
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর পৌর এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও সড়কের বেহাল দশায় নাগরিক দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। এ অবস্থায় পৌর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়নকাজ আগামী ডিসেম্বর মাসেই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মাহমুদ আশিক কবির।
বাংলাদেশ বুলেটিনকে মুঠোফোন বার্তায় ইউএনও মাহমুদ আশিক কবির জানান, পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর উন্নয়নকাজ আগামী ডিসেম্বর থেকেই শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সড়কগুলোর উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে গত ৪ আগস্ট ২০২৬ মঙ্গলবার পৌরসভার সদর বাজার, গোপীনাথপুরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং চলমান ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন ইউএনও মাহমুদ আশিক কবির। এ সময় তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হান ইসলাম শোভন এবং পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম রকিবুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে প্রশাসক সদর বাজারের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন এবং নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে কাজের গতি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় টেংরাখোলা চৌরঙ্গী থেকে আটাডাঙা বাঁওড় পর্যন্ত খাল পুনঃখননের বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রশাসক জানান, খালটি পুনঃখননের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। খালটি পুনঃখনন করা হলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন সহজ হবে এবং পৌর এলাকার জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ফরিদমিয়া কমপ্লেক্স–উপজেলা পরিষদ–তেরাইসার মোড়–মিয়া বাড়ি মসজিদ হয়ে আটাডাঙা বাঁওড় সড়ক ব্যবহারকারী মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। পাশাপাশি কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
ফলে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, পথচারী ও যানবাহন চালকদের নিয়মিত দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সড়কটির উন্নয়ন এবং আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এ জনদুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান করা হোক।
পরিদর্শনের সময় গোপীনাথপুরসহ পৌরসভার যেসব ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতার সমস্যা রয়েছে, সেসব এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাগরিকদের জন্য পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৌর পরিবেশ নিশ্চিত করতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।




