
নরসিংদীর পলাশে পূর্বশত্রুতার জের ধরে মোঃ ইয়াসিন আরাফাত (২২) নামের এক যুবককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় শুক্রবার ৯ অক্টোবর রাতে ভুক্তভোগী যুবকের মা মোছাঃ ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে পলাশ থানায় ৯ জনকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে আহত ইয়াসিন আরাফাত পলাশ বাজার থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে পলাশ বাজারস্থ শিল্পাঞ্চল বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে পাকা রাস্তার ওপর আসামিরা বেআইনিভাবে তার গতিরোধ করে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখিত বিবাদীরা হলেন— আরিফুল ইসলাম (৩০), শাকিল (২৭), ইয়াসিন ওরফে বল্লা (২৩), ফায়সাল (২৩), শাহেদ (২২), সিয়াম (২২), সায়েম (২৫), হাসিব (২৪) এবং মহিন (২২)। আসামিরা সকলেই পলাশ থানার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা এবং পূর্ব থেকেই ইয়াসিনের সাথে শত্রুতা রয়েছে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা যায় ।
অভিযোগ বলা হয়, ঘটনার সময় বিবাদীরা রামদা, চাপাতি, লোহার রড ও লাঠিসোটায় সজ্জিত হয়ে হামলা চালায়। ১ নং বিবাদী আরিফুল ইসলাম ধারালো চাপাতি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ইয়াসিনের কানের নিচে কোপ মেরে রক্তাক্ত জখম করে। ২ নং বিবাদী শাকিল রামদা দিয়ে তার ডান পাশের কাঁধে কোপ মেরে গুরুতর জখম করে।
ইয়াসিন মাটিতে পড়ে গেলে অন্যান্য বিবাদীরা রড ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম সৃষ্টি করে। মারধরের একপর্যায়ে ৩ নং বিবাদী ইয়াসিন (বলা) ভুক্তভোগীর পকেট থেকে আনুমানিক ১৫,০০০ টাকা মূল্যের একটি স্মার্টফোন এবং নগদ ৫,০০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
আহত ইয়াসিনের চিৎকার শুনে স্থানীয় পথচারীরা এগিয়ে এলে ১ নং বিবাদী আরিফুল তাকে প্রাণনাশের ও লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে সটকে পড়ে। পরবর্তীতে পথচারীরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগীর মা মোছাঃ ফাতেমা বেগম জানান, পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা করে থানায় আসতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তিনি এই মর্মান্তিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় পলাশ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনায় তদন্ত চলছে, তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




