
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় রেকর্ডিও রাস্তার একটি কাঁঠাল গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়নের মিশনপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিশনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাজী মনসুর আলী রাস্তার ধারে থাকা একটি বড় কাঁঠাল গাছ একই ইউনিয়নের প্রধানপাড়া গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী সপিউল ইসলামের ছেলে রশিদ ইসলামের কাছে বিক্রি করেন। বিকেলে গাছটি কাটার পর স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে বাধা দেন। জনগণের বাধার মুখে ক্রেতা ও বিক্রেতা তাৎক্ষণিকভাবে গাছটি ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, গাছটি তেপুকুরিয়া বাজারের বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়ন সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের সামনে রাখা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাজী মনসুর আলী এবারই প্রথম নন, এর আগেও এলাকা থেকে প্রায় ২০টি সরকারি ও রেকর্ডিও রাস্তার গাছ অবৈধভাবে কেটে বিক্রি করেছিলেন। সে সময় বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নির্দেশে স্থানীয় উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। পূর্বের শাস্তির পরও আবারও গাছ বিক্রির ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, গাছ কাটার খবর পেয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা অনুসন্ধানে বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়ন সমাজকল্যাণ ফেডারেশনে যান। সেখানে গাছটির অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে ফেডারেশনের সভাপতি শাহিনুর ইসলাম ওরফে ছুটু সংবাদকর্মীদের ওপর চড়াও হন এবং চরম অসদাচরণ করেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফেডারেশনের সভাপতি শাহিনুর ইসলাম ছুটু গাছ ক্রেতা রশিদ ইসলামের আপন ভাই। ভাইয়ের অবৈধভাবে কেনা গাছ আড়াল করতেই তিনি সাংবাদিকদের সাথে এমন আচরণ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত বিক্রেতা হাজী মনসুর আলী ও ক্রেতা রশিদ ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহেব আলী বলেন, "রাস্তার গাছ কাটার অভিযোগ পাওয়ার পরপরই স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) ও গ্রাম পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি বা রেকর্ডিও রাস্তার গাছ এভাবে ব্যক্তিস্বার্থে বিক্রি ও কাটা সম্পূর্ণ বেআইনি। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিক্রেতা হাজী মনসুর আলী, ক্রেতা রশিদ এবং সাংবাদিকদের সাথে অসদাচরণকারী শাহিনুর ইসলামের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কে অবগত করা হয়েছে।




