
একসময় শৈশব মানেই ছিল হারিকেনের আলো, গাছতলার আড্ডা, নদীতে নৌকায় চড়া, মাটির কলসির ঠান্ডা পানি আর শীতের পিঠা। সামান্যতেই আনন্দ খুঁজে নেওয়া সেই দিনগুলো এখন অনেকের কাছেই শুধুই স্মৃতি।
সন্ধ্যা হলেই হারিকেনের আলোয় বই-খাতা নিয়ে পড়তে বসত শিশুরা। বিদ্যুৎ, স্মার্টফোন কিংবা ইন্টারনেটের বালাই ছিল না। বিকেলে গাছের নিচে বসে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প, খেলাধুলা আর হাসি-আনন্দেই কেটে যেত সময়।
নদী পারাপারে ছোট নৌকাই ছিল ভরসা। নৌকার দুলুনি আর নদীর ঢেউ উপভোগ করতে করতে পার হতো পথ। গরমের দিনে মাটির কলসির ঠান্ডা পানি ছিল তৃষ্ণা মেটানোর অন্যতম উপায়। হাটের দিন ছিল পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা ও গল্পেরও উপলক্ষ।
রাতে কুপি জ্বেলে পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে গল্প করা ছিল অনেক ঘরের নিয়মিত দৃশ্য। দূরের স্বজনের চিঠির অপেক্ষায় দিন গুনতেন অনেকে। শীত এলে বাড়িতে বাড়িতে পিঠা তৈরির ধুম পড়ত। গোলাভরা ধান, মাটির ঘর আর সন্ধ্যার আজানের ধ্বনিতে গ্রামজীবনে ছিল এক ধরনের প্রশান্তি।
প্রবীণ শিক্ষক শাহাবউদ্দিন বলেন, “আমাদের শৈশবে সুযোগ-সুবিধা কম ছিল, কিন্তু আনন্দের কমতি ছিল না। হারিকেনের আলোয় পড়েছি, গাছতলায় আড্ডা দিয়েছি। এখন প্রযুক্তি জীবন সহজ করেছে, তবে সেই দিনের আনন্দ আর ফিরে আসবে না।”
সময় বদলেছে। হারিকেনের জায়গা নিয়েছে বিদ্যুৎ, চিঠির জায়গা নিয়েছে মুঠোফোন। গাছতলার আড্ডা ও মাঠের খেলাধুলার জায়গা অনেকটাই দখল করেছে মোবাইলের পর্দা।
তবু স্মৃতিতে বেঁচে আছে সেই শৈশব। হারিকেনের মৃদু আলো, গাছতলার গল্প, নৌকার দুলুনি কিংবা মাটির কলসির ঠান্ডা পানি—সাধারণ সেই মুহূর্তগুলোই যেন ছিল জীবনের সবচেয়ে অসাধারণ আনন্দ।




