
বগুড়া সারিয়াকান্দি থানায় যোগদানের সময় থেকেই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ.ফ.ম আছাদুজ্জামান তার সঙ্গীয় সদস্যদের নিয়ে সদা- সর্বদা থানার বিভিন্ন এলাকার অনিয়ম,অপরাধ, মাদক কারবারি, ছিনতাই, সন্ত্রাসী, দমনে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন।
তার এমন কাজে থানার এলাকার সর্বত্রের মানুষ বেশ উজ্জীবিত ও খুশি। মাদকাসক্ত ও মাদকদ্রব্য কারবারিতে সারিয়াকান্দি থানা রয়েছে জিরো টলারেন্স অবস্থায়। পুলিশ প্রশাসনের সন্ত্রাস ও মাদকের বিস্তার রোধকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে ও বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদের নির্দেশনায় মাদক - সন্ত্রাস নির্মূলে কঠোর ভূমিকায় কাজ করে যাচ্ছেন (ওসি) আ.ফ.ম আছাদুজ্জামান।
থানায় গত ৮ মাসে ২৬০ জন মাদক এর সাথে জড়িত অপরাধের গ্রেপ্তার করেছে এবং বিপুল পরিমান মাদক উদ্ধার করেছে। থানার তথ্যমতে, এই অভিযানগুলো ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত পরিচালিত হয়। এই অভিযানকালে, ট্যাপেন্ডাডল ট্যাবলেট ১৩৬৫ পিস, গাজা ২৬ কেজি ৭৩৯ গ্রাম, ইয়াবা ৮৫ পিস, চোলাই মদ ১১০২ লিটার, ফেন্সিডিল ৬ বোতল জব্দ করেছে।
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে সারিয়াকান্দি থানা পুলিশ বিচক্ষণতার সাথে প্রতিনিয়ত মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করায় এ এলাকায় মাদকের হট-স্পটখ্যাত এরিয়া থেকে মাদকের সাথে জড়িত ও বখাটে সন্ত্রাসীদের অনেকেই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।
স্থানীদের সাথে কথা বলে জানায়, থানার চৌকস পুলিশ অফিসারগণ ও পেশাদার পুলিশ সদস্যরা যদি তাদের দক্ষতা ও আন্তরিকতা কাজে লাগিয়ে কাজ করে তাহলেই অবশ্যই আমাদের থানা থেকে মাদক নির্মূল করা সম্ভব হবে। বর্তমান ওসি থানায় যোগদানের পর থেকে মাদক-সন্ত্রাস নির্মূলে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি এবং তার সকল পুলিশ সদস্যগণ।
স্থানীয় আরও জানান, আমরা সাধারণ জনগণ ও পুলিশ মিলে একসঙ্গে কাজ করলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমিয়ে আনা ও অপরাধ রোধ করা সম্ভব হবে। সন্ত্রাস- মাদকের বিরুদ্ধে কমিউনিটি পুলিশকে কাজে লাগাতে হবে। বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। তাহলেই সারিয়াকান্দিসহ সারাদেশ থেকে মাদক-সন্ত্রাস নির্মূল করতে সহজ হবে।
এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ.ফ.ম আছাদুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকার মাদক-সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে আপোষহীন ও দৃঢ় প্রত্যয়ী। মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকার জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। তাই আমরা মাদকের আগ্রাসন থেকে যুব সমাজকে মুক্ত রাখার জন্য বদ্ধপরিকর। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে কমিউনিটি পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকে নিয়ে পুলিশিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
পুলিশের কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার লক্ষ্যে সারিয়াকান্দি থানার প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে কমিউনিটি পুলিশের সাথে সাপ্তাহিক বৈঠকের মাধ্যমে কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।থানার আওতাধীন সকল বিট ইনচার্জদের সাথে সরাসরি বৈঠকের মাধ্যমে তদারকি করে থাকি।
এলাকার জনপ্রতিনিধি সহ শিক্ষাবিদ, সমাজ সেবক, ব্যবসায়ী, সংবাদিক ধর্মীয় নেতাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে শান্তি-শৃঙ্খলায় রাখতে প্রতিনিয়ত বৈঠক করা হচ্ছে । থানাকে মাদকমুক্ত করতে জনসচেতনতাও সর্বোচ্চ মাত্রায় বৃদ্ধি করেছি।
তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের সুষ্ঠু বিকাশের স্বার্থে পুরো জাতিকে মাদকের বিরুদ্ধে জয়ী হতে হবে বিধায় এই এলাকার যুব সমাজকেও সচেতনামূলক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। নৈতিক শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে দেশ এবং সমাজের কল্যাণে এগিয়ে আসতে পারে সেই লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি।




