ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা জেলা পরিষদের ইতিহাসে প্রথম দুর্গাপূজায় প্রায় ৭০ লাখ টাকা অনুদান

নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০:২১ পিএম
আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৩৪ পিএম


ঢাকা জেলা পরিষদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলার ১ হাজার ১৮টি পূজামণ্ডপে মোট ৬৯ লাখ ১০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা জেলার পাঁচটি উপজেলায় ৮৬৯টি পূজামণ্ডপে ৪৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা এবং ঢাকা মহানগর এলাকার ১৪৯টি পূজামণ্ডপে ২৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। অনুদান বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির হাতে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে ঢাকা জেলা পরিষদ।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

আজ ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত জেলা পরিষদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বছর ঢাকা জেলার পাঁচটি উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপ এবং ঢাকা মহানগর এলাকার বিভিন্ন শ্রেণির পূজামণ্ডপে এ অনুদান দেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে সাভারে ২৩৮টি, ধামরাইয়ে ২৩৫টি, নবাবগঞ্জে ২০১টি, কেরানীগঞ্জে ১৫৩টি এবং দোহারে ৪২টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এসব মণ্ডপে অনুদান বিতরণের মাধ্যমে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নগরসংলগ্ন এলাকাগুলোতেও দুর্গোৎসব উদ্‌যাপনে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন উপজেলায় চেক বিতরণ

নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ কার্যক্রম ১৩ অক্টোবর নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক এবং ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ।

১৪ অক্টোবর ধামরাই উপজেলা পরিষদে পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব তমিজ উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ।

একই দিন কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদে ঢাকা-২ আসনের পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য, ডাকসুর সাবেক ভিপি ও সাবেক মন্ত্রী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য আলহাজ্ব মো. আমান উল্লাহ আমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ।

ঢাকা-৩ আসনের কেরানীগঞ্জ উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ কার্যক্রমও ১৪ অক্টোবর কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নের স্বর্গপুরী মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী।

সাভার উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ কার্যক্রম ১৫ অক্টোবর সাভার উপজেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাহউদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ।

মহানগরের ১৪৯ পূজামণ্ডপে ২৬ লাখ টাকা

ঢাকা মহানগর এলাকার ১৪৯টি পূজামণ্ডপে মোট ২৬ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য, তাঁদের প্রতিনিধি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিজ নিজ আওতাধীন এলাকায় অনুদানের চেক বিতরণ করেন।

এ কার্যক্রমে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রশীদ, ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য শেখ রবিউল আলম, ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্যের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব আবদুর রহমান সানি, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন নিজ নিজ আওতাধীন এলাকায় চেক বিতরণ করেন।

এ ছাড়া সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন ও বিবি হাজ্জাজের নির্বাচনী এলাকা থেকে পাওয়া আবেদনের ভিত্তিতে পূজামণ্ডপগুলোতে আর্থিক অনুদানের চেক দেওয়া হয়। ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামাল হোসেন এবং বিরোধী দলের অন্যান্য সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেও অনুদানের চেক দেওয়া হয়েছে।

ধর্মীয় সম্প্রীতি জোরদারে উদ্যোগ

ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ বলেন, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এবং ঢাকা মহানগর এলাকায় সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য, তাঁদের প্রতিনিধি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সুপারিশের ভিত্তিতে সরাসরি পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির হাতে অনুদান পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে অনুদান বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই প্রকৃত আয়োজকদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ কার্যক্রমে সহযোগিতাকারী স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির প্রতি তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ঢাকা মহানগর এলাকার যেসব পূজামণ্ডপ এ বছর অনুদানের আওতায় আসেনি, আগামীতে সেগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করার সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে ধারণ করে শারদীয় দুর্গাপূজাকে সর্বজনীন উৎসবে পরিণত করতে দেশের সব মানুষকে সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার এবং ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—এই অঙ্গীকার এগিয়ে নিতে সব ধর্মের মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা, সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করা এবং নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখার অঙ্গীকার করেছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। ঢাকা জেলা পরিষদের এ উদ্যোগকে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ধারায় একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান জাতীয় ঐতিহ্যের অন্যতম ভিত্তি উল্লেখ করে ঢাকা জেলা পরিষদ এ ঐতিহ্য সমুন্নত রাখতে আন্তরিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। একই সঙ্গে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের শান্তিপূর্ণ, আনন্দময় ও নিরাপদ শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভকামনা জানিয়েছে জেলা পরিষদ।

গ্যাস-জ্বালানি সংকটের জন্য গত সরকারকে দায়ী করে স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ
গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের জন্য বিগত সরকারের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নীতিকে দায়ী করে পিরোজপুরে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। একই সঙ্গে সংকটকে পুঁজি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের অপচেষ্টা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেল তিনটায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পিরোজপুর বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। পরে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন নেতাকর্মীরা। পিরোজপুর সদর উপজেলা ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাতুব্বর। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মনি, সদস্যসচিব তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাদিম শেখ, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাদিম মল্লিক, সদস্যসচিব আহসান দরানি, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল ইসলাম তুহিন, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ রায়হান ও প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক সবুজ খানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিতে নেতারা বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এবং বিগত সরকারের ভুল অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নীতির কারণে দেশে গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন। এ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বক্তারা আরও বলেন, কৃষি উৎপাদন ও অর্থনীতি সচল রাখতে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা জরুরি। মজুতদারি ও অতিরিক্ত মুনাফা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ সফল করতে জনগণকে সচেতন ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।
গ্যাস-জ্বালানি সংকটের জন্য গত সরকারকে দায়ী করে স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ
ময়মনসিংহে ১১ উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন এমপি ওয়াহাব
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার গ্রামীন সড়ক ও প্রতিষ্ঠানের ১১টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। এ সময় উন্নয়নভোগী এলাকাবাসী সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সদর উপজেলার চরসিরতা ও পরানগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে এসব প্রকল্প উদ্বোধন করেন তিনি। প্রকল্পগুলো হলো- কোনাপাড়া রফিকুলের বাড়ী হতে ঈওগাহ মাঠ পর্যন্ত সড়ক সংস্কার, চরখরিচা ইদগাহ মাঠ হাত পীরবাড়ী সড়ক ও কালভার্ট সংস্কার, খাজা মাঈন উদ্দিনের বাড়ী হইতে আজিজুল হক সাহেবের বাড়ী মেইন রাস্তা সংস্কার, সিরতা বাজারের দক্ষিন পাড়া রাস্তা সংস্কার, চরভাবানীপুর পশ্চিমপাড়া মসজিদ হতে মাহবুব আলমের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, সিরতা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্রীদের নামাজ খানা নির্মাণ, খালেরপার হতে কইট্রার মোড়ের রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ, চরখরিচা আইন উদ্দীনের বাড়ীর পাকা রাস্তা হাফ সলিং, জামিয়া শাহমুদিয়া চরখরিচা মাদরাসার আসবাবপত্র সংস্কার, চরখরিচা মেইন রোড থেকে মামুনের বাড়ী রাস্তা সংস্কার এবং চরসিরতা হাজী সুলতান মহিলা মাদরাসা পাকা রাস্তা হইতে দক্ষিণ পাড়া জামে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা সলিং। এদিকে, উদ্বোধন কর্মসূচি শেষে বিকালে চরসিরতা বাজারে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। এ সময় তিনি বলেন, একটি চক্র দেশে ও বিদেশে বসে যোগসাজসে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাই আসন্ন দুর্গাপূজায় সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, কেউ যেন কোনভাবে পূজামন্ডপে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। কারণ যে কোন ধর্মীয় আচার, অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। এজন্য প্রতিটি এলাকার র্পূজামন্ডপে বিএনপির নেতাকর্মীদের নজরদারি রাখতে হবে।’  এসব কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালি বিএনপির আহবায়ক হেলাল আহম্মেদ, সদস্য সচিব আতাহারুল ইসলাম বুলবুল, জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক সাব্বির আহম্মেদ শামীমসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ময়মনসিংহে ১১ উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন এমপি ওয়াহাব
সিলেটে পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ
ঢাকের বাদ্য, কাঁসর ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে সিলেটের পূজামণ্ডপগুলো। ফুল, ধূপ ও আগরবাতির সুগন্ধে সৃষ্টি হয়েছে এক আনন্দঘন পরিবেশ। দেবী দুর্গার আগমনকে ঘিরে সিলেটজুড়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। মণ্ডপগুলো সাজানো হয়েছে নানা রঙের আলোকসজ্জা ও দৃষ্টিনন্দন সাজে। পূজার আনন্দ ভাগ করে নিতে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা মণ্ডপে ভিড় করছেন। তাঁরা দেবীর কাছে প্রার্থনা করছেন এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করছেন। সিলেট নগরের বিভিন্ন মন্দির ও সার্বজনীন পূজামণ্ডপে চলছে ধর্মীয় সংগীত, পূজা-অর্চনা ও নানা আয়োজন। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও উৎসবকে ঘিরে বিরাজ করছে আনন্দ-উদ্দীপনা। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। দুর্গাপূজায় নিরাপত্তার চাদরে সিলেট :  এদকি, সিলেট জেলা পুলিশের আওতাধীন ১১ টি উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে  নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।  প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সিলেট জেলা পুলিশের আওতাধীন ১১ টি উপজেলায় ৪৭১ টি পূজা মন্ডপ রয়েছে।  এ সকল পূজা মন্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে  মন্ডপের গুরুত্ব অনুযায়ী পুলিশ ফোর্স মোতায়ন করা হয়েছে।  মন্ডপ ও তার আশেপাশে এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত  করতে থানা এলেকায় নিয়মিত মোবাইল টিমের পাশাপাশি মন্ডপভিত্তিক ৯০ টি মোবাইল টিম গঠন করা হয়েছে, যারা নিয়মিত মন্ডপ পরিদর্শন করছে। থানা এলাকায় অনাকাঙ্খিত ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালিত হচ্ছে।  যে সকল মণ্ডপে জনসমাগম অধিক সেই সকল মন্ডপসমূহ চিহ্নিত করে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে যেন মানুষ ও যান চলাচল নির্বিঘ্ন থাকে।  সাধারণ পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়ন রয়েছে যারা যেকোনো নাশকতা বা অপতৎপরতা রোধে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যেকোনো দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত সাড়া দান করতে প্রতিটি থানায় গঠন করা হয়েছে কুইক রেসপন্স টিম। তাছাড়া পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য পুলিশ লাইন্সসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্যান্ডবাই টিম হিসেবে রাখা হয়েছে যেন যেকোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। সিলেট জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো: যাবের সাদেক শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে সকল পুলিশ সদস্যকে পশোদারত্বিরে সাথে দায়ত্বি পালন করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি আইন-শৃঙ্খলা সমুন্নত রেখে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ সুষ্ঠু ভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।  
সিলেটে পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ
কচা নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় কচা নদীর চরখালী মোহনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন রোধ এবং নদীতীরবর্তী বসতভিটা ও জনপদ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ কর্মসূচি একপর্যায়ে অবরোধে রূপ নিলে প্রায় দেড় ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। পরে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলার চরখালী ফেরিঘাট এলাকায় নদীতীরবর্তী ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মো. আল-আমিন হোসেন, মো. মনির হোসেন ও মো. ওহাব মাঝিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বক্তারা বলেন, চরখালী মোহনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীতীরবর্তী এলাকার ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও জনপদ ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীভাঙন আরও তীব্র হতে পারে। এতে বহু পরিবার নিজেদের বসতভিটা ও সহায়-সম্বল হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। তাঁরা অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নদীতীরবর্তী জনপদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন। মানববন্ধন চলাকালে একপর্যায়ে কর্মসূচি অবরোধে রূপ নেয়। এতে সড়ক ও নৌপথে চলাচল ব্যাহত হয় এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। পরে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কচা নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
গাজীপুরে ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সেলিম ভূঁইয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছা
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ক্রীড়া শাখার আওতাধীন গাজীপুর সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাত (৭) সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মো. সেলিম ভূঁইয়া।  তাঁর এ সদস্য পদ পাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করে ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সদর উপজেলার নয়াপাড়া  ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের মাঠে তাঁকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন, তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়াচর্চার প্রসারে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে সেলিম ভূঁইয়ার সাফল্য কামনা করে দোয়ার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি গাজীপুর সদর উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনকে আরও এগিয়ে নিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান খান এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন   বৃহত্তর মির্জাপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সদর উদ্দিন শেখ খোকন, ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের সহ-সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবলুু আহমেদ, সদস্য আলমগীর হোসেন খান, কাজল আহমেদ রিয়াজ, নুরুদ্দিন খন্দকার, আহসানুল্লাহ সরকার ফাহিম প্রমুখ। এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান, গাজীপুর সদর উপজেলা জেটেব এর সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হোসেন সরকার, গাজীপুর জেলার সাবেক ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজল আহমেদ রিয়াজ, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান উৎসব, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ দপ্তর সম্পাদক রাজীব মোল্লা সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।  
গাজীপুরে ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সেলিম ভূঁইয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছা
আরও পড়ুন
দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ভাঙ্গুড়ায় প্রশাসনের তৎপরতা
দুর্গাপূজায় নাশকতার চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা, যশোর-নড়াইলে এসআরবি-৬-এর নজরদারি
শারদীয় দুর্গোৎসবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩০০ নারীর হাতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার 
শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে তৎপর এসআরবি-৮
X