
বরগুনার তালতলীতে এক নারীকে একা পেয়ে ঘরে ঢুকে হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে শরীরে আগুনের ছ্যাঁকা দিয়ে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা রোকন নামের এক মোটরসাইকেল চালককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বড় অংকুজানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে ২-৩ সদস্যের একটি দল ওই নারীর বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় বাড়িতে ঐ নারী একাই ছিলেন। দুর্বৃত্তরা তাকে জিম্মি করে প্রথমে হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে ফেলে। পরে ঘরে থাকা টাকা ও স্বর্ণ কোথায় রাখা আছে,তা জানতে তাকে চাপ দেওয়া হয়। টাকা ও স্বর্ণের অবস্থান জানাতে ওই নারীকে ভয় দেখানোর পাশাপাশি শরীরে আগুনের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। এতে তিনি আতঙ্কিত হয়ে ঘরে থাকা টাকা স্বর্ণালংকারের কথা জানালে দুর্বৃত্তরা টাকা ও স্বর্ণ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ওই নারীর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে দুর্বৃত্তরা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয়রা রোকন নামে এক মোটরসাইকেল চালককে আটক করে গণধোলাই দেওয়ার পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। তবে মূলহোতা রবিউল নামে একজন টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।
এদিকে স্থানীয়দের হাতে আটক রোকনকে পুলিশ উদ্ধার করে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার চিকিৎসা দেওয়া হয়। একই ঘটনায় নির্যাতনের শিকার নারীও চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
ভুক্তভোগীর স্বামী মাসুদ জানান, মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য আমার ভাইয়ের কাছ থেকে ২ লাখ ৪০ লাখ টাকা এনে বাড়িতে রেখেছিলেন। বাড়িতে ওই টাকা থাকার খবর পেয়েই দুর্বৃত্তরা বাড়িতে এসে আমার স্ত্রীকে নির্যাতন করে টাকা ও চেইন এবং কানের দুল নিয়ে যায় ।
স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য ফাতিমা বেগম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি ওই নারীর শরীরে আগুনের ছ্যাঁকার চিহ্ন দেখতে পান। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তালতলী হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জহিরুল ইসলাম বলেন ওই নারীর গায়ে আগুনের ছ্যাকার দাগ রয়েছে। তাকে চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম বলেন,ঘটনাটি আমরা জানতে পেরেছি। একজনকে আটক করে নিয়ে এসে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আটকের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।




