
এলজিপি সিলিন্ডার গ্যাসের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং খড়ি-কাঠের সংকটের এই সময়ে সূদুর গ্রামাঞ্চলে রান্নার বিকল্প ও সাশ্রয়ী মাধ্যম হিসাবে টিকে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী শুকনো গোবর বা ঘুঁটে ও লাকড়ি। পরিবেশ বান্ধব এবং সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি এই জ্বালানি গ্রামীণ গৃহবধুদের কাছে এখনও উন্নতম জনপ্রিয় পছন্দ।
সরেজমিনে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, কাক ডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে ব্যস্ত হয়ে পড়ে গ্রামীণ নারীরা। গোয়াল ঘর থেকে গোবর সংগ্রহ করে এর সাথে ধানের তুষ (কুঁড়া) বা বিচালি মিশিয়ে তৈরী করে বিশেষ এই লাকড়ি। কেউ কেউ পাটকাঠি বা বাঁশের কঞ্চিতে গোবর মেখে লম্বা আকৃতির লাকড়ি বানায়। আবার কেউ কেউ হাতের তালুতে শুধু কাঁচা গোবর গোল বা চেপ্টা চাকতির মতো তৈরি করে রোদে শুকায়। পাঁচ থেকে ছয় দিন কড়া রোদে শুকানোর পর এগুলো রান্নার জ¦ালানীর উপযোগী হয়। তবে সনাতন ধর্মালম্বীর লোকজন বসবাসরত গ্রামে এই ঘুঁটের প্রচলন বেশি দেখা যায়।
উপজেলার ফেঁপিড়া গ্রামে বিশাখা রানী ও নিয়তি রানী জানান এখন বাজারে সবকিছুর দাম চড়া। সিলিন্ডার গ্যাস কেনার সামর্থ্য আমাদের মতো সাধারণ মানুষের নেই। নিজ বাড়ির গোবরের ঘুঁটেতে রান্না করলে কোন খরচ নেই। আর ধোঁয়াও তুলনামূলক কম হয়। ভাতের চালও খুব সুন্দর ফোটে।
পরিবেশবিদ ও কৃষি গবেষকদের মতে, শুকনো গোবর একটি নবায়নযোগ্য এবং কার্বন-নিউট্রাল জ্বালানী উৎস। এটি পোড়ালে ক্ষতিকর রাসায়নিক গ্যাস নির্গত হয় না এবং এর অবশিষ্ট ছাই পরবর্তীতে জমিতে উৎকৃষ্ট জৈবসার হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ক্ষতিকারক প্লাস্টিক বা টায়ার পোড়ানোর চেয়ে গোবরের ঘুঁটে ব্যবহার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অনেক বেশি কার্যকর।
বর্তমানে গ্রামাঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে এই শুকনো গোবর বা ঘুঁটে ও লাকড়ি বাণিজ্যিকভাবেও বিক্রি হচ্ছে। অনেকে গোবরের লাকড়ি তৈরি ও বিক্রি করে বাড়তি আয়ের পথ খুঁজে পেয়েছেন। যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে গেলেও কার্যকারিতা ও সাশ্রয়ী গুণের কারণে গোবরের এই প্রাকৃতিক জ¦ালানী গ্রামীণ রান্না ঘরে আজও সগৌরবে টিকে রয়েছে।




