।”
উপজেলাবাসীর দাবি, দ্রুত চিকিৎসক ও জনবল সংকট দূর করে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ এবং বন্ধ পানি শোধনাগার চালু করে হাসপাতালটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করা হোক।




