
৪৮ ঘন্টার মধ্যে শাস্তিমূলক বদলির দাবি জানিয়ে একদল ঠিকাদার কর্তৃক মানববন্ধন শেষে ডিসির কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঊর্ধতণ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ প্রেরণের বিপরীতে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা খন্দকারের পাল্টা অভিযোগে ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে যাওয়ায় মৌলভীবাজার জেলায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
গত বৃহষ্পতিবার মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সম্মুখে অনুষ্টিত মানববন্ধনে একদল ঠিকাদার অভিযোগ করেছিলেন “দুর্নীতিবাজ ও ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা খন্দকার কর্তৃক জেলা পরিষদের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কাজে ঠিকাদারদের হয়রানি করেন ও বিল আটকে রাখেন। অভিযোগকারীরা সিইও শামীমা খন্দকারের বিরুদ্ধে কমিশন দাবি করে কাজের ফাইল আটকে রাখা এবং প্রকল্পের বিভিন্ন বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ করেছিলেন”।
বিপরীতে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা খন্দকার জানান “ঠিকাদার তোফায়েল আহমদ কর্তৃক মৌলভীবাজার রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভবন নির্মাণ প্রকল্পটিতে আর্থিক অনুমোদন নেই এমন কিছু কাজের বিল নেয়ার জন্য চেষ্টা করেছিলেন! আমি (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা খন্দকার) আর্থিক অনুমোদন না থাকা কিছু কাজের বিল প্রদান না করায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঠিকাদার তোফায়েল আহমদের নেতৃত্বে মানববন্ধন করা হয়েছে। তোফায়েল আহমদ ফ্যাসিবাদী আমলের নেতাদের সঙ্গে জয়েন্ট ভেঞ্চারে কাধেঁ কাধঁ মিলিয়ে জুড়ী ও শ্রীমঙ্গল এবং কমলগঞ্জ উপজেলায় জেলা পরিষদ কর্তৃক বাস্তবায়িত ৪-তলা বিশিষ্ট ৩টি আধুনিক ডাকবাংলোর কাজ করেছিলেন। জুড়ী উপজেলায় বাস্তবায়িত ৪-তলা বিশিষ্ট আধুনিক ডাকবাংলোটির কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের করেছিলেন। অত্যন্ত নিম্নমানের এসি সরবরাহ করেছিলেন এবং বৈদ্যুতিক লাইনসহ অন্যান্য কাজ ছিল অতি নিম্নমানের। সিইও শামীমা খন্দকার আরও বলেন “কমলগঞ্জ উপজেলার ডাকবাংলোর কাজটি পেয়েছিলেন ফ্যাসিবাদী আমলের মন্ত্রী শাহাবউদ্দিনের আপন ভাগ্নে ও বড়লেখা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সুয়েব আহমদ। মন্ত্রীর ভাগ্নে সুয়েবের সাথে পার্টনারশিপে তোফায়েল আহমদ কাজটি করেছিলেন। ফ্যাসিবাদী আমলে তোফায়েল আহমদের কারনে বড়-বড় আওয়ামিলীগের কর্মীরাই কোন ঠিকাদারি কাজ করতে পারতো না! মূলত তোফায়েল ফ্যাসিবাদের প্রকৃত দোসর”।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অভিযোগের জবাবে ঠিকাদার তোফায়েল আহমদ বলেন “মানববন্ধন এটা সকলের সম্মিলিত বিষয়, আমার একার নয়। আমি পুরাতন ঠিকাদার, প্রায় ২৫ বছর ধরে ঠিকাদারি করছি। আমি (তোফায়েল) অন্যায়ভাবে কোন আবদার করার মানুষ নয় এবং কখনো অন্যায় আবদার করি না। অফিসিয়ালি সিস্টেম মোতাবেক যা করার তাই করেছি। বেচারি (সিইও শামীমা খন্দকার) আশ্বাস দিয়েও বিল দেন নি! বেচারি (সিইও শামীমা খন্দকার) আমার কাছে ৫% টাকা দাবি করেছিলেন। আমি (ঠিকাদার তোফায়েল) বলেছিলাম “লসের কাজে আমি কিভাবে ৫% টাকা দেব”? শেষে ৩% টাকা দেয়ার জন্য সাব্যস্থ হয়েছিল। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা আমার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন, আমি উনার নাম জানি না”।
ঠিকাদার তোফায়েল আরও বলেন “অনলাইন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ২ নাম্বারি করার কোন সুযোগ নেই। আমি পেশাদার ঠিকাদার হিসেবে ব্যবসায়ে আওয়ামিলীগ - বিএনপি বলে কিছু নেই। আমি ১-জন ঠিকাদার হিসেবে কাজে অংশ নিয়েছিলাম। ব্যবসা - বাণিজ্যে অন্য হিসাব। আমি (তোফায়েল) বিএনপির ১-জন কর্মী”।
তোফায়েলের অভিযোগের বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আশরাফ হোসেন জানান “রেডক্রিসেন্টের ফাইলের বিষয়ে তোফায়েল সাহেবের সাথে কোন কথা হয়নি। সে আমার কক্ষে আসেনি, আমিও তাঁর সাথে আলাদাভাবে কোনদিন কোন কথাও বলি নাই। আমি নতুন গেছি, এ বিষয়ে এতকিছু জানিনা। উনি (তোফায়েল) টাকা দেয়ার কথা যা বলছে সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি কখনো টাকা নেইনি-এসব জানিও না”।
জেলা পরিষদের সিইও শামীমা খন্দকার বলেন “ঠিকাদার তোফায়েলের অন্যায় আবদার মেনে না নেয়ায় এবং অনুমোদনহীন বিল না দেয়ায় আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ১০০% মানসম্পন্ন কাজ না করলে কিভাবে বিল দেয়া হবে? আমি ৫% টাকা দাবি করলে উনি প্রমাণ দিচ্ছে না কেন”?



