ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

বাটেক্সপোতে জাতীয় ঐকমত্যের ঐতিহ্য ধরে রাখার আহ্বান মিয়া গোলাম পরওয়ারের

অনলাইন ডেস্ক

  ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪২ এএম
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার

বাটেক্সপোর উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের অন্যতম বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনী ‘বাংলাদেশ অ্যাপারেল অ্যান্ড টেক্সটাইল এক্সপোজিশন’ (বাটেক্সপো)। পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ ১৯৮৯ সাল থেকে ঐতিহ্যবাহী এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে আসছে। দীর্ঘ ১২ বছরের বিরতির পর আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী বাটেক্সপো পুনরায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে—এতে আমরা আনন্দিত।

তিনি বলেন, বাটেক্সপোর প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক উদ্যোগ। ১৯৮৯ সালে বিদেশি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা এবং পোশাক রপ্তানি সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে যে আয়োজনের যাত্রা শুরু হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে তা দেশের প্রধান রপ্তানি শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।

তবে সম্প্রতি বাটেক্সপোর উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াতের এ নেতা।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাটেক্সপো বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য। দীর্ঘ এক যুগ পর এ আয়োজনের প্রত্যাবর্তন দেশের পোশাক শিল্প, উদ্যোক্তা, শ্রমিক ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। অতীতে বাটেক্সপোর উদ্বোধন ও সমাপনী অনুষ্ঠানে সরকার ও বিরোধী দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বার্তা বহন করত। এর মাধ্যমে দেশের প্রধান রপ্তানি শিল্পের প্রশ্নে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দেওয়া হতো।

তিনি আরও বলেন, এ ঐক্যের বার্তা ধারণ করেই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর দীর্ঘদিনের একটি ঐতিহ্য হলো উদ্বোধনী দিনে প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান অতিথি এবং সমাপনী দিনে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতাকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো। বিজিএমইএর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদও প্রথম বোর্ড সভায় এ ঐতিহ্য অনুসরণ করে উভয়কে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে তারা জানতে পেরেছেন।

তবে পরবর্তীতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বিজিএমইএর বর্তমান সভাপতি মাহমুদ হাসান খান সমাপনী অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতাকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন বলে দাবি করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর মতে, এ সিদ্ধান্ত বিজিএমইএর অনেক পরিচালক ও সাধারণ সদস্যের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিজিএমইএর মতো জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বৃহৎ ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তা সংগঠনকে যেকোনো ধরনের সংকীর্ণ দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে রাখা জরুরি। দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্য অনুযায়ী সমাপনী অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতাকে আমন্ত্রণ না জানানোর সিদ্ধান্তে সংগঠনটির নিরপেক্ষতা ও ভারসাম্যের ব্যত্যয় ঘটতে পারে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা কোনো অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হওয়ার জন্য আগ্রহী বা লালায়িত নন। বিষয়টি কোনো ব্যক্তি বা পদকে কেন্দ্র করে নয়; বরং বিজিএমইএর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের ব্যবসায়ী সমাজের ঐক্য ও সংহতির প্রশ্ন।

তিনি আরও বলেন, বিজিএমইএর মতো জাতীয় পর্যায়ের একটি প্রতিষ্ঠিত সংগঠনকে রাজনৈতিক দলীয়করণের ঊর্ধ্বে রাখা সবার দায়িত্ব। এ ধরনের সিদ্ধান্ত সংগঠনের অভ্যন্তরীণ পরিবেশের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি ক্রেতা, বিনিয়োগকারী, কূটনীতিক ও অন্যান্য অংশীজনের কাছেও নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে।

তাঁর মতে, এতে বিজিএমইএর দীর্ঘদিনের ঐক্য, সংহতি ও পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজনের পরিবেশ তৈরি হলে তা দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্যও ইতিবাচক হবে না।

বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজার, উৎপাদন ব্যয়, শ্রমবাজারসহ নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যখন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প যাচ্ছে, তখন জাতীয় এ শিল্পখাতের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনের অভ্যন্তরে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি হওয়া কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে বিজিএমইএর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এ ব্যবসায়ী সংগঠনকে সংকীর্ণ দলীয় রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য বজায় রাখার স্বার্থে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতাকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিজিএমইএর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করবে এবং সংগঠনটির দীর্ঘদিনের ঐক্য, সংহতি, নিরপেক্ষতা ও ঐতিহ্য সমুন্নত রাখবে।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, জাতীয় শিল্পের প্রতিটি আন্তর্জাতিক আয়োজনে বাংলাদেশের ঐক্য, স্থিতিশীলতা, সক্ষমতা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ইতিবাচক বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন।

তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের স্বার্থে বিজিএমইএকে কোনো দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবের বাহন নয়, বরং দেশের সব পোশাক প্রস্তুতকারক, রপ্তানিকারক ও শিল্পোদ্যোক্তার ঐক্যবদ্ধ প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চান।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাটেক্সপো শুধু একটি প্রদর্শনী নয়; এটি বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশকে বিশ্বে উপস্থাপনের একটি সুযোগ। বাটেক্সপো রাজনৈতিক বিভাজনের নয়, বরং বাংলাদেশের পোশাক শিল্প, জাতীয় ঐকমত্য ও দেশের ইতিবাচক ভাবমর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠবে—এটাই প্রত্যাশা।

নতুন পে স্কেলে বকেয়া বেতন হিসেব করবেন যেভাবে
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বকেয়া বেতন নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী কত টাকা বকেয়া পাওয়া যেতে পারে, তা জানতে চাইছেন অনেকে।  এ হিসাব সহজে বের করতে তৈরি করা হয়েছে একটি এইচটিএমএলভিত্তিক বেতন ক্যালকুলেটর। এতে কর্মচারীর গ্রেড, পুরোনো মূল বেতন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিলে নতুন মূল বেতন, বাড়ি ভাড়া ও বিশেষ সুবিধার সমন্বয়সহ মাসভিত্তিক বকেয়ার হিসাব পাওয়া যাবে। ক্যালকুলেটরটি কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনের যেকোনো ব্রাউজারে খোলা যাবে। এটি ব্যবহারের জন্য ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন নেই। তবে হিসাবের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে তথ্যগুলো সঠিকভাবে দিতে হবে এবং ক্যালকুলেটরের নির্ধারিত বেতন স্কেল ও অন্যান্য হার যাচাই করে নিতে হবে। বকেয়া বেতন হিসেব করতে প্রথমে ক্যালকুলেটরের ব্যক্তিগত তথ্যের অংশে কর্মচারীর নাম, পদবি এবং অফিস বা প্রতিষ্ঠানের নাম লিখতে হবে। এসব তথ্য পরবর্তী সময়ে প্রিন্ট করা বকেয়া বেতনের বিবরণীর উপরে দেখা যাবে। তবে ব্যক্তিগত তথ্যের ঘরগুলো ফাঁকা রাখলেও বেতন হিসাব করা যাবে। নতুন পে-স্কেলে বকেয়া বেতন হিসেব করতে এখানে ক্লিক করুন এরপর বেতনসংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে। ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে ২০১৫ সালের বেতন স্কেল অনুযায়ী যে গ্রেডে কর্মচারী ছিলেন, সেটি নির্বাচন করতে হবে। একই তারিখে তাঁর মূল বেতন কত ছিল, তা পে-স্লিপ দেখে নির্ধারণ করতে হবে। তালিকায় নিজের মূল বেতনের অঙ্ক না থাকলে ‘অন্য অঙ্ক লিখব’ অপশন নির্বাচন করে তা লিখতে হবে। এ ছাড়া ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে পুরোনো বেতন স্কেলে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ যে মূল বেতন গ্রহণ করা হয়েছে, সেটিও ক্যালকুলেটরে দিতে হবে। এ তথ্যের ভিত্তিতে নতুন স্কেলে প্রাপ্য বেতনের সঙ্গে ইতিমধ্যে গ্রহণ করা বেতনের পার্থক্য নির্ণয় করা হবে। বাড়ি ভাড়ার হিসাবের জন্য কর্মচারীর কর্মস্থল নির্বাচন করতে হবে। কর্মস্থল অনুযায়ী বাড়ি ভাড়ার হার স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হলেও পে-স্লিপে উল্লেখ করা প্রকৃত হারের সঙ্গে তা মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন হলে ক্যালকুলেটরের হার পরিবর্তন করা যাবে। বকেয়া হিসাবের মাসের সংখ্যা সাধারণত তিন মাস নির্ধারণ করা থাকবে। অর্থাৎ জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া হিসাব পাওয়া যাবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় নির্বাচন করা যাবে। পাশাপাশি ১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত চাকরির বয়স ছয় মাস পূর্ণ না হলে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির ঘরে থাকা টিকচিহ্ন তুলে দিতে হবে। ক্যালকুলেটরে কিছু ঐচ্ছিক ঘরও রয়েছে। পে-স্লিপে উল্লেখ করা বাড়ি ভাড়া বা বিশেষ সুবিধার অঙ্ক ক্যালকুলেটরের হিসাবের সঙ্গে না মিললে প্রকৃত অঙ্ক সেখানে বসানো যাবে। একইভাবে আইবাস++ বা সরকারি গেজেট থেকে নতুন মূল বেতনের অঙ্ক জানা থাকলে সেটিও নির্দিষ্ট ঘরে দেওয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে ক্যালকুলেটর ব্যবহারকারীর দেওয়া নতুন মূল বেতনের অঙ্ককে হিসাবের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করবে। প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করার পর ক্যালকুলেটরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেতন বিবরণী তৈরি হবে। এতে নতুন মূল বেতন নির্ধারণের ধাপগুলো এবং প্রথম ধাপে প্রাপ্য মূল বেতনের হিসাব দেখানো হবে। ক্যালকুলেটরের নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রেড ১০ থেকে ২০-এর ক্ষেত্রে মূল বেতনের বৃদ্ধির ৫০ শতাংশ এবং গ্রেড ১ থেকে ৯-এর ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ বিবেচনায় নেওয়া হবে। মাসিক হিসাবের অংশে নতুন স্কেলে প্রাপ্য মূল বেতন ও পুরোনো স্কেলে ইতিমধ্যে গ্রহণ করা মূল বেতনের পার্থক্য দেখানো হবে। পাশাপাশি ৩০ জুনের মূল বেতনের ভিত্তিতে প্রাপ্য বাড়ি ভাড়া এবং গৃহীত মূল বেতনের ভিত্তিতে তোলা বাড়ি ভাড়ার সমন্বয় করা হবে। এর সঙ্গে বিলুপ্ত বিশেষ সুবিধার ১০ বা ১৫ শতাংশের হিসাবও বিবেচনায় নেওয়া হবে। এভাবে প্রতিটি মাসের বকেয়া আলাদাভাবে নির্ণয় করে সর্বমোট বকেয়ার পরিমাণ দেখাবে ক্যালকুলেটর। কোনো হিসাব ঋণাত্মক হলে তা লাল রঙে চিহ্নিত থাকবে। ফলে কোন খাতে সমন্বয়ের কারণে বকেয়ার অঙ্ক কমেছে, তা সহজে বোঝা যাবে। বেতন বিবরণী তৈরি হয়ে গেলে ‘বিবরণী প্রিন্ট করুন’ বোতামে ক্লিক করে তা ছাপানো যাবে। এ ক্ষেত্রে স্বাক্ষরের ঘরসহ এ৪ আকারের একটি বিবরণী পাওয়া যাবে, যা ব্যক্তিগত হিসাব সংরক্ষণ বা প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে নতুন পে স্কেলের বেতন নির্ধারণে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। ক্যালকুলেটরটির প্রস্তুতকারকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন স্কেলের সব গ্রেডের বেতন ধাপ এখনো নিশ্চিতভাবে যাচাই করা যায়নি। তাই হিসাব করার আগে ক্যালকুলেটরের ‘স্কেল টেবিল’ অংশে দেওয়া অঙ্কগুলো এস.আর.ও. নং ৩৪৭-আইন/২০২৬-এর সরকারি গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। একইভাবে বাড়ি ভাড়ার হার এবং বিশেষ সুবিধার প্রকৃত অঙ্কও পে-স্লিপের সঙ্গে যাচাই করতে হবে।
নতুন পে স্কেলে বকেয়া বেতন হিসেব করবেন যেভাবে
গাড়ি, কৃষি প্রযুক্তি ও মেরিটাইম প্রদর্শনীতে মুখর আইসিসিবি
রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) একই সময়ে চলছে তিনটি ভিন্ন খাতের প্রদর্শনী। নতুন ও ব্যবহৃত গাড়ি কেনাবেচা থেকে শুরু করে কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং জাহাজ নির্মাণ ও সামুদ্রিক শিল্পের আধুনিক প্রযুক্তি সব মিলিয়ে প্রদর্শনীগুলো ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যস্ত পরিবেশ। ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, ক্রেতা ও শিক্ষার্থীদের পদচারণে মুখর হয়ে উঠেছে প্রদর্শনীস্থল। এসব আয়োজনের মাধ্যমে পণ্য ও প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়িক যোগাযোগ, নতুন অংশীদারত্ব এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা খুঁজছেন সংশ্লিষ্টরা। আইসিসিবিতে প্রতি শুক্রবার আয়োজিত ‘সুপার সেল কার বাজার’ গতকাল ষষ্ঠ সপ্তাহে পা রেখেছে। নতুন গাড়ির পাশাপাশি রিকন্ডিশন্ড ও ব্যবহৃত গাড়ির সম্ভার দেখতে এবং পছন্দের গাড়ির দাম ও সুযোগ-সুবিধা যাচাই করতে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। উইজার্ড শোবিজ ও আইসিসিবির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বাজার প্রতিদিন নয়, প্রতি শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে। প্রবেশপথ পেরোতেই চোখে পড়ে সারিবদ্ধ নানা মডেলের গাড়ি। একদিকে নতুন গাড়ি, অন্যদিকে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি; পাশাপাশি রয়েছে ব্যক্তিগত ব্যবহারের পুরোনো গাড়ি। বাজারে আসা ক্রেতাদের কেউ গাড়ির মডেল, দাম ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিক্রেতাদের কাছ থেকে তথ্য নিচ্ছেন, আবার কেউ একাধিক গাড়ির সুযোগ-সুবিধা মিলিয়ে দেখছেন। ক্রেতা টানতে বিভিন্ন অফারও দিচ্ছেন বিক্রেতারা। প্রদর্শিত গাড়ির মধ্যে জাপানি ও চীনা ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) ছিল উল্লেখযোগ্য। আইসিসিবির ব্র্যান্ড অ্যান্ড মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান মোল্লা জানান, গত কয়েক সপ্তাহের আয়োজন থেকে তাঁরা ভালো সাড়া পেয়েছেন। গতকাল বাজারে প্রায় ৩৫০টি গাড়ি এসেছে। আগের সপ্তাহগুলোর তুলনায় এবার ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি ও আগ্রহ বেশি ছিল বলেও জানান তিনি। কৃষি উৎপাদন থেকে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণ—পুরো ব্যবস্থার আধুনিক প্রযুক্তি তুলে ধরা হচ্ছে ‘ফার্ম টু ফুড বাংলাদেশ ২০২৬’ প্রদর্শনীতে। আইসিসিবির গুলনকশা ও নবরাত্রি হলে তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের গতকাল ছিল দ্বিতীয় দিন। দিনজুড়ে বিভিন্ন স্টলে দর্শনার্থীদের আনাগোনা দেখা গেছে। প্রদর্শনীতে কৃষি ও খাদ্যশিল্পের যন্ত্রপাতি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তি, প্যাকেজিং সরঞ্জাম, মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণের যন্ত্র, পশুখাদ্য, সার, কৃষি উপকরণ এবং খাদ্য সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা স্থান পেয়েছে। বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরও স্টল ঘুরে প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি সম্পর্কে খোঁজ নিতে দেখা যায়। আয়োজকদের মতে, কৃষি ও খাদ্যশিল্পে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা, প্রক্রিয়াকরণ ও প্যাকেজিং খাতের উন্নয়ন এবং কোল্ড চেইন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এই প্রদর্শনীর অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রযুক্তি বিনিময়, ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে আর্ন প্রিমিয়াম অ্যাডিটিভ, ট্র্যাড গ্লোবাল লিমিটেড, হুনান নগিউ মেশিনারি গ্রুপ লিমিটেড, ঝিয়াং শেংকুন কিচেনওয়্যার কোম্পানি লিমিটেড, জিয়াং জিউলিন টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেড, এসিআই অ্যানিমেল হেলথ, এসিআই ফার্টিলাইজার, এসিআই অ্যাগ্রো বিজনেস, মেওয়া টেক সলিউশন, ফুডটেক বাংলাদেশ, ফিশটেক বিডি লিমিটেড ও থার্মো কেয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। জাহাজ নির্মাণ, মেরামত ও সামুদ্রিক শিল্পের প্রযুক্তি দেখতে আইসিসিবিতে ভিড় করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীরা। পুষ্পগুচ্ছ ও নবরাত্রি হলে চলছে মেরিটাইম ও অফশোর শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘৮ম বিমক্স ২০২৬’। গতকাল ছিল তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের দ্বিতীয় দিন। আজ শনিবার প্রদর্শনীর শেষ দিন। সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ, নেদারল্যান্ডসসহ সাতটি দেশের ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। বিভিন্ন স্টলে জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতের যন্ত্রপাতি, নেভিগেশন ও যোগাযোগব্যবস্থা, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সরঞ্জাম এবং অফশোর শিল্পের আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে। আয়োজকদের ভাষ্য, দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের ফলে মেরিটাইম খাতের নতুন প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ, প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার পথও প্রসারিত হচ্ছে। প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ওশিয়ান ইলেকট্রনিক লিমিটেড, গোল্ডেন মেরিটাইম টেকনোলজি, টিএসআই মেরিটাইম, শ্রী বাংলা বোল্ড বিল্ডার্স, অফশোর ও মেরিন ইঞ্জিনিয়ার লিমিটেড, খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড, গ্রুপ নটিকা, এসিআই মেরিন অ্যান্ড রিভারাইন টেকনোলজি লিমিটেড, শিপডাইন লিমিটেড ও মেরিন হাউসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। তিন প্রদর্শনীর বিষয়বস্তু আলাদা হলেও ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও আধুনিক প্রযুক্তি পরিচিতির ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন ক্ষেত্র তৈরি করেছে আইসিসিবির এই আয়োজনগুলো। গাড়ি, কৃষি-খাদ্য এবং মেরিটাইম শিল্পের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এখানে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য ও প্রযুক্তি দেখার পাশাপাশি সম্ভাব্য ব্যবসায়িক সহযোগিতার সুযোগও খুঁজছেন।##
গাড়ি, কৃষি প্রযুক্তি ও মেরিটাইম প্রদর্শনীতে মুখর আইসিসিবি
ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের বৈঠক
ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (ভারপ্রাপ্ত) মি. ফিলিপ অং-এর একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।  আজ রবিবার ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে মি. ফিলিপ অং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষকে (পিপিপি কর্তৃপক্ষ) একীভূত করে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।  তিনি বলেন, এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও সমন্বিত, দ্রুত ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক একীভূতকরণ ও সমন্বয়ের এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হতে পারে এবং পর্যায়ক্রমে আরও প্রতিষ্ঠানকে এর সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। তিনি জানান, বিনিয়োগকারীদের জন্য কার্যকর লজিস্টিকস সহায়তা নিশ্চিত করা, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, বেসরকারিকরণ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া, ডিজিটালাইজেশন ত্বরান্বিত করা এবং শিল্পের বিকাশে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামো ও লজিস্টিকস খাতে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় সিঙ্গাপুরের বৈশ্বিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পিএসএ ইন্টারন্যাশনালের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বাংলাদেশের টার্মিনাল উন্নয়ন ও পরিচালনায় সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। মি. ফিলিপ অং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করার এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির জন্য নীতিগত ধারাবাহিকতা, স্বচ্ছতা এবং পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবসায়িক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে বিনিয়োগ, অবকাঠামো, লজিস্টিকস এবং শিল্প উন্নয়ন খাতে সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের বৈঠক
দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে ১৭২ কোটি টাকা, জানেন না মালিক
দেশের ৫৬টি ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ অর্থ দীর্ঘদিন ধরে দাবিহীন অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে হিসাবগুলোতে লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব আমানতের মালিক কিংবা তাদের উত্তরাধিকারীদের অনেকেই অর্থের অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগত নন। সংশ্লিষ্ট হিসাবগুলোর ১৭২ কোটি টাকা জমা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকে। অন্যদিকে, নিজেদের প্রাপ্য অর্থ ফেরত পেতে গিয়ে উত্তরাধিকারীদের কেউ কেউ পড়ছেন সনদ সংগ্রহ ও আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতায়। একটি পরিবারের কথাই ধরা যাক। পরিবারের একজন সদস্য মৃত্যুর আগে ব্যাংকে ২০ লাখ টাকা রেখে গেছেন। সেই অর্থ উত্তরাধিকারীদের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে তাদের প্রায় ৩৫ হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে। কিন্তু এই ব্যয় বহন করার আর্থিক সক্ষমতা তাদের নেই। নিরাপত্তার স্বার্থে পরিবারের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে ঘটনাটি সামনে এনেছে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন—নিজের বা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্য অর্থ ফেরত পেতে নাগরিকদের কেন অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হবে? বিশেষ করে, যাদের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত, তাদের জন্য এই প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ঠিকানার সূত্র ধরে মিলল আমানতকারীর খোঁজ আয়নাল হকের সন্ধান পেতে শুধু তার নাম ও স্থায়ী ঠিকানাকে সূত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন স্থাপনার পরিবর্তন এবং পুরোনো দলিলে হোল্ডিং নম্বরের পরিবর্তন যুক্ত হওয়ায় ঠিকানাটি শনাক্ত করা সহজ ছিল না। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর তার খোঁজ পাওয়া যায়। তখন তিনি জানতে পারেন, তার ব্যাংক হিসাবের অর্থ ইতোমধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। এমন অভিজ্ঞতা শুধু আয়নাল হকের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। মিরপুরের আহমদনগরে সরফুন্নাহারের নামে থাকা একটি হিসাবে লাখ টাকার বেশি অর্থ জমা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ঝিনাইদহে ফিরে গেছেন। নারায়ণগঞ্জের জামতলায় আমান খান নামে এক আমানতকারীর তথ্য খুঁজতে গিয়ে তার বাবার নামের পদবি নিয়ে অসংগতি পাওয়া যায়। আবার শাহ সুজা রোডের আলমগীর হিরণ ঠিকানা পরিবর্তন করে অন্য এলাকায় চলে যাওয়ায় তার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন কঠিন হয়ে পড়ে। পরিচয় ও উত্তরাধিকার শনাক্তকরণে জটিলতা ব্যাংক হিসাবে গ্রাহকের তথ্য অসম্পূর্ণ থাকা, ঠিকানা পরিবর্তন, নামের বানানে অমিল এবং নমিনি বা উত্তরাধিকারীদের শনাক্ত করতে না পারার মতো কারণে অনেক আমানত দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে। কোনো কোনো হিসাবে বাবা-মায়ের নামের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও নেই। ফলে অর্থের প্রকৃত মালিক কিংবা তার বৈধ উত্তরাধিকারীদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ধরনের পরিস্থিতির পরিণতিতে ৫৬টি ব্যাংকের ১৭২ কোটি টাকা দাবিহীন আমানত হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অর্থ জমা হওয়া মানেই আমানতকারীর বা তার বৈধ উত্তরাধিকারীদের দাবি শেষ হয়ে যাওয়া নয়। বৈধ উত্তরাধিকারী হলে অর্থ পাওয়ার সুযোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, সংশ্লিষ্ট আমানতের বৈধ উত্তরাধিকারী হিসেবে কেউ নিজেকে আইনগতভাবে প্রমাণ করতে পারলে তিনি ওই অর্থ পাওয়ার অধিকারী হবেন। আদালত উত্তরাধিকারীদের মধ্যে অর্থ বণ্টনের বিষয়ে নির্দেশনা দিলে ব্যাংক সে অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করবে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জুয়েল আজাদের মতে, সরকারি কোষাগারে জমা হওয়া অর্থ ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ নয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো দায়িত্ব নিয়ে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিতে পারে। তিনি বলেন, মৃত আমানতকারীর পরিবারের ঠিকানা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যাংকের কাছে থাকার কথা। তাই দীর্ঘ সময় যোগাযোগ বা লেনদেন না থাকলে হিসাবটি কেন নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে, তা খতিয়ে দেখা ব্যাংকের দায়িত্ব হওয়া উচিত। ব্যাংকের উদ্যোগে কমতে পারে ভোগান্তি ব্যাংকগুলো থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্তত ১৫ জন দাবিহীন আমানতকারীর সন্ধান করেছে সময় সংবাদ। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, গ্রাহক ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে ব্যাংকগুলোর নিয়মিত যোগাযোগ থাকলে অনেক ক্ষেত্রে এসব আমানতের মালিকানা শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন লেনদেন না হওয়া হিসাবের মালিকদের খুঁজে বের করা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ রাখার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর সক্রিয় ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে উত্তরাধিকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে তাঁদের ভোগান্তি ও অতিরিক্ত ব্যয় কমানো সম্ভব। ব্যাংকে পড়ে থাকা অর্থের প্রকৃত মালিকদের কাছে তা পৌঁছে দিতে তাই শুধু নিয়মকানুন অনুসরণই নয়, আমানতকারীদের শনাক্তকরণ, তথ্য সংরক্ষণ এবং কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলাও জরুরি।
দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে ১৭২ কোটি টাকা, জানেন না মালিক
দেশের বাজারে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ
সবশেষ সমন্বয়ে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) সবশেষ সমন্বিত দামেই বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ। বাজুসের নির্ধারিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে স্বর্ণের নতুন এ দাম কার্যকর হয়। এর আগে গত ৯ অক্টোবর স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়েছিল বাজুস। তখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা। এদিকে, স্বর্ণের পাশাপাশি দেশের বাজারে কমেছে রুপার দামও। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ১৯৯ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৪৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬২৪ টাকা। বাজুসের নির্দেশনা অনুযায়ী, স্বর্ণ ও রুপার গহনা তৈরির মজুরি নকশাভেদে নির্ধারিত হবে। গহনা বিক্রির ক্ষেত্রে ঘোষিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে প্রযোজ্য ভ্যাট যুক্ত থাকবে। তবে ক্রেতার কাছ থেকে ভ্যাট আলাদাভাবে আদায় করা যাবে না। এ ছাড়া অলংকারের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে ১২ শতাংশ এবং পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। অলংকার ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না। পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে বাজুসের নির্ধারিত বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে।
দেশের বাজারে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ
আরও পড়ুন
কোনো সংশোধন নয়, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার করতে হবে: যশোরে মিয়া গোলাম পরওয়ার
X