
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ১৭৭ নম্বর বিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আবারও চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, গত কয়েক বছরে এ বিদ্যালয়ে অন্তত ১২ বার চুরি হয়েছে। একই প্রতিষ্ঠানে বারবার চুরির ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে কোনো একসময় বিদ্যালয়ে সর্বশেষ চুরির ঘটনা ঘটে।
সোমবার সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লুতফর রহমান গাজী দেখতে পান, বিদ্যালয়ের সব কক্ষের তালা ভাঙা এবং দরজা খোলা। পরে কক্ষগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, কোনো কক্ষেই বৈদ্যুতিক ফ্যান নেই। দুর্বৃত্তরা বিদ্যালয়ের আলমারিও ভেঙে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বারবার চুরির কারণে শিক্ষা কার্যক্রমের প্রয়োজনীয় সামগ্রী নষ্ট ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
চুরির খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মুকসুদপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাফিছুর রহমান, মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আল-মামুনসহ পুলিশের সদস্যরা। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে মুকসুদপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এম.এ. নাইম বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, “এ নিয়ে অন্তত ১২ বার চুরি হলো। প্রশাসন চাইলে চুরির সঙ্গে জড়িতদের বের করা সম্ভব। তবে প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা না নিলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যারকে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার নির্দেশ দিয়েছেন। পরে আমরা মুকসুদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছি।”
একই বিদ্যালয়ে বারবার চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটলেও বিদ্যালয়টিতে স্থায়ী ও কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে দুর্বৃত্তরা বারবার বিদ্যালয়টিকে টার্গেট করার সুযোগ পাচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একের পর এক চুরির ঘটনা শুধু সম্পদের ক্ষতিই নয়, বরং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করছে। বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদার, রাতে নজরদারি বাড়ানো এবং চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।




