
নগরীতে কিশোর গ্যাং, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও মাদক ব্যবসা ঠেকাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)।
রোববার রাত থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এদিকে, সিলেট মহানগরীতে আইন- শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) ২৪ ঘণ্টার অভিযানে ৪৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে ট্রাফিক বিভাগের অভিযানে ১৫২টি যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এসএমপি সূত্রে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রোধেও নজরদারি জোরদার
করা হয়েছে। রাতে অকারণে গলি বা মোড়ে কিশোরদের আড্ডা দেখলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার রাত ১০টার দিকে নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
এসএমপি জানায়, নিয়মিত মামলা ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, মাদক ব্যবসায়ী, ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত এবং মেট্রো অধ্যাদেশ অনুযায়ী গ্রেপ্তারযোগ্য ব্যক্তিদের ওপর বিশেষ নজর রাখা হবে। পাশাপাশি বখাটে ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করবে পুলিশের পৃথক টিম। প্রতিটি টিমে প্রায় ১০ জন করে সদস্য থাকবেন। সন্দেহজনক ব্যক্তিদের তল্লাশি ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা হবে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) এসএমপির গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নিয়মিত মামলা ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ মাদক ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত
মোট ৪৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে নেশাজাতীয় ৯০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ৫ কেজি ৫০ গ্রাম
গাঁজা ও ৩৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে ট্রাফিক বিভাগের পৃথক অভিযানে ১৫২টি যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬৯টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা এবং ৮৩টি যানবাহন আটক করা হয়েছে।
গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে এসএমপি। নিরাপদ সিলেট গড়ে তুলতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সিলেটে ঘটে যাওয়া ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের বেশিরভাগের সঙ্গে কিশোর ও তরুণদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ মানুষ যেন রাতে নির্বিঘ্নে
চলাচল করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এটি প্রতিদিন চালানো হবে। তিনি আরও বলেন, যাদের রাস্তাঘাটে প্রয়োজনীয় কাজ নেই, তারা যেন রাতে অকারণে অলিতে-গলিতে বা মোড়ে আড্ডা না দেন। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




