
ঢাকা: নতুন জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের নিট পেনশন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বিদ্যমান নিট পেনশনের ওপর ভিত্তি করে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বাড়বে।
একই সঙ্গে পেনশনের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সীমাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। অবসর-উত্তর ছুটি ১২ মাস এবং ছুটি নগদায়নের সুবিধা ১৮ মাস রাখা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর পেনশনসংক্রান্ত বিধানে বলা হয়েছে, পেনশন ও গ্রাচুইটি বা আনুতোষিকের বিদ্যমান হার অপরিবর্তিত থাকবে। তবে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীরা যে নিট পেনশন পেতেন, তার ভিত্তিতে নতুন করে নিট পেনশন নির্ধারণ করা হবে।
পেনশন বাড়বে যেভাবে
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যাদের নিট পেনশন ৯ হাজার টাকা বা তার কম ছিল, তাঁদের পেনশন বাড়বে ১০০ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে নতুন নিট পেনশন সর্বনিম্ন ১০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশনপ্রাপ্তদের বৃদ্ধির হার ৭৫ শতাংশ। তাদের নতুন নিট পেনশন হবে সর্বনিম্ন ১৮ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার টাকা।
২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ৬৫ শতাংশ। এই শ্রেণিতে নতুন নিট পেনশন সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৪৯ হাজার টাকা।
৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেননপ্রাপ্তদের পেনশন বাড়বে ৬০ শতাংশ। তাদের নতুন নিট পেনশন হবে সর্বনিম্ন ৪৯ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৬২ হাজার টাকা।
আর ৪০ হাজার ১ টাকা ও তার বেশি নিট পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ৫৫ শতাংশ। এ শ্রেণিতে নতুন নিট পেনশন সর্বনিম্ন ৬২ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
যেসব অবসরভোগী ইতোমধ্যে ৭০ হাজার ২০০ টাকার বেশি নিট পেনশন উত্তোলন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। তারা ১ জুলাই ২০২৭ তারিখে পরবর্তী বার্ষিক বৃদ্ধি কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত বিদ্যমান নিট পেনশনই পাবেন।
নতুন বেতনস্কেল কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে নিট পেনশনপ্রাপ্ত অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্য প্রচলিত বিশেষ সুবিধা বিলুপ্ত হবে।
১ জুলাই থেকেই কার্যকর
নতুন বিধান অনুযায়ী, প্রথমে অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের নিট পেনশন নির্ধারণ করা হবে। এরপর ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে একটি বার্ষিক বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হবে। অর্থাৎ নতুন জাতীয় বেতনস্কেল কার্যকর হওয়ার তারিখ ১ জুলাই ২০২৬ থেকেই সংশ্লিষ্ট অবসরভোগীদের পেনশন পুনর্নির্ধারণের বিধান কার্যকর হয়েছে।
এ ছাড়া ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে কর্মরত কোনো কর্মচারী (স্বামী বা স্ত্রী) মৃত্যুবরণ করলে প্রচলিত পারিবারিক পেনশন বিধি অনুযায়ী তার পরিবার পেনশন, আনুতোষিক ও অন্যান্য প্রাপ্য ভাতা পাবে।
অবসর-উত্তর ছুটি ১২ মাস, নগদায়ন ১৮ মাস
নতুন কাঠামোয় অবসর-উত্তর ছুটি ও ছুটি নগদায়নের সুবিধাও বহাল রাখা হয়েছে। ছুটি পাওনা থাকা সাপেক্ষে কোনো কর্মচারী পূর্ণ গড় বেতনে ১২ মাসের অবসর-উত্তর ছুটি ভোগ করতে পারবেন। একই সঙ্গে অবসর গ্রহণের সময় ১৮ মাসের ছুটি নগদায়নের সুবিধাও পাবেন।
পেনশন, গ্রাচুইটি ও সাধারণ ভবিষ্য তহবিলের ক্ষেত্রে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এ সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান বিধান ও আদেশ অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড রুলস, ১৯৭৯-এর সর্বশেষ সংশোধনী, দ্য পেনশনস অ্যাক্ট, ১৮৭১, পেনশন রুলস অ্যান্ড রিটায়ারমেন্ট বেনিফিটস-এর সর্বশেষ সংশোধনী এবং সরকারি কর্মচারীদের পেনশন সহজীকরণ আদেশ, ২০২০সহ অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট আদেশ ও স্মারক রয়েছে।




