
চট্টগ্রাম ওয়াসার মাসিক রাজস্ব আদায় বেড়ে ২৮ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসে সংস্থাটির মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৮ কোটি ২৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। দীর্ঘদিন মাসিক রাজস্ব আদায় ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার পর বকেয়া আদায়ে বিশেষ কার্যক্রম জোরদার করায় এ অগ্রগতি হয়েছে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার রাজস্ব আদায়ের হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে পানির বিল থেকে মোট ২৬ কোটি ১৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা আদায় হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বিল বাবদ ১৪ কোটি ১৯ লাখ ১১ হাজার এবং বকেয়া বিল থেকে ১২ কোটি ১৪ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।
এ ছাড়া সারচার্জ থেকে ৮০ লাখ ৫৭ হাজার, গভীর নলকূপ ফি বাবদ ৬৫ লাখ ৫০ হাজার এবং নতুন সংযোগ খাতে ৩৫ লাখ ৯৩ হাজার টাকা আদায় হয়েছে। এর আগে আগস্ট মাসে সংস্থাটির রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
বকেয়া রাজস্ব আদায়ে গত দুই মাস ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে রাজস্ব ও প্রকৌশল বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত আটটি মনিটরিং টিম। চট্টগ্রাম ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী, রাজস্ব কর্মকর্তা, রাজস্ব তত্ত্বাবধায়ক ও মিটার পরিদর্শকদের সমন্বয়ে এসব দল গঠন করা হয়েছে। দলগুলোর কার্যক্রম তদারকি করছেন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) মিজ্ শারমিন আক্তার।
ওয়াসা জানিয়েছে, যেসব গ্রাহকের ২৫ হাজার টাকার বেশি বকেয়া রয়েছে, তাদের সংযোগ সরেজমিনে পরিদর্শনের পাশাপাশি বকেয়া আদায়ে কাজ করছে দলগুলো। একই সঙ্গে গ্রাহকদের হালনাগাদ তথ্য, অবৈধ সংযোগ এবং লাইসেন্সবিহীন গভীর নলকূপের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং লাইসেন্সবিহীন গভীর নলকূপ স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম ওয়াসার মোট বকেয়া রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ২৫৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কাছে ৭১ কোটি ৫২ লাখ এবং সাধারণ গ্রাহকদের কাছে ১৮৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম বলেন, রাজস্ব আদায়ে বর্তমানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গঠিত দলগুলো এলাকাভিত্তিক কাজ করে বকেয়া থাকা গ্রাহকদের বিল পরিশোধে উৎসাহিত করছে। এর আগে ৫০ হাজার টাকার বেশি বকেয়া আদায়ে কাজ করা হলেও বর্তমানে ২৫ হাজার টাকার বেশি বকেয়াধারীদের নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রাজস্ব আদায়ে উৎসাহ দিতে সর্বোচ্চ বকেয়া আদায়কারী তিনজন মিটার পরিদর্শককে ক্রেস্ট এবং প্রতিটি দলের সদস্যদের সনদ দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম ওয়াসা সরকারের রাজস্ব আদায়ে বদ্ধপরিকর। গ্রাহকদের আইন মেনে সংযোগ ও নলকূপের লাইসেন্স গ্রহণ এবং বকেয়া বিল পরিশোধের আহ্বান জানান তিনি।




