
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের পরিবেশগত সুরক্ষা, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা ও তহবিল বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)।
বুধবার উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে বিশ্বব্যাংকের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নবিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক মারা কে. ওয়ারউইকের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় করেন।
বৈঠকে বিজিএমইএর পরিচালক ড. মো. হাসিব উদ্দিনসহ সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্বব্যাংকের পানি ও স্যানিটেশন, পরিবেশ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, পানি ব্যবস্থাপনা এখন শুধু পরিবেশগত বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলো পোশাক উৎপাদনে পানির ব্যবহার কমানো, বর্জ্য পানি পরিশোধন ও পানি পুনর্ব্যবহারের তথ্যকে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচনা করছে।
বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ‘ঢাকা ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম’ (D-Water) এবং এর আওতায় ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ভায়াবিলিটি গ্যাপ ফান্ডিং (VGF) পাইলট প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রকল্পটির আওতায় বিজিএমইএর পক্ষ থেকে ৩১টি কারখানার প্রাথমিক তালিকা দেওয়া হলেও বিশ্বব্যাংক প্রথম পর্যায়ে ৮টি কারখানা নিয়ে কাজ শুরু করবে। তবে টেকসই প্রযুক্তির প্রতি পোশাক কারখানাগুলোর ব্যাপক আগ্রহ ও চাহিদার তুলনায় ৫ মিলিয়ন ডলারের তহবিল এবং নির্বাচিত কারখানার সংখ্যা অপ্রতুল বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। এ অবস্থায় প্রকল্পের তহবিল ও সামগ্রিক পরিধি আরও বড় করার জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রতি জোরালো আহ্বান জানায় বিজিএমইএ।
বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ বলেন, পোশাক শিল্পে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড় বাধা হলো উচ্চ বিনিয়োগ ব্যয়। একই সঙ্গে বৈশ্বিক মন্দার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের যথাযথ মূল্য না পাওয়াও শিল্পটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদাররা অনুদান অথবা দীর্ঘমেয়াদি ও শূন্য সুদের সহজ শর্তের অর্থায়ন দিলে পোশাক শিল্পের সবুজ রূপান্তর আরও দ্রুত সম্ভব হবে।
বৈঠকে শিল্পাঞ্চলের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও তুলে ধরা হয়। অনেক কারখানায় নিজস্ব বর্জ্য শোধনাগার স্থাপনের জায়গা থাকলেও আশপাশে উপযুক্ত জলাশয় বা ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। আবার ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাগুলোর এককভাবে বড় প্ল্যান্ট স্থাপনের আর্থিক সক্ষমতাও সীমিত।
এ সংকট মোকাবিলায় পাইপলাইনের পরিবর্তে লরি বা ট্যাংকারের মাধ্যমে শিল্পবর্জ্য অপসারণ এবং ক্লাস্টারভিত্তিক বর্জ্য শোধনাগার ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এ কার্যক্রম শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলেও দ্রুত সম্প্রসারণের আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় শিল্প খাতে টেকসই বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে পরিবেশগত নীতি বা সরকারি নিয়মকানুন হঠাৎ পরিবর্তন না করে তা বাস্তবায়নের আগে পর্যাপ্ত সময় ও পূর্বাভাস দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ বলেন, নিয়মের পূর্বানুমানযোগ্যতা বজায় থাকলে কারখানাগুলো দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগে আরও উৎসাহিত হবে।
বৈঠক শেষে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদল বিজিএমইএর প্রস্তাবগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সবুজ রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে লজিস্টিকস ও সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেয়।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর মহাসচিব ড. মো. সাহিদুল ইসলাম (অব.)।




