
দারিদ্র্য, অসুস্থতা ও একাকীত্বে দীর্ঘদিন চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি জীবন কাটানো ৭০ বছর বয়সী জমেলা বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা ইয়াসমিন।
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা জমেলা বেগম দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছেন। চলাফেরার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলায় প্রায় ১০ বছর ধরে ঘরবন্দি জীবন কাটাচ্ছিলেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদপত্র ও বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে তাঁর অসহায়ত্বের খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আসে।
এরপর সোমবার জমেলা বেগমের পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে তাঁর বাড়িতে ছুটে যান জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। এ সময় তিনি জমেলার সঙ্গে কথা বলেন, তাঁর শারীরিক ও পারিবারিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং বাড়ির সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।
জমেলার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি তাঁকে দুই বান্ডিল ঢেউটিন ও একটি হুইলচেয়ার দেওয়া হয়। হুইলচেয়ার পেয়ে দীর্ঘদিন পর ঘরের বাইরে কিছুটা চলাফেরার সুযোগ পেয়েছেন জমেলা।
এ ছাড়া সাংবাদিক জাহিদুল হক মনিরের পক্ষ থেকে জমেলা বেগমকে ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তায় সীমাবদ্ধ না থেকে জমেলার জীবনযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নতুন একটি ঘর নির্মাণ, বাড়ির ভিটায় মাটি ভরাট, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং এক মাসের শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।
প্রায় এক দশক ঘরবন্দি থাকার পর হুইলচেয়ার পেয়ে ঘরের বাইরে চলাফেরার সুযোগ পাওয়ায় জমেলা বেগমের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিনের বন্দিত্বের পর এই সামান্য চলাচলের স্বাধীনতাই তাঁর কাছে বড় প্রাপ্তি হয়ে উঠেছে।
এ সময় ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল-আমীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অসহায় অবস্থায় থাকা একজন প্রবীণ নারীর পাশে প্রশাসন যেভাবে দাঁড়িয়েছে, তা মানবিকতার একটি দৃষ্টান্ত। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোও যদি এভাবে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে এগিয়ে আসে, তাহলে অনেক অসহায় মানুষের জীবনেই স্বস্তি ও আশার আলো ফিরতে পারে।




