ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

বানিয়াচংয়ে বিলুপ্তির পথে ঢেঁকি ও ঢেঁকিছাঁটা চাল

মো. আব্দাল মিয়া, বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

  ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৫২ পিএম
ছবি প্রতিনিধি

“বাবা রে, দিনকাল তো আর আগের লাখান নাই! অহন গাঁও-গেরামে সব ইতা কারেন্ট আর মেশিনের কারবার। আমরার আমলে কালাইনজা হইতে না হইতে বেইট্যানতে ঢেঁকির পাড়ো গীত ধইরা ধান ভানতা। সেই চাউলের ভাত খাইলে গতর চাঙ্গা থাহতো, কলিজা জুড়াইতো। আর অহনকার জোয়ান্নাইনতা মেশিনের ফালিশ করা চকচকা কড়কড়া চাউল খায়। আমরার সেই ঢেঁকি তো অহন জ্যান্তই কব্বরে গেছে গা!”

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

বুকভরা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন বানিয়াচং উপজেলার ঘাঘড়া কোণার এক প্রত্যন্ত গ্রামের ৭৬ বছর বয়সী প্রবীণ ঢেঁকি কারিগর মহরম আলী। তাঁর কথায় যেন ধরা পড়ে হারিয়ে যাওয়া এক গ্রামীণ জীবনের শেষ দৃশ্য। যে জীবনে ভোরের নীরবতা ভাঙত ঢেঁকির ‘পড়াত-পড়াত’ শব্দে, নতুন ধানের সুবাসে মুখর হতো উঠান, আর ঢেঁকিঘর হয়ে উঠত পল্লী নারীদের কাজ, গান, গল্প ও সামাজিকতার প্রাণকেন্দ্র।

একসময় গ্রামবাংলায় ঢেঁকি ছিল ধান ভানার অপরিহার্য যন্ত্র। নতুন ধান ঘরে উঠলেই বাড়িতে বাড়িতে পড়ে যেত ঢেঁকি চালানোর ধুম। কার্তিক-অগ্রহায়ণের সন্ধ্যা নামলেই কোনো না কোনো উঠান থেকে ভেসে আসত কাঠের ঢেঁকির ছন্দময় শব্দ। সেই শব্দ জানিয়ে দিত—কোনো ঘরে নতুন ধান উঠেছে, নবান্নের প্রস্তুতি চলছে।

প্রবাদে বলা হয়, ‘ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে।’ কথাটির আক্ষরিক অর্থ যা-ই হোক, গ্রামীণ জীবনে ঢেঁকির অপরিহার্যতার প্রতিচ্ছবি এতে স্পষ্ট। শুধু ধান থেকে চাল নয়, চালের গুঁড়া, ডাল ও বিভিন্ন শস্য ভাঙার কাজেও ব্যবহৃত হতো ঢেঁকি। বিয়ের পিঠা, নবান্নের আয়োজন কিংবা শীতের পুলি-পায়েস—সবকিছুর প্রস্তুতিতেই ছিল এর সরব উপস্থিতি।

সাহিত্যে-লোকসংস্কৃতিতেও ঢেঁকির সেই উপস্থিতি ছিল প্রবল। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘কমলাকান্ত’ চরিত্রের ভাবনায়ও উঠে এসেছে ঢেঁকির প্রয়োজনীয়তা। আবার জহির রায়হানের ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসে বিয়েবাড়িতে ঢেঁকিতে ধান ভানার সঙ্গে নারীদের গান ও উৎসবের যে চিত্র পাওয়া যায়, তা গ্রামীণ জীবনে ঢেঁকির সামাজিক গুরুত্বেরই প্রতিচ্ছবি।

ঢেঁকিতে ধান ভানার কাজ ছিল কঠিন কায়িক শ্রমের। কিন্তু সেই শ্রমকেও আনন্দে পরিণত করার নিজস্ব সংস্কৃতি ছিল গ্রামে। দুই-তিনজন নারী পালা করে পাড় দিতেন, আরেকজন ধান নাড়াচাড়া করতেন। কেউ কুলায় চাল ঝাড়তেন, কেউ আবার গান ধরতেন। দীর্ঘ শ্রমের ক্লান্তি ভুলতে মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ত গান, ছড়া, শ্লোক ও খনার বচন। সেই সঙ্গে চলত সংসারের সুখ-দুঃখ, বিয়ে, সন্তান, ফসল ও গ্রামের নানা খবরের আলোচনা।

প্রবীণ নারী বানেছা বিবি বলেন, “ঢেঁকিতে ধান ভানতে কষ্ট অইত, কিন্তু ওই কষ্টের মাঝেও আনন্দ আছিল। কয়েকজন একসাথে কাম করতাম, গান গাইতাম, গল্প করতাম। একজনের বাড়ির কাম শেষ অইলে আরেকজনের বাড়ি যাইতাম। অহন মেশিনে ধান ভাঙে, কাম তাড়াতাড়ি অইয়া যায়, কিন্তু ওই আগের মতো একসাথে বসা, কথা কওয়া, হাসাহাসি আর নাই।”

ঢেঁকির কাঠামোতেও ছিল লোকজ জ্ঞান ও কারিগরি দক্ষতার সমন্বয়। লম্বা শক্ত কাঠের তৈরি মূল কাঠামোকে বলা হতো ‘ধড়’। এক প্রান্তে পা দিয়ে চাপ দিলে অন্য প্রান্তের মুষল ওপরে উঠত; পা ছেড়ে দিলে মুষল নিচে থাকা ধান বা শস্যে আঘাত করত। এই পাড়ের পুণরাবৃত্ত আঘাতেই ধানের খোসা ছাড়িয়ে তৈরি হতো চাল। কয়েকজন মিলে পালাক্রমে কাজ করায় শ্রমের চাপ কিছুটা কমত।

ঢেঁকি তৈরিও ছিল বিশেষ দক্ষতার কাজ। কাঠের ধরন, ধড়ের ভারসাম্য, মুষলের অবস্থান ও পাড় দেওয়ার সুবিধা—সবকিছু বুঝে তৈরি করতে হতো। একসময় গ্রামবাংলায় এ কাজ জানা কারিগর ছিলেন অনেক। এখন সেই কারিগরিও হারিয়ে যাচ্ছে।

প্রবীণ কারিগর মহরম আলী বলেন, “আগে ঢেঁকি বানাইতাম, মেরামত করতাম। একেক বাড়িতে ঢেঁকি থাকত। নতুন ধান উঠলেই কাজের ডাক পড়ত। অহন মানুষ ধান মিলে নেয়। ঢেঁকি বানাইতে কইলে কাঠের কাম জানে এমন মানুষও আর সহজে পাওয়া যায় না। আমরার পরের পোলাপান এই কাম শিখে নাই। এইভাবে এখন ঢেঁকি শুধু ছবিতেই থাকব।”

তিনি আরও বলেন, “ঢেঁকি হারাইলে শুধু একটা কাঠের জিনিস হারাইব না। এর লগে হারাইব একটা কাম, একটা বিদ্যা, একটা সময়। পোলাপানরে যদি এখন না দেখানো যায়, পরে তারা বইতে পড়ব—একসময় মানুষ পা দিয়া ধান ভানত।”

বানিয়াচংয়ের হাওড়পাড়ের গ্রামগুলোতে একসময় ঢেঁকিঘর ছিল নারীদের সামাজিক জীবনেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোনো বাড়িতে বিয়ের আয়োজন হলে, নতুন ধান উঠলে কিংবা শীতের পিঠা তৈরির প্রস্তুতি নিলে ঢেঁকিঘর সরব হয়ে উঠত। প্রান্তিক নারীরা অনেক সময় অন্যের বাড়িতে ধান ভেনে পারিশ্রমিক হিসেবে ধান বা টাকা পেতেন। অর্থাৎ ঢেঁকি ছিল একদিকে খাদ্য উৎপাদনের হাতিয়ার, অন্যদিকে গ্রামীণ নারীদের শ্রম এবং আয়েরও একটি মাধ্যম।

কিন্তু বিদ্যুৎচালিত ধান ভাঙার মেশিন আসার পর দৃশ্যপট দ্রুত বদলে যায়। মেশিনে অল্প সময়ে বেশি ধান ভাঙা যায়, শ্রমও লাগে কম। ব্যস্ত জীবনে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই দ্রুত ও সহজ পদ্ধতির দিকে ঝুঁকেছে। ফলে বাড়ির উঠান থেকে সরে গেছে ঢেঁকি, হারিয়ে গেছে ঢেঁকিঘর। কোথাও পুরোনো ঢেঁকি পড়ে আছে ধুলোমাখা অবস্থায়, কোথাও উইপোকায় খেয়ে ফেলেছে কাঠ, কোথাও আবার তার অস্তিত্বই নেই।

এর সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে ঢেঁকি ছাঁটা চালও। মেশিনে পালিশ করা চকচকে সাদা চালের ভিড়ে ঢেঁকিছাঁটা চাল এখন অনেকটাই দুর্লভ। অথচ ঢেঁকিছাঁটা চালে ধানের কুঁড়া ও পুষ্টিকর স্তর তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।

ঢেঁকিছাটা চালের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) ডা. শামিমা আক্তার বলেন, ঢেঁকিছাঁটা চালে ভিটামিন বি১, বি৩, বি৬, খাদ্যআঁশ, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন ও জিংকসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকে। ধানের কুঁড়া ও পুষ্টিকর স্তর পুরোপুরি বাদ না যাওয়ায় সাধারণ সাদা চালের তুলনায় এতে খাদ্যআঁশ ও কিছু পুষ্টি উপাদান বেশি থাকে। পরিমিত পরিমাণে খেলে হজমশক্তি ভালো রাখা, দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখা এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এটি হৃদ্‌স্বাস্থ্য ও ওজন নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে ঢেঁকির বিলুপ্তি শুধু একটি কৃষিযন্ত্রের হারিয়ে যাওয়া নয়। এর সঙ্গে হারাচ্ছে একটি খাদ্যসংস্কৃতি, নারীর শ্রমের ইতিহাস, লোকগান, ছড়া, পারিবারিক আড্ডা ও গ্রামীণ সামাজিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ঢেঁকি হারিয়ে গেলে হারিয়ে যায় সেই ‘পড়াত-পড়াত’ শব্দ; নিঃশব্দ হয়ে যায় ঢেঁকিঘরের গান।

একসময় বিয়েবাড়িতে পিঠা তৈরির জন্য চাল ভাঙা, নবান্নে নতুন চালের আয়োজন কিংবা শীতের সকালে চিতই-পুলি বানানোর জন্য চালের গুঁড়া করার কাজে ঢেঁকি ছিল অপরিহার্য। এখন সেই জায়গা নিয়েছে বৈদ্যুতিক গ্রাইন্ডার ও আধুনিক মেশিন। সময় বেঁচেছে, শ্রম কমেছে—কিন্তু হারিয়ে গেছে সেই কাজের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সম্মিলিত আনন্দ।

এ কারণেই প্রবীণদের আক্ষেপ শুধু একটি কাঠের যন্ত্রের জন্য নয়; হারিয়ে যাওয়া একটি সময়ের জন্য। যে সময়ে পল্লী মায়েদের কণ্ঠে গান উঠত, ধানের গন্ধে উঠান ভরে যেত, আর ঢেঁকির পাড়ের ছন্দে মিলেমিশে থাকত গ্রামের মানুষের জীবন।

আজ বানিয়াচংয়ের কোনো পুরোনো বাড়ির উঠানে পড়ে থাকা একটি ঢেঁকি হয়তো আর ধান ভাঙে না। তার গায়ে জমেছে ধুলো, কাঠে ধরেছে পোকা। তবু সেটি যেন একটি জীবন্ত ইতিহাস। তার শরীরে লেগে আছে নবান্নের স্মৃতি, নারীর ঘাম, পিঠার গন্ধ, লোকগানের সুর আর অসংখ্য পরিবারের গল্প।

আধুনিকতার অগ্রযাত্রাকে থামানোর প্রশ্ন নেই। মেশিন মানুষের জীবনকে সহজ করেছে, উৎপাদন বাড়িয়েছে, সময় ও শ্রম বাঁচিয়েছে। কিন্তু আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঐতিহ্যের স্মৃতিটুকু সংরক্ষণ করা যায় কি না—প্রশ্নটি এখন সেখানেই।

স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীদের মতে, ঢেঁকিকে আবার প্রতিটি বাড়ির অপরিহার্য যন্ত্রে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে হারিয়ে যাওয়ার আগে ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি সংরক্ষণ করা জরুরি। স্থানীয় জাদুঘর, লোকজ মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢেঁকি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা গেলে নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে—তাদের পূর্বপুরুষেরা কীভাবে পা দিয়ে ধান ভেঙে চাল তৈরি করতেন, কীভাবে শ্রমকে গান আর গল্পের সঙ্গে মিলিয়ে জীবনের উৎসবে পরিণত করতেন।

বানিয়াচংয়ের বাতাসে এখন আর আগের মতো ভেসে আসে না ‘পড়াত-পড়াত’ শব্দ। নতুন ধানের সুবাসে মুখর হয় না প্রতিটি উঠান। বউ-ঝিদের দলবেঁধে ধান ভানার দৃশ্যও এখন কেবল স্মৃতির অংশ।

মেশিনের একটানা শব্দে ঢেকে গেছে কাঠের ঢেঁকির ছন্দ।

তবু কোনো পুরোনো উঠানে পড়ে থাকা ধুলোমাখা ঢেঁকিটি যেন নীরবে বলে যায়—একসময় এই জনপদের রাত জাগত ধানের শব্দে। পল্লী মায়েদের কণ্ঠে উঠত গান। নতুন ধানের সুবাসে ভরে যেত উঠান। পাড়ের পর পাড়ে মিশে যেত হাসি, গল্প আর জীবনের সুখ-দুঃখ।

আজ ঢেঁকি নেই, ঢেঁকিঘর নেই, নেই সেই পাড়ের গান। আছে শুধু স্মৃতি।

‘ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে’—প্রবাদটি হয়তো এখনো টিকে আছে। কিন্তু বানিয়াচংয়ের মাটিতে সেই ঢেঁকিই যদি একদিন আর না থাকে, তবে প্রবাদটিও হয়তো নতুন প্রজন্মের কাছে কেবল বইয়ের পাতায় পড়ে থাকবে।

‘পড়াত-পড়াত’ শব্দ হয়তো আর ফিরবে না। কিন্তু সেই শব্দের স্মৃতি, সেই কারিগরি জ্ঞান আর সেই গ্রামীণ ঐতিহ্য যেন হারিয়ে না যায়—এটাই এখন সময়ের দাবি।

গ্যাস-জ্বালানি সংকটের জন্য গত সরকারকে দায়ী করে স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ
গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের জন্য বিগত সরকারের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নীতিকে দায়ী করে পিরোজপুরে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। একই সঙ্গে সংকটকে পুঁজি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের অপচেষ্টা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেল তিনটায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পিরোজপুর বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। পরে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন নেতাকর্মীরা। পিরোজপুর সদর উপজেলা ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাতুব্বর। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মনি, সদস্যসচিব তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাদিম শেখ, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাদিম মল্লিক, সদস্যসচিব আহসান দরানি, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল ইসলাম তুহিন, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ রায়হান ও প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক সবুজ খানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিতে নেতারা বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এবং বিগত সরকারের ভুল অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নীতির কারণে দেশে গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন। এ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বক্তারা আরও বলেন, কৃষি উৎপাদন ও অর্থনীতি সচল রাখতে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা জরুরি। মজুতদারি ও অতিরিক্ত মুনাফা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ সফল করতে জনগণকে সচেতন ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।
গ্যাস-জ্বালানি সংকটের জন্য গত সরকারকে দায়ী করে স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ
ময়মনসিংহে ১১ উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন এমপি ওয়াহাব
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার গ্রামীন সড়ক ও প্রতিষ্ঠানের ১১টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। এ সময় উন্নয়নভোগী এলাকাবাসী সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সদর উপজেলার চরসিরতা ও পরানগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে এসব প্রকল্প উদ্বোধন করেন তিনি। প্রকল্পগুলো হলো- কোনাপাড়া রফিকুলের বাড়ী হতে ঈওগাহ মাঠ পর্যন্ত সড়ক সংস্কার, চরখরিচা ইদগাহ মাঠ হাত পীরবাড়ী সড়ক ও কালভার্ট সংস্কার, খাজা মাঈন উদ্দিনের বাড়ী হইতে আজিজুল হক সাহেবের বাড়ী মেইন রাস্তা সংস্কার, সিরতা বাজারের দক্ষিন পাড়া রাস্তা সংস্কার, চরভাবানীপুর পশ্চিমপাড়া মসজিদ হতে মাহবুব আলমের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, সিরতা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্রীদের নামাজ খানা নির্মাণ, খালেরপার হতে কইট্রার মোড়ের রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ, চরখরিচা আইন উদ্দীনের বাড়ীর পাকা রাস্তা হাফ সলিং, জামিয়া শাহমুদিয়া চরখরিচা মাদরাসার আসবাবপত্র সংস্কার, চরখরিচা মেইন রোড থেকে মামুনের বাড়ী রাস্তা সংস্কার এবং চরসিরতা হাজী সুলতান মহিলা মাদরাসা পাকা রাস্তা হইতে দক্ষিণ পাড়া জামে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা সলিং। এদিকে, উদ্বোধন কর্মসূচি শেষে বিকালে চরসিরতা বাজারে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। এ সময় তিনি বলেন, একটি চক্র দেশে ও বিদেশে বসে যোগসাজসে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাই আসন্ন দুর্গাপূজায় সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, কেউ যেন কোনভাবে পূজামন্ডপে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। কারণ যে কোন ধর্মীয় আচার, অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। এজন্য প্রতিটি এলাকার র্পূজামন্ডপে বিএনপির নেতাকর্মীদের নজরদারি রাখতে হবে।’  এসব কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালি বিএনপির আহবায়ক হেলাল আহম্মেদ, সদস্য সচিব আতাহারুল ইসলাম বুলবুল, জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক সাব্বির আহম্মেদ শামীমসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ময়মনসিংহে ১১ উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন এমপি ওয়াহাব
সিলেটে পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ
ঢাকের বাদ্য, কাঁসর ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে সিলেটের পূজামণ্ডপগুলো। ফুল, ধূপ ও আগরবাতির সুগন্ধে সৃষ্টি হয়েছে এক আনন্দঘন পরিবেশ। দেবী দুর্গার আগমনকে ঘিরে সিলেটজুড়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। মণ্ডপগুলো সাজানো হয়েছে নানা রঙের আলোকসজ্জা ও দৃষ্টিনন্দন সাজে। পূজার আনন্দ ভাগ করে নিতে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা মণ্ডপে ভিড় করছেন। তাঁরা দেবীর কাছে প্রার্থনা করছেন এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করছেন। সিলেট নগরের বিভিন্ন মন্দির ও সার্বজনীন পূজামণ্ডপে চলছে ধর্মীয় সংগীত, পূজা-অর্চনা ও নানা আয়োজন। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও উৎসবকে ঘিরে বিরাজ করছে আনন্দ-উদ্দীপনা। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। দুর্গাপূজায় নিরাপত্তার চাদরে সিলেট :  এদকি, সিলেট জেলা পুলিশের আওতাধীন ১১ টি উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে  নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।  প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সিলেট জেলা পুলিশের আওতাধীন ১১ টি উপজেলায় ৪৭১ টি পূজা মন্ডপ রয়েছে।  এ সকল পূজা মন্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে  মন্ডপের গুরুত্ব অনুযায়ী পুলিশ ফোর্স মোতায়ন করা হয়েছে।  মন্ডপ ও তার আশেপাশে এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত  করতে থানা এলেকায় নিয়মিত মোবাইল টিমের পাশাপাশি মন্ডপভিত্তিক ৯০ টি মোবাইল টিম গঠন করা হয়েছে, যারা নিয়মিত মন্ডপ পরিদর্শন করছে। থানা এলাকায় অনাকাঙ্খিত ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালিত হচ্ছে।  যে সকল মণ্ডপে জনসমাগম অধিক সেই সকল মন্ডপসমূহ চিহ্নিত করে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে যেন মানুষ ও যান চলাচল নির্বিঘ্ন থাকে।  সাধারণ পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়ন রয়েছে যারা যেকোনো নাশকতা বা অপতৎপরতা রোধে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যেকোনো দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত সাড়া দান করতে প্রতিটি থানায় গঠন করা হয়েছে কুইক রেসপন্স টিম। তাছাড়া পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য পুলিশ লাইন্সসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্যান্ডবাই টিম হিসেবে রাখা হয়েছে যেন যেকোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। সিলেট জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো: যাবের সাদেক শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে সকল পুলিশ সদস্যকে পশোদারত্বিরে সাথে দায়ত্বি পালন করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি আইন-শৃঙ্খলা সমুন্নত রেখে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ সুষ্ঠু ভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।  
সিলেটে পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ
কচা নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় কচা নদীর চরখালী মোহনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন রোধ এবং নদীতীরবর্তী বসতভিটা ও জনপদ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ কর্মসূচি একপর্যায়ে অবরোধে রূপ নিলে প্রায় দেড় ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। পরে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলার চরখালী ফেরিঘাট এলাকায় নদীতীরবর্তী ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মো. আল-আমিন হোসেন, মো. মনির হোসেন ও মো. ওহাব মাঝিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বক্তারা বলেন, চরখালী মোহনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীতীরবর্তী এলাকার ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও জনপদ ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীভাঙন আরও তীব্র হতে পারে। এতে বহু পরিবার নিজেদের বসতভিটা ও সহায়-সম্বল হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। তাঁরা অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নদীতীরবর্তী জনপদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন। মানববন্ধন চলাকালে একপর্যায়ে কর্মসূচি অবরোধে রূপ নেয়। এতে সড়ক ও নৌপথে চলাচল ব্যাহত হয় এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। পরে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কচা নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
গাজীপুরে ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সেলিম ভূঁইয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছা
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ক্রীড়া শাখার আওতাধীন গাজীপুর সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাত (৭) সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মো. সেলিম ভূঁইয়া।  তাঁর এ সদস্য পদ পাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করে ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সদর উপজেলার নয়াপাড়া  ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের মাঠে তাঁকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন, তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়াচর্চার প্রসারে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে সেলিম ভূঁইয়ার সাফল্য কামনা করে দোয়ার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি গাজীপুর সদর উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনকে আরও এগিয়ে নিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান খান এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন   বৃহত্তর মির্জাপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সদর উদ্দিন শেখ খোকন, ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের সহ-সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবলুু আহমেদ, সদস্য আলমগীর হোসেন খান, কাজল আহমেদ রিয়াজ, নুরুদ্দিন খন্দকার, আহসানুল্লাহ সরকার ফাহিম প্রমুখ। এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান, গাজীপুর সদর উপজেলা জেটেব এর সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হোসেন সরকার, গাজীপুর জেলার সাবেক ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজল আহমেদ রিয়াজ, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান উৎসব, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ দপ্তর সম্পাদক রাজীব মোল্লা সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।  
গাজীপুরে ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সেলিম ভূঁইয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছা
আরও পড়ুন
মাটির প্রতিমায় প্রাণের ছোঁয়া, দুর্গোৎসবের রঙে সাজছে বানিয়াচং
৪৯তম বিসিএসে গেজেটেড হলেন বানিয়াচংয়ের আবু আনাস সিদ্দিকী বাঁধন
X