
জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাস ও এর আশপাশে নিষিদ্ধ ঘোষিত জবি ছাত্রলীগের একের পর এক কর্মসূচি পালনের অভিযোগ উঠেছে। মিছিল, মানববন্ধন, ব্যানার ও পোস্টারিংয়ের মাধ্যমে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের তৎপরতা দেখা গেলেও এসব ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
সর্বশেষ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে ‘শিক্ষার অধিকার ফিরে চাই’ ব্যানারে মিছিল করেন নিষিদ্ধ ঘোষিত জবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এর আগে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার স্মরণে ব্যানার টানানো, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে ব্যানার টানানো, ঈদের ছুটিতে ক্যাম্পাসে পোস্টারিং এবং ক্লাস চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় গেটের সামনে ছয় দফা দাবিতে প্রকাশ্যে মানববন্ধন করার অভিযোগ রয়েছে সংগঠনটির বিরুদ্ধে।
জানা যায়, এসব কর্মসূচির কয়েকটিতে নেতৃত্ব দেন নিষিদ্ধ ঘোষিত জবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান।
এসব কর্মসূচিতে শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয় এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়েছে।
‘শিক্ষার অধিকার ফিরে চাই’ ব্যানারে মিছিল
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে ‘শিক্ষার অধিকার ফিরে চাই’ ব্যানারে মিছিল করেন নিষিদ্ধ ঘোষিত জবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
ক্যাম্পাসে সব মতের শিক্ষার্থীর সহাবস্থান নিশ্চিত এবং সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া বজায় রাখার দাবিতে এ মিছিল করা হয়। এ সময় ‘রাজনীতি যার যার, শিক্ষা সবার’, ‘শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেওয়া চলবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।
২১ আগস্টের স্মরণে ব্যানার
এর আগে জবি ক্যাম্পাসের চতুর্থ ফটকে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার স্মরণে ব্যানার টানানোর অভিযোগ ওঠে নিষিদ্ধ ঘোষিত জবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
ব্যানারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ব্যবহার করা হয়। এতে বড় অক্ষরে ‘ভয়াল ২১ শে আগস্ট’ লেখা ছিল।
১৫ আগস্ট উপলক্ষে ব্যানার
শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গত ১৪ আগস্ট সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় গেটের পাশে ফুটওভারব্রিজ সংলগ্ন বিশ্বজিৎ চত্বর এলাকায় ব্যানার টানানোর অভিযোগ ওঠে নিষিদ্ধ ঘোষিত জবি ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।
ব্যানারে শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ ১৫ আগস্ট নিহত পরিবারের সদস্যদের স্মরণ করা হয়।
৬ দফা উপলক্ষে মানববন্ধন
গত ৯ জুন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় গেটে প্রকাশ্যে ছয় দফা দাবি তুলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
কর্মসূচি থেকে ছাত্রলীগের শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারাদেশ ও তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, কোটা আন্দোলনের নামে দলীয় নিয়োগ বন্ধ, ছাত্রলীগের রাজবন্দিদের শোন অ্যারেস্ট বন্ধ করে নিঃশর্ত মুক্তি এবং নারী ও শিশু হত্যা, ধর্ষণ, মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন ও অনলাইনে নারী হেনস্তার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
ঈদের ছুটিতে ক্যাম্পাসে পোস্টারিং
এর আগে গত ২৯ মে দুপুরে ঈদের ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেট ও বিবিএ ভবনে নিষিদ্ধ ঘোষিত জবি ছাত্রলীগের পোস্টার দেখা যায়।
পোস্টারগুলোতে ‘শিক্ষার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে’, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে’ এবং ‘রাজবন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে’—এমন বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল।
প্রশাসনের বক্তব্য
নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একের পর এক কর্মসূচির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. আজম খান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে আমাদের প্রক্টরিয়াল টিমের কাজ করার ক্ষমতা নেই। যদি ক্লাস চলমান অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে আসে, তখন সেটা আমাদের দেখার সুযোগ আছে। তবে উপাচার্যের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিক পাশেই এমন মিছিলের ঘটনায় স্থানীয় কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম রবিউল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি এবং আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।’
নিষিদ্ধ জবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সার্চিংয়ে আছি। তাদের খোঁজ আমরা পেলে অবশ্যই গ্রেপ্তার করব এবং আইনের আওতায় আনব।’




