
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলীরটেক ইউনিয়নের ৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর মাঝে পরিবেশবান্ধব পানির বোতল বিতরণ করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, প্লাস্টিক দূষণ হ্রাস এবং শিশুদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে সময়োপযোগী এ উদ্দ্যেগ নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার এস এম ফয়েজ উদ্দিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির শিক্ষার্থীদের পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় শুধু অবকাঠামোগত উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; নতুন প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশবান্ধব মানসিকতা ও অভ্যাস গড়ে তোলা সমান গুরুত্বপূর্ণ।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অতিরিক্ত তাপমাত্রা, তাপপ্রবাহ, বন্যা ও অন্যান্য জলবায়ুজনিত ঝুঁকি শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত পানি পান নিশ্চিত করার পাশাপাশি একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বোতলের পরিবর্তে পুনর্ব্যবহারযোগ্য পরিবেশবান্ধব বোতল ব্যবহারে উৎসাহিত করা এ উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
এতে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত নিজের পানির বোতল ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয় থেকেই প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো, পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা লাভ করবে। বিশেষ করে শিশুদের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে পরিবেশবান্ধব আচরণের ইতিবাচক প্রভাব ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত নির্দেশনাতেও প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ, পুনঃচক্রায়ন ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট অভ্যাস ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশগত পরিবর্তন আনতে পারে। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ শুধু পানির বোতল বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, প্লাস্টিক দূষণ হ্রাস এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জলবায়ু-সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার একটি বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ।
বিদ্যালয় ভিত্তিক এমন উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরি করার পাশাপাশি একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, জলবায়ু ও সহনশীল শক্তিশালী সমাজ গড়ে তোলার ভিত্তি হবে।




