
শিক্ষকের সঙ্গে অসৌজন্য আচরণ ও শ্রেনিকক্ষে কথা বলায় শাস্তি হিসেবে অষ্টম শ্রেনির দুই শিক্ষার্থীর গালে ‘গণহারে থাপ্পড়’ দেওয়ার নির্দেশ দেন শিক্ষক। আর এই থাপ্পড় দিতে হয়েছে তাদের ৭২ সহপাঠীকে। লজ্জা ও অস্বস্তিতে কেউ আস্তে থাপ্পড় দিলে তাকে জোরে থাপ্পড় দিতে বাধ্য করেন ওই শিক্ষক।
গত বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার রাণী নীহার দেবী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম নাঈমুল হক।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জানালে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রানী নিহার দেবী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মেহেরাজ জিসান নামের ৮ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের বাহিরে শিক্ষকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং অপর শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত ভিন্ন শ্রেনির এক ছেলে শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলার অভিযোগে গত বুধবার শ্রেণি কক্ষে দুই শিক্ষার্থীকে সহপাঠীদের চড়-থাপ্পরের নির্দেশ দেন শিক্ষক নাঈমুল হক।
পরে নিজে দাড়িয়ে থেকে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের চড়-থাপ্পড়ের দেয়া নিশ্চিত করেন। এতে কেউ অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে মারধরের হুমকি দেন।
ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘আমার মেয়ে বেয়াদবি বা অপরাধ করলে শিক্ষক নিজেই বিচার করবেন। সহপাঠী দিয়ে চড়-থাপ্পড়ে শায়েস্তা করতে পারেন? এতে আমার মেয়ে চরম অপমান বোধ করেছে। ভাগ্যিস মেয়েটি কষ্ট পেলেও অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো দুর্ঘটনা না ঘটিয়ে হজম করেছে। আমি এর বিচার চাই।’
ঘটনা তদন্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক এবং উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজারকে সদস্যসচিব করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটি আজ বিদ্যালয়ে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে।
উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার রেহানা মোস্তফা বলেন, শিক্ষকের নির্দেশে ৭২ সহপাঠীর মাধ্যমে দুই শিক্ষার্থীকে চড়-থাপ্পড় দেওয়ার অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।




