
খুলনার বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আজমুল হোসেন হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত চার আসামির নামের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে মেসের ম্যানেজার ও গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়া মেহেদী হাসানের নাম এজাহারে নেই।
নিহতের বাবা কুতুব উদ্দিন বাদী হয়ে শনিবার রাতে নগরীর হরিণটানা থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। তবে রোববার পর্যন্ত এ মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
এজাহারে উল্লেখ করা আসামিরা হলেন- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি (এফএমআরটি) ডিসিপ্লিনের ১৭তম ব্যাচের রবিন (২৪), একই ডিসিপ্লিনের ১৯তম ব্যাচের মবিন (২২), ম্যাথমেটিক্স ডিসিপ্লিনের ১৯তম ব্যাচের সাগর (২২) এবং এগ্রো টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ২৬তম ব্যাচের ওবায়দুল (২০)।
মামলার বাদী কুতুব উদ্দিনের দাবি, ভুলবশত মেহেদী হাসানের নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এখন তিনি ওই নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করতে চান।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা হলসংলগ্ন একটি মেসে মিল না দিয়ে খাবার খাওয়াকে কেন্দ্র করে আজমুল হোসেনকে খাবার চুরির অপবাদ দেওয়া হয়। পরে মেসের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন তাকে বেধড়ক মারধর ও নির্যাতন করেন। একপর্যায়ে তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় এবং মেসের ছাদেও নিয়ে নির্যাতন চালানো হয়।
পরে আজমুল চারতলার ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহতের বাবা কুতুব উদ্দিন বলেন, আজমুল শুক্রবার বাড়ি থেকে খুলনায় যান। রাত ৯টার দিকে ফোন করে তিনি ভালো আছেন বলে জানান। পরে রাতে এক ব্যক্তি আজমুলের ফোন নম্বর থেকে কল করে এক লাখ টাকা নিয়ে আসতে বলেন। আজমুল ঝামেলা করেছে জানিয়ে দ্রুত টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ দেওয়া হয়।
কুতুব উদ্দিন বলেন, ‘গরিব মানুষ, কোথায় টাকা পাব’ বললেও দ্রুত আসতে বলা হয়। যে ছেলে রাতে আমাকে চিন্তা করতে বারণ করল, সেই ছেলেকেই অন্য ছাত্ররা পিটিয়ে মারল।
রোববার রাতে তিনি বলেন, ‘আমরা মামলাই করতে চাইনি। ভুলে মেহেদীর নাম বাদ পড়েছে। এখন ওই নাম যুক্ত করতে চাই।’
তবে মামলার এজাহারে থাকা আসামিদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন।
ওসি বলেন, শনিবার রাতে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় নিহত আজমুল হোসেনের বাবা কুতুব উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আসামিদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার নাম মামলায় যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মামলাটি তদন্ত করছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে রোববার বিকেল পর্যন্ত এ ঘটনায় কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।




