
শিবিরের হয়ে ছাত্রদলে প্রবেশের চেষ্টা করার সন্দেহে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে হল ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
গত সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আসিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
আসিফের অভিযোগ, হলে সিট দেওয়ার কথা বলে হল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার মোবাইল ফোন নিয়ে শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য খোঁজেন। পরে তাকে ‘শিবিরের স্পাই’ আখ্যা দিয়ে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ, হেনস্তা ও মারধর করা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হল ছাত্রদলের নেতারা বলছেন, আসিফ প্রায় তিন মাস ধরে অবৈধভাবে হলে অবস্থান করছিলেন। হল প্রাধ্যক্ষ তাকে হল ছাড়ার কথা জানালে তিনি আর্থিক অস্বচ্ছলতার কথা উল্লেখ করে হল ছাত্রদলের সভাপতির সঙ্গে দেখা করতে চান। এ সময় তাকে কোনো ধরনের হেনস্তা বা মারধর করা হয়নি বলে দাবি তাদের।
হল ছাত্রদল দাবি করে, ওই শিক্ষার্থী এর আগে শাখা শিবিরের নিয়ন্ত্রণাধীন ‘ওয়েলফেয়ার ভবনে’ প্রায় সাত মাস অবস্থান করেছিলেন।
তিনি শিবিরের সভাপতির সঙ্গে ‘গোপনে যোগাযোগ’ করে নিজে থেকেই ছাত্রদলে যুক্ত হওয়ার আগ্রহের কথা জানান। একই সঙ্গে ‘গোপনে ছাত্রদলের বিভিন্ন তথ্য শিবিরকে দেওয়া’র কথাও হোয়াটস অ্যাপ বার্তায় শিবিরের সভাপতিকে জানান।
এদিকে আক্রান্ত মোহাম্মদ আসিফের দাবি, “পরিবারের পরিস্থিতির কারণে হলে একটি সিটের জন্য কয়েকবার প্রভোস্ট স্যারের কাছে অনুরোধ করেছি। পরে গণরুমে ফাঁকা সিটের বিষয়ে জানতে গেলে আমাকে ছাত্রদলের হল সভাপতি ফুয়াদ ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়।
“তার সঙ্গে কথা বললে তিনি ছাত্রদল করতে হবে এবং ছাত্রদল করলেই সিট দেওয়া হবে বলে জানান। পরিবারের পরিস্থিতির কারণে আমিও সিটের আশায় ছাত্রদলের সঙ্গে প্রোগ্রাম করার বিষয়ে রাজি হই।”
তার ভাষ্য, “পরে রাতে তার (ফুয়াদ) কক্ষে গেলে একটি গ্রুপে যুক্ত করে দেওয়ার কথা বলে তিনি আমার মোবাইল ফোনটি হাতে নেন।
এরপর তার ফোনের বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে আমাকে ‘শিবিরের স্পাই’ হিসেবে হলে আসার অভিযোগ তোলেন।
“আমি বিষয়টি অস্বীকার করে সিটের ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ করি। একপর্যায়ে তিনি আমাকে ধমক দেন এবং পরে ছাত্রদলের আরও কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে আসেন। তারা আমাকে টেনে গণরুমে নিয়ে যান এবং সেখানে আমাকে মারধর করা হয়।”
যা বলছেন ছাত্রদল নেতারা
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শামসুজ্জোহা হল ছাত্রদল সভাপতি মেহেদী হাসান ফুয়াদ বলেন, “পাশাপাশি এলাকার হওয়ায় আসিফ আমাকে জানায় যে, সে প্রায় তিন মাস ধরে অবৈধভাবে হলে অবস্থান করছে। সে যেই সিটে অবস্থান করছিল সেই সিটটি নতুন করে অন্য একজনকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। থাকার জায়গা না থাকায় কী করবে জানতে চাইলে আমি তাকে প্রভোস্ট স্যারের সঙ্গে কথা বলতে বলি।"
“এ সময় সে আমাকে বলে তার পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড বিএনপির এবং তাকে ছাত্রদলে নেওয়া হলে সে ছাত্রদল করবে। এরপর তাকে আমাদের হল ছাত্রদলের গ্রুপে যুক্ত করার জন্য তার ফোন হাতে নিই। তখন তার ফোনে হল শিবিরের সভাপতি রাফসানের সঙ্গে কথোপকথন দেখতে পাই। ওই কথোপকথনে দেখা যায়, তাদের দীর্ঘদিনের পরিচয় রয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগ হয়েছে।”




