
ক্যাম্পাসভিত্তিক সুবিধার গণ্ডি পেরিয়ে ‘ওয়ান কার্ড’ ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন জনবান্ধব সেবার একক সমাধান হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রশাসন বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) অডিটোরিয়ামে বিশ্ববিদ্যালয় ও ডিজি ইনফোটেক লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইউএপি ওয়ান কার্ড উদ্বোধন ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, ‘ওয়ান কার্ড’ শুধু একটি ক্যাম্পাসভিত্তিক সুবিধা হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভবিষ্যতে এটি প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সহজীকরণের একটি অনুসরণযোগ্য একক সমাধান হতে পারে। এর মাধ্যমে নাগরিক সেবা কীভাবে আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করা যায়, তার বাস্তব দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার জাতীয় পর্যায়ে সব ধরনের সেবা একটি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে। এর লক্ষ্য ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’ ব্যবস্থা চালু করা। একেকটি কাজের জন্য আলাদা পরিচয়পত্রের পরিবর্তে একটি ইউনিক আইডির মাধ্যমে নাগরিকদের বিভিন্ন সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, বড় কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে এর কার্যকারিতা যাচাই করা জরুরি। এতে প্রকল্পের বাস্তব প্রয়োগ, প্রতিবন্ধকতা, সমস্যা ও ঘাটতি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জন করা সম্ভব হয়। ইউএপির ‘ওয়ান কার্ড’ উদ্যোগের অভিজ্ঞতা জাতীয় পর্যায়ে ইউনিক আইডি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ইউএপি একটি বিভাগে এ কার্যক্রম শুরু করে ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। এর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগেও এ ধরনের সেবা চালু করা যেতে পারে।
দেশের উচ্চশিক্ষার বিস্তারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০০-এর বেশি। শিক্ষার সম্প্রসারণে এসব প্রতিষ্ঠানের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। সরকার ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষা বিস্তারে সহযোগী হিসেবে কাজ করছে।
উপদেষ্টা জানান, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উৎসাহিত করার বিষয়ে অঙ্গীকার রয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি সহযোগিতামূলক মনোভাব আরও জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে গত বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়করের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউএপি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে. এম. মোজিবুল হক বলেন, ‘ওয়ান কার্ড’ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি ইউএপির ডিজিটাল সেবা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি আধুনিক, দক্ষ ও সংযুক্ত ক্যাম্পাস পরিবেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএপির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, ‘ওয়ান কার্ড’ একটি আধুনিক ও সমন্বিত সেবা ব্যবস্থাপনা। এতে ডিজিটাল পরিচয়, পেমেন্ট ও ক্রেডেনশিয়াল ব্যবস্থাপনাকে একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে ক্যাম্পাসের দৈনন্দিন কার্যক্রম আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর হবে।
অনুষ্ঠানে ‘ওয়ান কার্ড’-এর বিভিন্ন সেবা ও কার্যক্রম নিয়ে ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। ডিজি ইনফোটেক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদ মাহমুদ ‘OneID’, ‘DGePay’, ‘OneCard Vault’ এবং সমন্বিত পেমেন্ট ব্যবস্থাসহ প্রযুক্তিগত বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ইউএপির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




