
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় স্ত্রী’র আত্নহত্যার ঘটনার মাত্র ১০দিন পর বিষপানে স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোর ভোরে উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের মঈনপুর গ্রামে এমন হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনার খবরে পুরো উপজেলা জুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
এদিকে, মা-বাবাকে হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় শোকের সাগরে ভাসছে তিনটি অবুঝ শিশু।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পেশায় দিনমজুর নিহত তোফাজ্জল হোসেনের মূল বাড়ি উপজেলার উত্তরকূর্শী গ্রামে হলেও বিয়ের পর থেকে তিনি মঈনপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়ির এলাকায় স্থায়ী ভাবে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে নিয়ে বসবাস করছিলেন বলে জানা গেছে।
তোফাজ্জলের সংসারে ৭ বছরের এক ছেলে দেড় বছরের এক ও ৬ মাস বয়সী তিনটি সন্তান রয়েছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে মঈনপুর গ্রামে নিজ বসতঘরের তীরের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে দিনমজুর তোফাজ্জলের স্ত্রী তুলনা বেগমের মৃত্যু হয়। তবে কি কারনে ওই গৃহবধু আত্নহত্যার পথ বেঁেজ নিলেন এবিষয়ে কিছুই জানা যায়নি। গত রোববার মধ্যরাতে গৃহবধূ তুলনার স্বামী তোফাজ্জল হোসেন কীটনাশক পান করেন।
তার অবস্থার অবনতি হলে প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি সদস্যের সহায়তায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে সোমবার ভোরে কর্তৃব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। বাবা-মাকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এই দম্পতির তিন শিশু সন্তান। ছোট শিশু সন্তানদের কান্নায় হতবম্ব স্বজন ও এলাকাবাসী।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আলাল মিয়া বলেন, ঘটনার বিষয়ে জাহিদপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক আব্দুর রহমানকে তাৎক্ষণিক জানানো হয়েছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না শেষে পরবর্তীতে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।




