
খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার যোগ্যাছোলা-বাটনাতলী সংযোগ সড়কের যোগ্যাছোলা-আছাদতলী-ছদুরখীল অংশে দীর্ঘ ৪০ বছরের ভোগান্তির অবসান হতে শুরু করেছে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বরাদ্দে প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক পিচঢালাই করে পাকাকরণ করা হয়েছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে অন্তত ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের মধ্যে।
স্থানীয়রা জানান, যোগ্যাছোলা-বাটনাতলী সংযোগ সড়কের ছদুরখীল, ঘোরখানা, আছাদতলী, তুলাবিল, বড়বিল, খাড়িছড়াসহ আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে আসছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে কাদামাটি ও পানি জমে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ত। এতে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো।
বিশেষ করে কৃষিনির্ভর এই এলাকার উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তেন কৃষকরা। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ত। অনেক সময় কাঁচা সড়কে যানবাহন চলাচল করতে না পারায় মাথায় কিংবা কাঁধে করে কৃষিপণ্য বাজারে নিতে হতো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৯ সালে তৎকালীন সরকার সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও পরবর্তীতে বরাদ্দের অর্থ তুলে নেওয়ায় কাজ আর বাস্তবায়িত হয়নি। এরপর প্রায় ছয় বছর ধরে সড়কটির দুরবস্থা আরও প্রকট হয়। অবশেষে সম্প্রতি এলজিইডির উদ্যোগে দেড় কিলোমিটার অংশ পাকা হওয়ায় দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার এম. আমিরুল ইসলাম রকি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কটি আমাদের জন্য দুর্ভোগের কারণ ছিল। বর্ষাকালে কাদা ও পানি জমে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ত। এখন সড়কটি পাকা হওয়ায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও কৃষকসহ সবাই উপকৃত হচ্ছেন।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মান্নান বলেন, সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া থেকে শুরু করে বাজারে যাতায়াত—সব ক্ষেত্রেই ভোগান্তি ছিল। বিশেষ করে বর্ষাকালে দুর্ভোগের মাত্রা বেড়ে যেত। সড়কটি পাকা হওয়ায় মানুষের চলাচলে স্বস্তি এসেছে।
আছাদতলী এলাকার বাসিন্দা কৃষক মো. গাজী মিয়া বলেন, এই এলাকার মানুষের প্রধান আয়ের উৎস কৃষি। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অনেক কষ্ট হতো। এখন পাকা সড়ক হওয়ায় সহজে কৃষিপণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে এবং পরিবহন খরচও কমবে বলে আশা করছি।
খাগড়াছড়ি জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার রহমান মুঠোফোনে জানান, প্রায় ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে দেড় কিলোমিটার সড়ক পাকা করা হয়েছে। প্রোমা এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করেছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বাকি অংশের সড়কও দ্রুত সংস্কার ও পাকাকরণ করে দীর্ঘদিনের এই যোগাযোগ সংকট পুরোপুরি দূর করা হবে। পাশাপাশি সড়কের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।




