
যশোরের অভয়নগরে এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। উপজেলার হাট-বাজারগুলো ঘুরে কোথাও সিলিন্ডার মিলছেনা। যা পাওয়া যাচ্ছে তাও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল ও মূল্য অনেক বেশি।
রাজিউর রহমান নওয়াপাড়া শহরে থাকেন। কোথাও গ্যাস না পাওয়াতে তিনি ৪ দিন রাইস কুকারে রান্না আলুভত্তা ভাত খেয়ে কাটিয়েছেন। অবশেষে বাধ্য হয়ে ইগনিশন ইলেকট্রিক চুলা কিনতে বাধ্য হয়েছেন।
উপজেলার শহরে-গ্রামে একই অবস্থা। কোথাও সিলিন্ডার মিলছেনা। যা পাওয়া যাচ্ছে তা সরকার নির্ধারিত মূল্যের (১৫৮৫টাকা) চেয়ে কয়েকগুন বেশি।
ভাঙ্গাগেট-মহাকাল এলাকার মুদি দোকান মালিক স্বপন শীল বলেন, সরবরাহ মারাত্মক কম। ওমেরা, বসুন্ধরা, সিটি ইত্যাদি সিলিন্ডার প্রায় একই দামে ২ হাজার বা ২ হাজার ২ শত টাকা মূল্যে বিক্রয় হচ্ছে। নওয়াপাড়া বড় বাজার, নূরবাগ কাঁচা বাজার গলিতে একই অবস্থা, সিলিন্ডার নেই, আর থাকলেও নির্ধারিত মূল্য থেকে অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
স্টেশন বাজারের পাশে ভৈরব ফুয়েলে বসুন্ধরা গ্যাস সিলিন্ডার চাইলে তিনি জানান কোন গ্যাস নেই। মডেল স্কুল রোডে জিসুবহান প্রতিষ্ঠানে একই দৃশ্য। অথচ ২৫০০/২৬০০ টাকা দিলেই মিলছে গ্যাস সিলিন্ডার।
মূল্য বেশি এবং সরবরাহ না থাকায় সিলিন্ডার র্নিভর থাকায় উপজেলা জুড়ে নাগরিক জীবনে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। এছাড়া মানুষ গ্যাস সংকটে বিকল্প হিসাবে ইগনিটর বা বৈদ্যুতিক চুলার দিকে ঝুকছে। ফলে, বিদ্যুৎ সংকট আরোও ঘনীভূত হচ্ছে।
সাধারণ গ্রাহকদের মতে, বিইআরসির নির্ধারিত দামে কোথাও এলপিজি বিক্রি হচ্ছে না। এতে ভোক্তাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এলপিজি খাতের অনিয়ম ঠেকাতে বিইআরসি, প্রতিযোগিতা কমিশন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন ।
নওয়াপাড়া পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালাউদ্দিন দীপু বলেন, অভয় নগরে কোথাও গ্যাস সংকট নেই, কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনী ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।




