
জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি একলাফে ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ।
বিবৃতিতে শিবিরের নেতারা বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সাত মাসে জ্বালানি তেলের তৃতীয় দফা মূল্যবৃদ্ধি করা হলো। গত ১৮ এপ্রিল প্রথম দফায় প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৫ টাকা এবং জুনে দ্বিতীয় দফায় পেট্রোল ও অকটেনের দাম ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়। এর পর গতকাল কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই একলাফে আরও ২০ টাকা করে দাম বাড়ানো হয়েছে।
তাঁরা বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ যখন নিত্যদিনের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্ত জনদুর্ভোগ আরও বাড়াবে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য আরও নষ্ট হবে।
বিবৃতিতে নেতারা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার দোহাই দিয়ে বারবার তেলের দাম বাড়িয়ে সরকারি সংস্থার আর্থিক চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই জনকল্যাণমূলক নীতি হতে পারে না। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিপিসির অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা এবং জ্বালানি খাতের সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য রোধে সরকার কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
তাঁদের অভিযোগ, নিজেদের নীতিগত ও ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতার দায় জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো সরকারের দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ। জনগণের দুর্ভোগ বিবেচনায় না নিয়ে বারবার মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারের ব্যর্থতার খেসারত জনগণকে দিতে হচ্ছে।
শিবিরের নেতারা অবিলম্বে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করে তা সহনীয় পর্যায়ে সমন্বয়ের দাবি জানান।
তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। সরকার যদি জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত এই বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার না করে, তাহলে দেশের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনগণ রাজপথে নেমে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।’




