
স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন 'বাঁধন' জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জোনের উদ্যোগে ‘ডেঙ্গু সচেতনতা ও মাঠপর্যায়ে মশানিধন’ শীর্ষক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্নাতুল ফেরদৌস সিনেট হলে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে বাঁধন জাবি জোনের কর্মী ও ১৩০ জন স্বেচ্ছাসেবককে ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত ও ধ্বংসের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার এবং তাঁর দলের তত্ত্বাবধানে ক্যাম্পাসের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ১৭০টি এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়।
কর্মসূচির প্রধান আলোচক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, ‘ডেঙ্গু মশার লার্ভা ধ্বংস করা ছাড়া প্রকৃত অর্থে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়। ফগিং বা অন্যান্য পদ্ধতিতে সাময়িকভাবে মশার প্রকোপ কমানো গেলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য লার্ভা ধ্বংস করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার একটি স্বপ্ন হলো, এমন দিন দেখে যাওয়া, যেদিন বাংলাদেশের একজন মানুষও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যাবে না। আজকের এই ডেঙ্গু মশার লার্ভা ধ্বংস অভিযান সামাজিক আন্দোলনে রূপ লাভ করুক। নিজেদের, পরিবারের এবং আশপাশের মানুষের সচেতনতার মাধ্যমে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব।’
বাঁধন জাবি জোনের সাধারণ সম্পাদক মো. বায়েজিদ বলেন, ‘১৩০ জন স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দিয়ে ১০টি দলে ভাগ করা হয়। পরে ক্যাম্পাসের ১০টি জোনে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৭০টি মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হল ইউনিটকে এ বিষয়ে আরও সচেতন ও সক্রিয় করে তোলার মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করে যেতে চাই।’
বাঁধন জাবি জোনের সভাপতি নাইম আলী বলেন, ‘ডেঙ্গুর প্রকোপ ও প্লাটিলেটের চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ১৩০ জন কর্মীকে মাঠপর্যায়ে লার্ভা শনাক্তকরণ ও ধ্বংসের বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আমরা আশা করছি, এতে শিক্ষার্থীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে আরও সচেতন হবে এবং প্রত্যেকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবে।’
বাঁধন জাবি জোনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনসেক্ট রিয়ারিং অ্যান্ড এক্সপেরিমেন্টাল স্টেশন (আইআরইএস), বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)।




