
বরিশাল সদরে থানা হেফাজত থেকে পালিয়েছেন মাদকের আসর থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হাতে আটক পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) দেলোয়ার হোসেন।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানা থেকে পালিয়ে গেলেও বিষয়টি প্রকাশ পায় সন্ধ্যায়।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কড়াপুর এলাকায় মিরাজুল ইসলামের বাড়িতে মাদকের আসর থেকে এয়ারপোর্ট থানার এএসআই দেলোয়ার হোসেন এবং এক নারীসহ চারজনকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
এসময় ওই বাড়ি থেকে মাদকসেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করেন তারা। পরে আটক পুলিশ কর্মকর্তাকে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং ডোপ টেস্টের জন্য এয়ারপোর্ট থানার ওসির হেফাজতে দেয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
আটককৃতরা হলেন, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও খুলনা নগরীর শেরে বাংলা রোডের মো. সাখাওয়াত হোসেন শিকদারের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩৮), বাগেরহাট জেলার ফকিরহাটের ভট্টখামার নোয়াপাড়া এলাকার আবু সাঈদ মোল্লার ছেলে নাহিদ হাসান (২৬), বরিশাল সদর উপজেলার দক্ষিণ কড়াপুর এলাকার মৃত এম এ বারির ছেলে মো. মিরাজুল ইসলাম (৩৪) ও বরিশাল নগরীর কাউনিয়া থানাধীন পলাশপুর এলাকার হেমায়েত গাজীর ছেলে ফাতেমা আক্তার নুরজাত (৩০)।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বরিশাল জেলা গোয়েন্দা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন দক্ষিণ কড়াপুর এলাকায় মিরাজ হাওলাদারের বাড়িতে মাদক কেনাবেচা, সেবন ও আসর বসে।
এমন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টায় ওই বাড়িটি ঘেরাও করা হয়। পরে স্থানীয়দের নিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা ওই বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করে। তবে ঘরের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রাখায় অন্তত ২০ মিনিট বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তাদের।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা জানান, ঘরের ভেতরে প্রবেশ করার পর চারজনকে আটক করা হয় এবং সেখান থেকে বিপুলসংখ্যক মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় আটককৃতদের মধ্যে দেলোয়ার হোসেন নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দেয়। বিষয়টি এয়ারপোর্ট থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে, তার দেলোয়ার হোসেনের পরিচয় নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে যেহেতু মাদকদ্রব্য পাইনি, শুধু মাদক সেবনের সরঞ্জাম পেয়েছি- তাই পুলিশ সদস্য দেলোয়ার হোসেনকে এয়ারপোর্ট থানায় তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই পুলিশ সদস্য ওখানে কেন গিয়েছেন সেটি তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখবেন। আমরা তার ডোপ টেস্ট করার জন্য সুপারিশ করেছি।’
জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ সদস্য দেলোয়ার হোসেন ব্যতিত বাকি তিনজনকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের ডোপ টেস্ট করা হয়েছে। রিপোর্ট পেলে নিয়মানুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’




