
বাংলাদেশ প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ দুটি বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বীকৃতি পেয়েছে গ্রামীণ ডানোন ফুডস লিমিটেড (জিডিএফএল)। পিএমআই বাংলাদেশ চ্যাপ্টার আয়োজিত এ পুরস্কারে প্রতিষ্ঠানটির ‘ট্রান্সফর্মিং লাইভস থ্রু নিউট্রিশন’ (টিএলটিএন) প্রকল্পটি ‘চ্যাম্পিয়ন প্রজেক্ট অব দ্য ইয়ার—সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট (স্মল)’ বিভাগে সেরা নির্বাচিত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পটির ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য পূর্বা চৌধুরী জয়া পেয়েছেন ‘চ্যাম্পিয়ন প্রজেক্ট ম্যানেজার অব দ্য ইয়ার—সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট’ স্বীকৃতি।
বাংলাদেশ প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডসের মাধ্যমে পরিকল্পনা, উদ্ভাবন, কার্যকর বাস্তবায়ন এবং ইতিবাচক সামাজিক প্রভাব তৈরিতে ভূমিকা রাখা প্রকল্প ও প্রকল্প ব্যবস্থাপকদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ‘প্রজেক্ট অব দ্য ইয়ার’ বিভাগে পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম উদ্যোগগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ‘প্রজেক্ট ম্যানেজার অব দ্য ইয়ার’ বিভাগে প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন ও প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জনে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের সম্মানিত করা হয়।
জিডিএফএল ও আইডিই বাংলাদেশের অংশীদারত্বে সিলেটে বাস্তবায়িত হয় টিএলটিএন প্রকল্পটি। পুষ্টিবিষয়ক সচেতনতা বাড়ানো, ফর্টিফায়েড বা পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ খাবারের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং কমিউনিটি পর্যায়ে এসব খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা জোরদার করাই ছিল এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
প্রকল্পের আওতায় স্কুল ক্যাম্পেইন ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে শিক্ষার্থী, মা এবং স্থানীয় কমিউনিটির সদস্যদের সম্পৃক্ত করা হয়। শিশুদের কাছে পুষ্টির বিষয়গুলো সহজভাবে তুলে ধরতে আয়োজন করা হয় শিক্ষণীয় ভিডিও প্রদর্শনী ও ইন্টার্যাকটিভ সেশন। পাশাপাশি নিউট্রিশন এন্ট্রেপ্রেনিউরদের পুষ্টি, পণ্য সম্পর্কে জ্ঞান, স্বাস্থ্যবিধি, যোগাযোগ, সমন্বয় ও বিক্রয় বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বাড়াতে ভিডিও প্রদর্শন, গল্প বলা, কুইজ এবং সামাজিক আলোচনার মতো কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে পুষ্টিবিষয়ক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পুষ্টিসচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করা হয়েছে।
জিডিএফএলের তথ্য অনুযায়ী, টিএলটিএন প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি ১ হাজার ৭৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী এবং ১ হাজার ২৫০ জন মায়ের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া পরোক্ষভাবে ৫ হাজারের বেশি কমিউনিটি সদস্যের কাছে পৌঁছেছে প্রকল্পের কার্যক্রম। উদ্যোগটির আওতায় ৬৪ জন নিউট্রিশন এন্ট্রেপ্রেনিউরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আয়োজন করা হয়েছে ৫৮টি উঠান বৈঠক ও সাতটি স্কুল ক্যাম্পেইন।
‘চ্যাম্পিয়ন প্রজেক্ট ম্যানেজার অব দ্য ইয়ার’ স্বীকৃতি পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় পূর্বা চৌধুরী জয়া বলেন, “পিএমআই বাংলাদেশ চ্যাপ্টার থেকে এই স্বীকৃতি পেয়ে আমি সম্মানিত বোধ করছি। একজন প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে টিএলটিএন আমার জন্য শেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা ছিল। এই পুরস্কার আমার টিম, পার্টনার এবং যেসব কমিউনিটির সঙ্গে আমরা কাজ করেছি, তাদের সহযোগিতার স্বীকৃতি। আমাদের কাজকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য পিএমআইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।”
গ্রামীণ ডানোন ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুরাইয়া সিদ্দিকা বলেন, “একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্য, শক্তিশালী পার্টনারশিপ ও সঠিক প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে কীভাবে অর্থবহ পরিবর্তন আনা সম্ভব, টিএলটিএনের এই স্বীকৃতি তারই উদাহরণ। প্রজেক্টের লক্ষ্যকে বাস্তবে রূপ দিতে এবং কমিউনিটিতে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে আমাদের টিম এবং পার্টনার যে কাজ করেছে, তা নিয়ে আমরা গর্বিত।”
এ দুটি স্বীকৃতিকে প্রকল্প বাস্তবায়নের সাফল্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দল, অংশীদার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে দেখছে গ্রামীণ ডানোন ফুডস। পুষ্টিবিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি, স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষতা উন্নয়ন এবং কমিউনিটির অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে টিএলটিএন প্রকল্পের অভিজ্ঞতা প্রতিষ্ঠানটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




