
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের ইউনিভার্সেল মেনসওয়্যার লিমিটেড নামের পোশাক কারখানায় শনিবার অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ভূত আতঙ্কে রোববার সকালে আরও কয়েকজন নারী শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
কর্মরত শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কারখানার ভেতরে ভূতের আনাগোনার প্রভাবে এমন ঘটনা ঘটছে। তবে বেপজা কর্তৃপক্ষ ও কারখানাটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করে এমন কোনো বিষয় খুঁজে পাননি।
গতকাল শনিবার ছুটির পর রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে শ্রমিকরা কর্মস্থলে যাওয়ার পর এ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যার পর ইউনিভার্সেল মেনসওয়্যার লিমিটেডের নতুন ভবনের তৃতীয় ও দ্বিতীয় তলায় কর্মরত নারী শ্রমিকরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অসুস্থ শ্রমিকের সংখ্যা অর্ধশতাধিক ছাড়িয়ে গেলে নির্ধারিত সময়ের আগেই রাত সাড়ে ৭টায় কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি দিয়ে দেয়। অসুস্থ শ্রমিকদের ইপিজেডের বেপজা মেডিকেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে রোববার সকালে শ্রমিকরা পুনরায় কর্মস্থলে এলে শনিবারের মতোই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এদিনও বেশ কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে শ্রমিকরা ছোটাছুটি শুরু করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কারখানা কর্তৃপক্ষ এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারখানায় কর্মরত তিনজন শ্রমিক বলেন, রোববার এক নারী শ্রমিক ভূতের উপস্থিতি দেখতে পান। ভূত দেখার পর ওই শ্রমিক ভিন্ন রকম আচরণ শুরু করেন এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ধীরে ধীরে আরও অনেক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কারখানায় কর্মরত একজন পুরুষ শ্রমিক জানান, রোববার সকালে শ্রমিকরা অফিসে এসে কাজ শুরু করার প্রস্তুতিকালে গতকালের মতো একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদিনও অন্তত ৫০ জনের বেশি শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে বেপজা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আজকের জন্য কারখানা ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।
বক্তব্যের জন্য ইউনিভার্সেল মেনসওয়্যার লিমিটেডের কারখানার জিএম বিল্লাল হোসেনের মুঠোফোনে ফোন করা হলে তিনি জানান, আজ প্রায় ৯০ শতাংশ শ্রমিক কর্মস্থলে এসেছিলেন। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আজও ১৫-২০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা আজকের জন্য কারখানা ছুটি দিয়ে দিয়েছি।
শ্রমিকরা ভূত দেখার দাবি করছেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “শ্রমিকরা অনেকে বলছেন, তারা ভূত দেখেছেন। তাদের এ কথা বলা তো আর বন্ধ করতে পারি না। কিন্তু আমরা যারা সচেতন মানুষ, তারা ভূতের বিষয়টি কীভাবে বিশ্বাস করি? পাশাপাশি অসুস্থ হওয়ার ঘটনাও কোনো একটি স্থানে ঘটছে না; পুরো কারখানার কয়েকটি স্থানে ঘটেছে। এছাড়া পুরো ইপিজেডের মধ্যে একমাত্র আমরাই শ্রমিকদের আরামের কথা চিন্তা করে কারখানায় এসি লাগিয়েছি, যাতে গরমে কোনো সমস্যা না হয়। মূলত কী কারণে তারা অসুস্থ হচ্ছেন, সেটি এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।”
আদমজী ইপিজেডের বেপজার অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক নাসরিন জানান, আজও ৫-৭ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আমরা ইডি স্যারসহ কারখানাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। সকাল থেকেই আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। কারখানায় গিয়ে দমবন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা শ্বাসরোধ হওয়ার মতো তেমন কিছু চোখে পড়েনি। শ্রমিকরা ভূতের কথা বলছেন, তবে এটি সচেতন মানুষের বোঝার বিষয়। আসলে এর মূল কারণ নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছি আমরা। পরিস্থিতি বিবেচনায় আজ কারখানাটি বন্ধ রাখা হয়েছে।




