
এশিয়ার দেশগুলোতে বিকল্প পথে অতিরিক্ত অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। আর এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে—কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের নভেম্বর সরবরাহের দাম ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১০৩ দশমিক ৯৯ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের অক্টোবর সরবরাহের দাম কমেছে ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এতে প্রতি ব্যারেলের দাম দাঁড়িয়েছে ১০০ দশমিক ৭৫ ডলারে।
সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে সাম্প্রতিক হামলার পর লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে তেল খালাস স্থগিত করা হয়েছিল। এতে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং চলতি সপ্তাহের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ইয়ানবু বন্দরের ঘাটতি পূরণে বিকল্প পথে এশিয়ার বাজারে অতিরিক্ত তেল পাঠানোর ব্যবস্থা করছে সৌদি আরব। ওমানের সোহার বন্দরের কাছে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে এসব জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে এশিয়ার বাজারে তেল সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি ও বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন এখনো স্বাভাবিকের তুলনায় কম রয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করায় মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়েছে। শক্তিশালী ডলারের কারণেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিক তেলের মজুত টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো কমেছে। তবে মজুত কমার পরিমাণ বাজারের পূর্বাভাসের তুলনায় কম হওয়ায় তেলের দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রভাব তৈরি হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি, বিকল্প পথে সৌদির তেল সরবরাহ, ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুত—এসব বিষয়ই বর্তমানে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে দামের গতিপথে প্রভাব ফেলছে।




