
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের যোগদানের প্রশাসনিক আদেশ অনুমোদন করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে এসব শিক্ষকের যোগদান সম্পন্ন করার প্রক্রিয়ায় আর কোনো বাধা থাকছে না। যোগদানের পর তাদের পদায়ন নিয়েও শঙ্কা নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের যোগদানপত্র নিজ নিজ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানোর বিষয়ে প্রশাসনিক আদেশ পাওয়া গেছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা অধিদপ্তরে পৌঁছালে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হবে।
অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে নতুন শিক্ষকদের যোগদান কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। ১ অক্টোবরের মধ্যে সব সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষক যোগদানপত্র হাতে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর তাদের পদায়ন করা হবে।
প্রশিক্ষণ শেষে ক্লাস নেওয়ার সুযোগ
যোগদানের পর নতুন সহকারী শিক্ষকদের পদায়ন করা হলেও সঙ্গে সঙ্গে তাদের শ্রেণিকক্ষে পাঠানো হবে না। প্রথমে তাদের প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হবে। প্রশিক্ষণ শেষ করার পরই তারা বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু করতে পারবেন।
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ জানান, প্রশিক্ষণ চাকরির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পদায়নের সঙ্গে সঙ্গে নতুন শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ শুরু হওয়া প্রয়োজন। তাদের দুই মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর তারা বিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
প্রশিক্ষণে ফেল করলে নিয়োগ বাতিল হবে না
নতুন শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ হওয়া নিয়োগ বহাল রাখার শর্ত হবে কি না, তা নিয়েও আগে আলোচনা হয়েছিল। তবে বর্তমানে প্রশিক্ষণের মূল্যায়নের কারণে কাউকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ফরিদ আহমদ বলেন, প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ হতে না পারলে কারও নিয়োগ বাতিল হবে—এমন সিদ্ধান্ত রয়েছে বলে তিনি মনে করেন না। তবে প্রশিক্ষণ মডিউলে এ ধরনের কোনো শর্ত রাখা হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় জানাতে পারবে।
১৪ হাজার ৩৮৪ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া
গত ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়।
পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয় এবং জেলাভিত্তিক তালিকাও প্রকাশ করা হয়।
লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ নিয়োগের সব ধাপ শেষ করলেও এতদিন এসব শিক্ষক যোগদান করতে পারেননি। এ নিয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ ও আন্দোলন দেখা দেয়। পরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে তাদের যোগদান ও পদায়নের ঘোষণা দেয়।
এবার যোগদানের প্রশাসনিক আদেশ অনুমোদন হওয়ায় দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের পথ আরও স্পষ্ট হলো।




