
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় ধান উৎপাদনের ক্ষেত্রে মৌসুমে কৃষকের অন্যতম প্রধান ভরসা সার। কিন্তু সেই সারের দাম ও ধানের বাজারমূল্যের ব্যবধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। লোকাল বাজারে এক মণ ধানের দাম যেখানে প্রায় ৯৬০ টাকা, সেখানে এক বস্তা সার কিনতে কৃষককে গুনতে হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ টাকা। সরকার কর্তৃক সারের নির্ধারিত মূল্য এরকম হলেও প্রকৃতপক্ষে হিসাব মিলাতে পারছেন না কৃষকরা।
সরেজমিনে জানা যায়, মৌসুমের সারের প্রয়োজন মেটাতে কৃষি অধিদপ্তর কর্তৃক বিএডিসি ও বিসিআইসি ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেখানে কেবল কৃষকরা সরাসরি গিয়ে সার কিনতে পারবেন।তবে দুঃখের বিষয় হলো, কৃষকরা উচ্চমূল্যে সার মিলাতে পারলেও ধান উৎপাদনের খরচের তুলনায় বাজার মূল্য কম থাকায় হতাশাগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক।
কৃষক বাদশা মিয়া বলেন, এক বিঘা জমিতে ধান চাষে সার ছাড়াও বীজ, কীটনাশক, সেচ, জমি প্রস্তুত, রোপণ, নিড়ানি, কাটা-মাড়াই ও পরিবহনসহ নানা খাতে অধিক ব্যয় মেটাতে হচ্ছে, সেই তুলনায় ফসলের মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না।
উপজেলা কৃষি অফিসসূত্রে জানা যায়, এই মৌসুমে উপজেলায় সারের বরাদ্দ রয়েছে ইউরিয়া-৬০০মেট্রিকটন, টিএসপি-৭০ মেট্রিকটন এমওপি-১৯৫মেট্রিকটন, ডিএপি-৩০৭মেট্রিকটন, মোট বরাদ্দকৃত সারের পরিমাণ ১১৭২ মেট্টিকটন। যা উপজেলার কৃষকের চাহিদা মেটাতে পারবে বলে মনা করা হচ্ছে।
রাজারহাট উপজেলার বিসিআইসি ডিলার, মেসার্স সুরমা ট্রেডার্স এর ম্যানেজার সাগর কুমার জানান,আগে কৃষকরা খুচরা দোকানদারের কাছ থেকে সার কিনতো, ডিলাররা খুচরা সার দোকানদারের কাছে বিক্রি করতে পারতেন।তবে এখন সেই নীতিমালা না থাকায় কৃষকরা সরাসরি আমাদের কাছ থেকে সার কিনতে পারছেন।তবে সারের কোনো সংকট নেই বলে জানান তিনি।
এবিষয়ে রাজারহাট উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সাইফুন্নাহার সাথী বলেন, উপজেলার মোট সারের বরাদ্দ রয়েছে ১১৭২ মেট্রিকটন যা কৃষকের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। এক্ষেত্রে কৃষকরা যেনো সুষ্ঠুভাবে সরকারি মূল্যে ডিলারের কাছ থেকে সার সংগ্রহ করতে পারেন তার জন্য মনিটরিং করা হচ্ছে। সেই সাথে কোনো ডিলার যেনো অসৎ উপায়ে সার মজুত করে বেশি দামে বিক্রি করতে না পারেন সে ব্যপারে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।




