
কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে চট্টগ্রাম রেঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ৮৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ১৮ সদস্য রয়েছেন। এছাড়া কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৩৬৮ জনকে আটক করা হয়।
গতকাল শনিবার সকাল থেকে রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, গ্রেফতারদের মধ্যে নিয়মিত মামলায় ১১৭ জন, আগের মামলায় ৬২ জন, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ৩২ জন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় ৯ জন, ১৫১ ধারাসহ অন্যান্য আইনে ৩৬ জন, পরোয়ানামূলে ১৪০ জন এবং সাজা পরোয়ানামূলে ২৬ জন রয়েছেন।
এছাড়া মাদক মামলায় ৭৪ জন মাদকসেবী এবং নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় ৬৭ জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে আরও ১৪১ জনকে গ্রেফতার করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫৩ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ সময় ৫ হাজার ৭০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়। মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত ৫১টি মামলা হয়েছে।
অভিযানে ১৫ হাজার ১৪৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১২ কেজি ৯৩৮ গ্রাম গাঁজা এবং ৯ দশমিক ৫ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাইমদ উদ্ধার করা হয়েছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ১৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে চট্টগ্রামে চারজন, কুমিল্লায় একজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজন, চাঁদপুরে দুইজন, নোয়াখালীতে পাঁচজন, লক্ষ্মীপুরে দুইজন, রাঙামাটিতে একজন এবং খাগড়াছড়িতে দুইজন রয়েছেন।
কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৩৬৮ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩০৬ জনকে মুচলেকায় অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাকি ৬২ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
জেলাভিত্তিক হিসাবে চট্টগ্রামে ১০৫ জন, কক্সবাজারে ১০ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২২ জন, চাঁদপুরে ৭৭ জন, নোয়াখালীতে ৪৬ জন, ফেনীতে তিনজন, লক্ষ্মীপুরে ৫১ জন, রাঙামাটিতে ২৪ জন, খাগড়াছড়িতে ২১ জন এবং বান্দরবানে নয়জনকে আটক করা হয়েছে।
জনস্বার্থে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




