
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছাত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেত্রী আঞ্জুমান ইকরাকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষর করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেত্রী আঞ্জুমান ইকরাকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার হক মজুমদার শিমুল বলেন, “ইকরা জাকসুতে ছাত্রদল প্যানেল থেকে এজিএস পদে নির্বাচন করা মেয়ে। জাবি ছাত্রদলের এই মুহূর্তের সবচেয়ে সক্রিয় মেয়েদের একজন। জাবিতে নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রদলের যে রিক্রুটমেন্ট, তার একটা বড় অংশই হয় ইকরার হাত ধরে।”Geographic Reference
তিনি আরও বলেন, “এমনিতেই মেয়েরা রাজনীতিতে কম আসে। এর মধ্যেই বিতর্কিত একজনের মন রাখতে এমন একটা মেয়েকে বহিষ্কার করে দিলেন? শোকজও তো দিতে পারতেন। একটা সুযোগ দিতে পারতেন মেয়েটাকে। এই আপনারা আমাদের অভিভাবক? ছাত্রদলের একটা মেয়েকে রক্ষা করার গাটসটুকুও নাই আপনাদের?”
আঞ্জুমান ইকরার বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “আঞ্জুমান ইকরাকে আমি যতটুকু দেখেছি ও জেনেছি, তাকে একজন স্পষ্টভাষী, স্বাধীনচেতা ও সত্য কথা বলতে সাহসী মানুষ হিসেবেই জানি। সাম্প্রতিক ঘটনাটি দেখে তাই স্বাভাবিকভাবেই মনটা খারাপ হয়েছে। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য শোনা, বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা জরুরি। ভবিষ্যতে যেন কোনো ভুল বোঝাবুঝি, অসম্পূর্ণ তথ্য বা তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তের কারণে একজন শিক্ষার্থীর বিষয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেটিই প্রত্যাশা করি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাবি ছাত্রদলের এক নেতা বলেন, “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের রাজনীতির বলি আঞ্জুমান ইকরা। সম্প্রতি অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান ছাত্রদলের সদস্য সচিবকে হুমকি দিয়েছেন—এমন একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই ঘটনাকে ব্যঙ্গ করে আঞ্জুমান ইকরা ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। আমার মনে হয়, সেই পোস্টকে কেন্দ্র করেই তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অথচ বিষয়টি নিয়ে তাকে শোকজ করে ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেত। সরাসরি বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত অন্যায্য হয়েছে।”
এ বিষয়ে ছাত্রদলের সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এদিকে বহিষ্কারের খবর প্রকাশের পর নিজের ফেসবুক পোস্টে আঞ্জুমান ইকরা লেখেন, “আমার হাত বান্ধিবি, পা বান্ধিবি মন বান্ধিবি কেমনে? আমার চোখ বান্ধিবি, মুখ বান্ধিবি পরান বান্ধিবি কেমনে?”
তবে আঞ্জুমান ইকরার বিরুদ্ধে কী ধরনের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে বা কোন কারণে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
প্রসঙ্গত, আঞ্জুমান ইকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সর্বশেষ জাকসু নির্বাচনে তিনি ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল থেকে নারী এজিএস পদে প্রার্থী ছিলেন।




